ব্যাংকে ছিল মাত্র ৪০০ রুপি, এখন পারিশ্রমিক নেন ৩ কোটি
বলিউডে পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন অনুপম খের। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথে এমনও সময় এসেছে, যখন হাতে ছিল মাত্র ৪০০ রুপি, ঘর–অফিস দুটোই বন্ধক রাখা। নিজের সেই দুঃসময় নিয়েই স্মৃতিচারণা করলেন অভিনেতা।
১৯৮৪ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে মহেশ ভাটের ‘সারাংশ’–এ অবসরপ্রাপ্ত এক প্রবীণের চরিত্রে অভিনয় করে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন অনুপম। এরপর বছরের পর বছর ধরে বড় ব্যানারের অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু ২০০০–এর দশকের শুরুতে নিজের তৈরি প্রোডাকশন হাউস ও টেলিভিশনে কাজের চেষ্টায় তাঁর আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে।
ইউটিউব শো ‘আনফিল্টারড উইথ সামদিশ’-এ অনুপম বলেন, ‘২০০৪ সালে আমি প্রায় দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা ধার করে কাজ চালাচ্ছিলাম। আমাদের পরিবারের শত বছরের ইতিহাসে কেউ একসঙ্গে ১০ হাজার টাকা দেখেনি, আমি সেটা প্রথম দেখি। কিন্তু সুদের চাপ এত বেড়ে যায় যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এসে বলে, ব্যাংকে এখন কেবল ৪০০ রুপি আছে। আমার বাড়ি আর অফিস দুটোই বন্ধক রাখা।’
অভিনেতা জানান, সেই সময় তিনি ব্যস্ত ছিলেন বড় বড় ছবির শুটিংয়ে। সবাই ভাবত তিনি খুবই সফল। কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি লড়ছিলেন ভয়াবহ আর্থিক সংকটের সঙ্গে। ধীরে ধীরে আবার ঘুরে দাঁড়ান নিজের জোরে। এখন নিজের অবস্থান সম্পর্কে অনুপমের স্পষ্ট জবাব, ‘এই মুহূর্তে আমি প্রতিটি ছবিতে ২ থেকে ৩ কোটি রুপি নিই। ভালোই আছি।’
আগেও অনুপম খের তাঁর দেউলিয়া হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ব্যবসাবান্ধব মানুষ নই। তাই প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পর আবার নতুন করে শুরু করতে হয়েছে। মানুষেরা আমাকে “কিংবদন্তি অভিনেতা” বলে ডাকতে লাগল—মানে পুরস্কার নাও, অবসরে যাও। কিন্তু আমি মানিনি। বিদেশে গিয়ে সিরিজ করেছি। ৬০ পেরিয়ে যখন অনেকে অবসরের কথা ভাবেন, তখন আমি শরীর গঠন শুরু করেছি।’