ভ্রমণ নিয়ে প্রিয় সিনেমা? ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’র পক্ষে কাজলের ভোট
হিন্দি রোমান্টিক সিনেমা কম হয়নি। তবে সব সিনেমার মধ্যে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’র (‘ডিডিএলজে’) জায়গা যে আলাদা, সেটা হিন্দি সিনেমার দর্শক হিসেবে আপনার জেনে যাওয়ার কথা। মুক্তির পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেছে, তবু রাজ–সিমরানের রসায়নে বুঁদ অনেক দর্শক। গত বছর সিনেমাটির মুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হয়।
সম্প্রতি অস্কারের আয়োজক একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণ নিয়ে রোমান্টিক সিনেমার তালিকা প্রকাশ করে। দর্শকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়—এগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার প্রিয়? এই তালিকায় জায়গা করে নেয় ‘ডিডিএলজে’। বিশ্বসিনেমার নানা জনপ্রিয় ছবির সঙ্গে এই ভারতীয় সিনেমার নাম উঠে আসতেই আবারও আলোচনায় আসে রাজ-সিমরানের প্রেম।
এই পোস্ট নজর এড়ায়নি কাজলের। তিনি সেটি শেয়ার করে সংক্ষিপ্তভাবে লেখেন, ‘আই ভোট ফর ডিডিএলজে।’
সিমরান (কাজল) তার ঐতিহ্যবাহী পরিবার নিয়ে লন্ডনের উপকণ্ঠে নিরুত্তাপ জীবন কাটাচ্ছে। তার স্বপ্ন নিজের মতো করে জীবন কাটানো। সিমরানের বাবা বলদেব (অমরেশ পুরী) কঠোর স্বভাবের মানুষ; পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরে যেতে চান না।
ছোটবেলা থেকেই সিমরানকে বলা হয়েছে বাবার বন্ধু অজিতের ছেলে কুলজিতের (পারমিত শেঠি) সঙ্গে তার বিয়ে হবে। সিমরান বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপ সফরে যেতে চায়, তাকে অবাক করে বাবা অনুমতিও দেন। লন্ডন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে সিমরানের সঙ্গে দেখা হয় রাজের (শাহরুখ খান)। শুরুতে ঝামেলা, পরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়ায় সম্পর্ক। এরপরই শুরু হয় ঝামেলা। শেষ পর্যন্ত রাজ–সিমরানের কী হয়, সেটা জানতে দেখতে হবে সিনেমাটি।
সেই কবে শুটিং করেছেন, তবে সিনেমাটির স্মৃতি কাজলের কাছে এখনো টাটকা। তিনি বলেন, ‘ওটা সত্যিই অসাধারণ সময় ছিল। আমার বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করছিলাম, খুব মজা লেগেছিল। চিত্রনাট্যটা ছিল দারুণ, আমরা হাসতে হাসতেই শুট করতাম। সুইজারল্যান্ডের বাসে ঘুরে ঘুরে খাওয়া, আড্ডা, কাজ—সবকিছু মিলিয়ে মনে হতো যেন এক লম্বা ছুটির সফরে আছি।’
কাজল জানান, শুটিংয়ের পাগলাটে ঘটনাগুলো আজও ভুলতে পারেন না। ‘এমনও হয়েছে যে গরুর খোঁয়াড়ে শাড়ি পরে শুট করেছি। একবার পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে পড়েছিলাম ভুল করে! ভাবতে পারেন—কে আবার ভুল করে গড়িয়ে পড়ে! কিন্তু আমি পড়েছিলাম,’ হাসতে হাসতে বলেন কাজল।
কাজল আরও যোগ করেন, ‘তখন সময় কম ছিল, সূর্য ডোবার আগে একটা দৃশ্য শেষ করতে হতো। কখনো ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাপড় পাল্টে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হতো। সেই তাড়াহুড়া, সেই পাগলামি—সবই আজ মনে পড়লে ভালো লাগে।’