ওয়াহিদা রেহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই গুরু দত্ত–গীতার সংসারে অস্থিরতার কারণ
৩৯ বছরের জীবনে ৮টি মাত্র ছবি, তবু হিন্দি সিনেমার সর্বকালের সেরা নির্মাতার তালিকা করতে গেলে তাঁর নাম শুরুর দিকেই রাখতে হবে। আজ নির্মাতা, অভিনেতা ও প্রযোজক গুরু দত্তর জন্মদিন। তাঁর সিনেমা নিয়ে অনেক কথা হয়, তবে সিনেমা ছাড়াও গুরু দত্তর ব্যক্তিগত জীবনে ছিল নানা বাঁক। বিয়ে, সম্পর্কের টানাপোড়েন মিলিয়ে সেটাও সিনেমার গল্পের মতোই। জন্মদিনে ফিরে দেখা যায় গুরু দত্তর ব্যক্তিজীবনের নানা টানাপোড়েন।
পর্দার আড়ালের মানুষটি ছিলেন অনেক বেশি জটিল। ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য, সৃজনশীল অস্থিরতা ও নিঃসঙ্গতা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে স্ত্রী, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী গীতা দত্তর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং অভিনেত্রী ওয়াহিদা রেহমানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন আজও আলোচনার বিষয়।
যখন গায়িকা ছিলেন তারকা, পরিচালক ছিলেন সংগ্রামী
পঞ্চাশের দশকের শুরু। তখনই গীতা দত্ত (জন্মনাম গীতা রায়) হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। তাঁর কণ্ঠে একের পর এক গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করছে। অন্যদিকে গুরু দত্ত তখনো নিজের অবস্থান তৈরি করার লড়াইয়ে ব্যস্ত।
একটি চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের পরিচয়। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া আলাপ ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসায়। দুই ভিন্ন জগতের দুই মানুষ—একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী, অন্যজন স্বপ্নবাজ তরুণ পরিচালক। সামাজিক ও পারিবারিক নানা বাধা থাকলেও তাঁদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে।
তবে সে সময় তাঁদের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। গীতা ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তাঁর জনপ্রিয়তা ও আয় ছিল ঈর্ষণীয়। গুরু দত্ত তখনো নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রামে। এ বৈপরীত্যই পরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দেয়।
তিন বছরের অপেক্ষার পর বিয়ে
দুই পরিবারের সম্মতি পাওয়া সহজ ছিল না। বিশেষ করে গীতার পরিবার চায়নি এত দ্রুত তাঁর বিয়ে হোক। কারণ, পরিবারের আর্থিক দায়িত্বের বড় অংশই ছিল তাঁর কাঁধে।
অবশেষে কয়েক বছরের অপেক্ষার পর তাঁদের বিয়ে হয়। শুরুতে তাঁদের সংসার ছিল স্বপ্নের মতো। দুই সন্তান জন্ম নেয়। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে–ভেতরে জমতে শুরু করে দূরত্ব। এর অন্যতম কারণ ছিল বদলে যাওয়া সময়।
খ্যাতির পালাবদল
বিয়ের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গুরু দত্তর ক্যারিয়ার অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখে। একের পর এক চলচ্চিত্র তাঁকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতায় পরিণত করে।
অন্যদিকে গীতার ক্যারিয়ার ধীরে ধীরে আগের উজ্জ্বলতা হারাতে থাকে। নতুন কণ্ঠশিল্পীদের আগমন, পরিবর্তিত সংগীতধারা এবং ব্যক্তিগত জীবনের চাপ—সব মিলিয়ে তাঁর কাজ কমতে থাকে।
যে সম্পর্কে একসময় গীতা ছিলেন বেশি প্রতিষ্ঠিত, সেখানে ধীরে ধীরে অবস্থান বদলে যায়। এ পরিবর্তন শুধু পেশাগত ছিল না, তা তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল বলে বহু জীবনীকার উল্লেখ করেছেন।
শিল্পীর একাকিত্ব
গুরু দত্তকে কাছ থেকে যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের অনেকেই বলেছেন, তিনি ছিলেন অন্তর্মুখী, সংবেদনশীল ও কাজপাগল মানুষ। শুটিং, সম্পাদনা, চিত্রনাট্য, আলো—সবকিছু নিয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাবতেন। চলচ্চিত্রই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
এই অতিরিক্ত নিমগ্নতা অনেক সময় পারিবারিক জীবন থেকে গুরু দত্তকে দূরে সরিয়ে দেয়। পরিবার চাইত স্বাভাবিক সংসার আর গুরু দত্ত যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের সৃষ্ট জগতে।
নতুন এক মুখের আবির্ভাব
এ সময়ই গুরু দত্তর চলচ্চিত্রে নিয়মিত দেখা যেতে থাকে তরুণ অভিনেত্রী ওয়াহিদা রেহমানকে। তাঁর অভিনয়, উপস্থিতি ও ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিক অভিব্যক্তি গুরু দত্তকে মুগ্ধ করেছিল।
একের পর এক ছবিতে ওয়াহিদাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নেওয়া হয়। খুব দ্রুত তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে চলচ্চিত্রমহলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
কখনোই এ সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সে সময়ের বহু স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার ও জীবনীগ্রন্থে এ গুঞ্জনের প্রভাব গুরু দত্তর দাম্পত্য জীবনে পড়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গীতা দত্তর কাছেও এসব খবর পৌঁছাতে থাকে। ধীরে ধীরে সন্দেহ, অভিমান ও দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কে আরও গভীর হয়ে ওঠে।
প্রেম, শিল্প আর খ্যাতির এই ত্রিভুজ যে শেষ পর্যন্ত কত বড় ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের দিকে গড়িয়েছিল, তার গল্প আরও জটিল। সে গল্পেই উঠে আসে পারিবারিক অশান্তি, ক্যারিয়ারের টানাপোড়েন এবং এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ, যা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি।
সন্দেহ, গুঞ্জন আর ভেঙে পড়া এক সংসার
গুরু দত্ত ও গীতা দত্তর দাম্পত্যে যে ফাটল তৈরি হয়েছিল, তার একমাত্র কারণ কোনো তৃতীয় ব্যক্তি ছিলেন—এমন সরল ব্যাখ্যা ইতিহাস দেয় না; বরং তাঁদের সম্পর্কের সংকট তৈরি হয়েছিল একাধিক কারণে। কাজের চাপ, সাফল্যের চাপ, দুই ভিন্ন স্বভাবের মানুষ আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল চলচ্চিত্রপাড়ার অবিরাম গুঞ্জন।
পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে গুরু দত্ত ও ওয়াহিদা রেহমান একের পর এক ছবিতে কাজ করতে থাকেন। ‘সিআইডি’, ‘পিয়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’ ও ‘চৌদহভি কা চাঁদ’—প্রতিটি ছবিতে ওয়াহিদার উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। একই সময়ে চলচ্চিত্রমহলে ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠতার নানা গল্প। কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেনি, কিন্তু গুঞ্জন থামেনি।
এ পরিস্থিতি গীতা দত্তকে মানসিকভাবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল বলে বিভিন্ন জীবনীকার উল্লেখ করেছেন। তিনি পরিচিতজনদের কাছে স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইতেন, আবার অনেকেই তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতেন যে এসব কেবলই গুজব। কিন্তু গুজব যখন প্রতিদিন নতুন রূপ নেয়, তখন তা বাস্তবের মতোই ক্ষত তৈরি করে।
বিভিন্ন স্মৃতিকথায় এমনও উল্লেখ আছে যে একসময় গীতা দত্ত স্বামীর আনুগত্য যাচাই করার জন্য একটি ভুয়া প্রেমপত্রের আশ্রয় নিয়েছিলেন। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরু দত্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবরার আলভির স্মৃতিচারণায় দাবি করা হয়েছে, সে ঘটনার পর গুরু দত্ত স্বীকার করেছিলেন যে তিনি রাগের মাথায় স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছিলেন। এ বর্ণনা মূলত স্মৃতিকথা ও জীবনীভিত্তিক, এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সমসাময়িক প্রমাণ নেই। তাই ঘটনাটি ইতিহাসের একটি বিতর্কিত দাবি হিসেবেই দেখা হয়।
গীতা দত্তর ক্যারিয়ারে নেমে আসে অন্ধকার
ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতা ধীরে ধীরে গীতা দত্তর পেশাজীবনেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। যে কণ্ঠ একসময় হিন্দি চলচ্চিত্রের অপরিহার্য অংশ ছিল, সেই কণ্ঠ ক্রমেই কম শোনা যেতে থাকে।
এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। কেউ বলেন, নতুন প্রজন্মের গায়িকাদের আগমন তাঁর সুযোগ কমিয়ে দেয়। কেউ বলেন, সংসারের টানাপোড়েন তাঁকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আবার কয়েকটি জীবনীগ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, গুরু দত্ত চাইতেন, গীতা যেন মূলত তাঁর প্রযোজনার ছবিতেই গান করেন। এ দাবি নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
অন্যদিকে আর্থিক সমস্যাও বাড়তে থাকে। পরিবারের কিছু বিনিয়োগ ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন যিনি পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন, সেই গীতা নিজেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
‘গৌরী’: যে ছবিটি বাঁচাতে পারেনি সম্পর্ক
সম্পর্কে নতুন করে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন গুরু দত্ত। বাংলা ভাষায় ‘গৌরী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেন তিনি। নায়িকা হিসেবে বেছে নেন গীতা দত্তকে, যদিও তিনি মূলত গায়িকা ছিলেন।
কিন্তু শুটিং শুরুর পরই দুজনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্মৃতিকথায় বর্ণিত হয়েছে, একদিন সেটে মেকআপ ও প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ক্রোধের এক পর্যায়ে গীতা দত্ত ওয়াহিদা রেহমানের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি চাও, আমি ওয়াহিদার চেয়েও খারাপ দেখাই?’
