আইনি লড়াই চলছে, বিজয়ের শেষ ছবির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
তামিল তারকা বিজয়ের বহুল আলোচিত শেষ ছবি ‘জন নায়াগান’ মুক্তি নিয়ে জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হলো। গতকাল সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ছবিটির সেন্সর–সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করে বিষয়টি আবারও একক বিচারকের বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছে। ফলে আপাতত কোনো স্বস্তি পেল না ছবিটির প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনস।
প্রধান বিচারপতি এম এম শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি জি অরুল মুরুগনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় দেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিবিএফসি) ও ‘জন নায়াগান’-এর প্রযোজকের মধ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ের কারণেই ছবিটির মুক্তি আটকে আছে।
কেন পিছিয়ে গেল মুক্তি
বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে আলোচনায় থাকা ‘জন নায়াগান’ ৯ জানুয়ারি মুক্তির কথা ছিল; কিন্তু সেন্সর সার্টিফিকেশন পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে মুক্তি পায়নি ছবিটি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক আদালতের দ্বারস্থ হন নির্মাতা ও প্রযোজকেরা। তবে দীর্ঘ শুনানি ও আইনি টানাপোড়েনের পরও এখনো ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়নি।
হাইকোর্টে কী বলল বেঞ্চ
সোমবার শুনানির শুরুতে আদালত জন নায়াগান নিয়ে সিবিএফসিতে জমা পড়া একটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান। অভিযোগটি করেছিলেন সেন্সর বোর্ডেরই এক পরীক্ষণ কমিটির সদস্য।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত মন্তব্য করেন, ‘জন নায়াগান’-এর পক্ষে দেওয়া একক বিচারকের আগের আদেশে সিবিএফসিকে তাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আদালত লক্ষ্য করে যে সিবিএফসির চেয়ারম্যান প্রসূন জোশীর আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন করা হয়নি। সে কারণে প্রযোজনা সংস্থাকে আগে সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চ একক বিচারকের সেই আদেশ বাতিল করে বিষয়টি নতুন করে শুনানির জন্য আবার একক বিচারকের বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
মামলার পেছনের ঘটনা
আদালতে প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ডিসেম্বর মাসে সিবিএফসির পরীক্ষণ কমিটি ছবিটি দেখে ১৪টি কাটের শর্তে ‘ইউএ ১৬+’ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। নির্মাতারা সেই সব কাট মেনেও নেন; কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় সিবিএফসির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
৫ জানুয়ারি বাধ্য হয়ে প্রযোজকেরা মাদ্রাজ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। সিবিএফসির দাবি ছিল, তাঁরা একটি অভিযোগ পেয়েছেন, ছবির কিছু অংশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। সে কারণেই সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।
একক বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিবিএফসিকে ছবিটি সার্টিফাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবার হাইকোর্টেই আপিল করে সিবিএফসি এবং হাইকোর্টে ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে প্রযোজকেরা সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখান থেকেও কোনো স্বস্তি মেলেনি। শীর্ষ আদালত বিষয়টি হাইকোর্টেই নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। ২০ জানুয়ারি শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় সংরক্ষণ করে এবং ২৭ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।
তিনটি ভিন্ন আদালতে মামলা ও ২২ দিনের আইনি লড়াইয়ের পর এখনো ‘জন নায়াগান’ সেন্সর সার্টিফিকেট পায়নি।
বিজয়ের শেষ ছবি
এই ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগৎকে বিদায় জানাতে চলেছেন বিজয়। এরপর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোযোগ দেবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের হয়ে আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
এইচ বিনোথ পরিচালিত ‘জন নায়াগান’ মূলত তেলেগু পরিচালক অনিল রবিপুডির বালাকৃষ্ণ অভিনীত ‘ভগবন্ত কেশরী’ ছবির রিমেক। এতে বিজয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন মমিতা বাইজু, ববি দেওল ও পূজা হেগড়ে।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে