এই বলিউড তারকা কিয়ারার সঙ্গে প্রেমের ছবি করার প্রসঙ্গে বলেন, ‘একটা প্রেমের ছবি নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আশা করি, দুজন প্রেমের ছবিতে জুটি বেঁধে আসব। প্রেমের ছবির ক্ষেত্রে পাত্রপাত্রী নির্বাচনই হলো মূল। নাহলে পর্দায় রসায়ন ঠিক জমে না।’ কিয়ারার সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে লাজুক হেসে তিনি বলেন, ‘আমি কিয়ারাকে “কবির সিং” ছবির আগে থেকেই চিনি। তাঁর মধ্যে কোনো বদল আসেনি। কিয়ারা ভালো কাজ করছেন। তাঁর ভুলভুলাইয়া টু ছবির প্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম। ছবিটা ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লাগে যে তিনি কাজের চাপ নিয়ে ঘোরেন না।’

এই আড্ডায় সিদ্ধার্থ বলেন শেরশাহ কীভাবে তাঁর জীবন অনেকটা বদলে দিয়েছে, ‘অভিনেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব বেড়ে গেছে। এ ছবি আমাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এখন চিত্রনাট্য নির্বাচনের সময় আরও সাবধানী হতে হচ্ছে। আমাকে ঘিরে দর্শকের যে আস্থা জন্মেছে, তা অটুট রাখতে চাই। “শেরশাহ”র জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। অনেকগুলো বছর ছবিটির জন্য দিয়েছিলাম। এ ছবির মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এখন সেসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছি।’

কথায় কথায় উঠে আসে সিদ্ধার্থর ‘থ্যাংক গড’ ছবির কথা। ছবির নায়ক ব্যক্তিগত জীবনে দিনে ঈশ্বরকে কতবার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের জন্য ঈশ্বরের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। সেই দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ে এসে অনেক সংগ্রামের পর নায়ক হয়েছি। এ ছবিতে আমার চরিত্র অয়ন কাপুরের জীবন চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। সে সব সময় হতাশায় ভোগে, রেগে থাকে। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছি। তাই আমি নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর রাগ ও হতাশা এ চরিত্রের মাধ্যমে উগরে দিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে সিদ্ধার্থ আরও বলেন, ‘মা-বাবার যে শিক্ষা, নিয়মানুবর্তিতা, আদর্শের মধ্যে বড় হয়েছি, তার জন্যও ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁরা সব সময় আমাকে সৎপথে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন, মাটিতে পা রেখে চলার কথা বলেছেন।’

ইন্দ্র কুমারের ‘থ্যাংক গড’ ছবিতে অজয় দেবগনকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। অজয়ের মতো তারকার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সিদ্ধার্থ বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমি অজয় স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তিনি এমন এক তারকা, যাঁর ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল সম্পর্কে দারুণ জ্ঞান। এ বিষয়ে তিনি খুব আবেগপ্রবণ। উনি ক্যামেরার পেছনে বসে আমার ক্লোজআপ শট নিয়েছিলেন। প্রথম কোনো তারকা এমন কাজ করেছেন বলে মনে হয়।’

সিদ্ধার্থ এ প্রজন্মের তরুণীদের ‘হার্টথ্রব’। নিজেকে সুন্দর রাখার জন্য কী করেন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্তর থেকে সুস্থ থাকার চেষ্টা করি। অন্তর সুন্দর হলে নিজের মুখে তা প্রতিফলিত হয়। আমি স্বাস্থ্যকর খাবার খাই, শরীরচর্চা করি। মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিজেকে সময় দিই।’ আড্ডার শেষের দিকে উঠে আসে সিদ্ধার্থের বিয়ের প্রসঙ্গ। বিয়ে কবে করছেন? জবাবে হেসে বলেন, ‘আরে বিয়ের কথা কি গোপন রাখা যায়, আমার বিয়ে হলে নিশ্চয় সবাই জানতে পারবেন।’