সেটে নেমে আসে নীরবতা। শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ছবিটিও আর সম্পূর্ণ হয়নি। পরে গুরু দত্ত অন্য কাজে মন দেন, কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের অবস্থায় ফেরেনি।
এ সময় থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন যেন দুই সমান্তরাল পথে চলতে শুরু করে—একদিকে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গুরু দত্তর সৃজনশীল লড়াই, অন্যদিকে ক্রমে নিভে আসা এক অসাধারণ কণ্ঠশিল্পীর জীবন।
পরের পর্বে থাকবে গুরু দত্তর শেষ জীবন, ওয়াহিদা রেহমানের অবস্থান, গীতা দত্তর মর্মান্তিক পরিণতি এবং কেন তাঁদের প্রেম আজও ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বেদনাময় অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
দাম্পত্যের টানাপোড়েন সত্ত্বেও গুরু দত্ত ও গীতা দত্ত একসময় সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। বিভিন্ন জীবনী ও স্মৃতিকথায় উল্লেখ আছে, গুরু দত্ত ওয়াহিদা রেহমানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে সংসারে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। কিছুদিনের জন্য দুজন আবার একসঙ্গে সময় কাটান, এমনকি পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনও ঘটে। কিন্তু এই পুনর্মিলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, গুরু দত্ত ছিলেন প্রবল সৃজনশীল অথচ গভীরভাবে অন্তর্মুখী একজন মানুষ। দিনের পর দিন তিনি শুটিং, সম্পাদনা ও চিত্রনাট্যের জগতে ডুবে থাকতেন। সামাজিক আড্ডা বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাঁর অনাগ্রহ ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে গীতা দত্ত ছিলেন প্রাণবন্ত, বন্ধুবৎসল ও সামাজিক। এই স্বভাবগত পার্থক্যও তাঁদের দূরত্ব বাড়িয়েছিল বলে অনেকেই মনে করেন।
এক অসময়ে শেষ হয়ে যাওয়া জীবন
১৯৬৪ সালের অক্টোবরে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে গুরু দত্তর মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রকে স্তব্ধ করে দেয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও সরকারি নথিতে এটি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ ও মদের প্রভাবে ঘটে যাওয়া মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এটি দুর্ঘটনা ছিল নাকি আত্মহত্যা, সে প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর আজও মেলেনি।
গুরু দত্তর মৃত্যুর অভিঘাত সবচেয়ে গভীরভাবে আঘাত করেছিল গীতা দত্তকে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কাজে ফিরতে চাইলেও আগের মতো আর নিজেকে খুঁজে পাননি।
এরই মধ্যে গীতা দত্তর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভারের জটিলতা বাড়ে। অবশেষে ১৯৭২ সালে, মাত্র ৪১ বছর বয়সে, গীতা দত্তরও মৃত্যু হয়। মাত্র আট বছরের ব্যবধানে ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্র হারায় এক অসাধারণ শিল্পী দম্পতিকে।
ওয়াহিদা রেহমানের নীরবতা
গুরু দত্তকে ঘিরে যত গুঞ্জনই থাকুক না কেন, ওয়াহিদা রেহমান সব সময় এ প্রসঙ্গে সংযত ছিলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি গুরু দত্তকে নিজের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে