রাশমিকা–বিজয়ের হানিমুন কেন হানিমুন নয়

মধুচন্দ্রিমায় বিজয় ও রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন দক্ষিণ ভারতের আলোচিত তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। এরপর চলতি মাসেই থাইল্যান্ড থেকে তাঁদের মধুচন্দ্রিমার ছবি ভাইরাল হয়। তবে এটাকে ঠিক হানিমুন বলা যায় না। কিন্তু কেন? কারণ, প্রচলিত হানিমুনে না গিয়ে তাঁরা গিয়েছিলেন বাডিমুনে। অর্থাৎ কেবল নবদম্পতিই নন, এ সফরে সঙ্গী হয়েছিলেন বন্ধুরাও। থাইল্যান্ডের কো সামুই দ্বীপে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে রাশমিকা বলেন, ‘আমাদের কাছে ঘুরতে যাওয়া মানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতি তৈরি করা। যেখানে সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতে পারব। ঘুরতে যাব, খেলব, পুলে আনন্দ করব, একসঙ্গে সবাই সূর্যাস্ত দেখব, নানা ধরনের খাবার খাব। যেখানে কোনো চিন্তাভাবনা থাকবে না।’ বিজয়ও একসময় জানিয়েছিলেন, তিনি একা একা থাকার মানুষ নন। চিরকাল লোকজন নিয়ে থাকতেই ভালোবাসেন।

বিয়ের পর ৪ মার্চ হায়দরাবাদে হয় দুই তারকার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। ব্যস্ততা পেরিয়ে সরাসরি তাঁরা পাড়ি জমান কো সামুই দ্বীপে। সেখানে একটি সমুদ্রতীরবর্তী ভিলা ভাড়া নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কাটান তাঁদের প্রথম ভ্রমণ। এ ভ্রমণ ছিল না কেবল ঘোরাঘুরি; বরং ছিল একসঙ্গে সময় কাটানোর আয়োজন—নিরিবিলি ডিনার, সমুদ্রতীরে হাঁটা, সুইমিংপুলে আড্ডা আর গভীর রাত পর্যন্ত গল্প।

বাডিমুন: কী এই নতুন ট্রেন্ড
হানিমুনের সঙ্গে ‘বাডি’ বা বন্ধুর মিশেলে তৈরি হয়েছে ‘বাডিমুন’। এ ধারণায় নবদম্পতি তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে যান প্রথম ভ্রমণে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ—বিয়ের পর ক্লান্তি কাটাতে চাপমুক্ত সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, সম্পর্ককে শুধু দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর পরিসরে দেখা। এ প্রবণতা বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।

বন্ধুদের নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

রাশমিকা-বিজয়ের দৃষ্টিভঙ্গি
এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে রাশমিকা ও বিজয় জানিয়েছেন, ভ্রমণ তাঁদের কাছে সব সময়ই স্মৃতি তৈরির মাধ্যম। আর সেই স্মৃতিতে বন্ধুরা থাকলে তা আরও পূর্ণ হয়।
তাঁদের কথায়, ‘একসঙ্গে থাকা, খেলা, সূর্যাস্ত দেখা, স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করা—সবকিছু মিলিয়ে এ অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বেশি স্বাভাবিক ও বাস্তব।’

আরও পড়ুন

ব্যক্তিগত মুহূর্তও ছিল
বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালেও নিজেদের জন্য কিছু সময় রেখেছিলেন তাঁরা। সে মুহূর্তগুলোতেই ধরা পড়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা—সহজ বোঝাপড়া, যত্ন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন। একান্ত আলাপচারিতায় তাঁরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও করেছেন—বিশ্বভ্রমণ, নতুন জায়গা খোঁজা এবং একসঙ্গে জীবনকে উপভোগ করা।

ভোগ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

মধুচন্দ্রিমায় বিজয় ও রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে