ট্রল নিয়ে মুখ খুললেন অমিতাভের নাতনি
জনপ্রিয় পরিবারের সদস্য হওয়া মানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা। আর সেই আলোচনার সঙ্গে জুড়ে থাকে সমালোচনা, ট্রোল, কখনো সরাসরি বিদ্বেষ। এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই বড় হয়েছেন নব্যা নাভেলি নন্দা। অমিতাভ বচ্চনের নাতনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন—অনলাইন ঘৃণা তাঁর কাছেও নতুন কিছু নয়, তবে সেটিকে তিনি নিজের পরিচয়ের অংশ হতে দেন না।
‘আমি নিজেই বেছে নিয়েছি’
নব্যা বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় কী দেখছি, সেটাকে আমি নিজের ওপর প্রভাব ফেলতে দিই না। আমিও আমার প্রাপ্য পরিমাণ ঘৃণা পেয়েছি। কিন্তু আমি এটাকে আমাকে ছুঁতে দিই না—কারণ আমি সচেতনভাবেই একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার কাজের কারণে।’
নব্যা মূলত উন্নয়নমূলক ও অলাভজনক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, মানুষের জন্য কাজ করলে মানুষের মতামত শোনাও জরুরি। গঠনমূলক সমালোচনা কাজকে আরও ভালো করতে সাহায্য করে। তবে একটি স্পষ্ট সীমারেখা আছে—সেই মতামত যেন তাঁর আত্মমর্যাদা নির্ধারণ না করে।
ব্যক্তিগত জীবন নয়, কাজই অগ্রাধিকার
নব্যা জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন প্রধানত নিজের কাজ তুলে ধরার জন্য। ব্যক্তিগত জীবনের খুব কম অংশই তিনি শেয়ার করেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল উপস্থিতি মানেই ব্যক্তিগত জীবন উন্মুক্ত করে দেওয়া নয়।
জনমনে তৈরি হওয়া ধারণা নিয়েও তিনি কথা বলেন। নিয়মিত প্যানেল আলোচনা বা সাক্ষাৎকারে দেখা গেলেও, নিজেকে তিনি ‘খুব লাজুক’ ও ‘অন্তর্মুখী’ বলে বর্ণনা করেন। ক্যামেরার সামনে যে আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব দেখা যায়, সেটাই তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।
পরিচয়ের ভার আর নিজের পথ
নব্যা হলেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের নাতনি, তাদের মেয়ে শ্বেতা বচ্চন নন্দার মেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে থাকে।
তবে তিনি বিনোদনজগতে নয়, উদ্যোক্তা ও সামাজিক প্রভাবক হিসেবে নিজের পরিচয় গড়তে আগ্রহী। অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাই অগস্ত্য নন্দা ইতিমধ্যেই অভিনয়ে পা রেখেছেন, জোয়া আখতারের ‘দ্য আর্চিজ’ ছবির মাধ্যমে।
নব্যার বক্তব্যে যে বিষয়টি স্পষ্ট—তিনি সমালোচনা এড়িয়ে চলেন না, বরং তা থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেন। কিন্তু নিজের আত্মপরিচয় গড়ে তোলেন ভেতরের বিশ্বাস থেকে, বাইরের কোলাহল থেকে নয়।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে