পরিচালকের সঙ্গে প্রেম? ৩৭ বছর পর সত্যিটা জানালেন নায়িকা
বলিউডের আশির দশকের শেষভাগে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট ছবি ‘ত্রিদেব’কে ঘিরে বহু বছর ধরেই একটি গুঞ্জন প্রচলিত ছিল। অনেকে মনে করতেন, ছবির পরিচালক রাজীব রাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই অভিনেত্রী সোনম খান ছবিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিলেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় গান ‘ওয়ে ওয়ে’ এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল।
তবে প্রায় ৩৭ বছর পর সেই ধারণাকে একেবারে ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন সোনম খান।
‘প্রথম দিন থেকেই গুজব’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওয়ে ওয়ে’ গানের একটি ভিডিও শেয়ার করে সোনম লেখেন, ‘না, বড় করে বলছি—না। “ত্রিদেব”-এর শুটিং চলাকালে আমার পরিচালকের সঙ্গে কোনো প্রেম ছিল না।’
সোনম খান জানান, ছবি মুক্তির পর অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে পরিচালক রাজীব রায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আর সে কারণেই নাকি ছবির অন্য দুই নায়িকার তুলনায় তিনি বেশি সুযোগ পেয়েছিলেন।
সোনমের ভাষায়, ‘অনেকে মনে করতেন, আমি পরিচালকের সঙ্গে প্রেম করছিলাম, তাই বেশি স্ক্রিন টাইম পেয়েছি কিংবা “ওয়ে ওয়ে”–এর মতো সুপারহিট গান আমার ভাগ্যে জুটেছে।’
‘রাজীবের তখন প্রেমিকা ছিল, আমারও প্রেমিক ছিল’
সোনম জানান, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, ‘ত্রিদেব’-এর শুটিংয়ের সময় রাজীব রায়ের জীবনে অন্য একজন নারী ছিলেন। একই সময়ে সোনমও একটি সম্পর্কে ছিলেন।
সোনম বলেন, ‘রাজীব সেটে তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে আসতেন। আর আমার প্রেমিকও শুটিং লোকেশনের কাছাকাছি থাকত। আমরা দুজনই তখন অন্য সম্পর্কে ছিলাম।’ অর্থাৎ, শুটিং চলাকালে তাঁদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্কই ছিল না।
‘রাজীব আমাকে ছবিতে নিতেই চাননি’
সোনমের দাবি, রাজীব রায় শুরুতে তাঁকে ‘ত্রিদেব’-এ নিতে আগ্রহী ছিলেন না; বরং অন্য এক অভিনেত্রীকে প্রায় চূড়ান্তও করে ফেলেছিলেন। তিনি জানান, প্রযোজক-পরিচালক যশ চোপড়া তাঁকে অন্য একটি ছবির ফুটেজ দেখানোর পর রাজীব তাঁর অভিনয়ে খুব একটা মুগ্ধ হননি।
সোনম লেখেন, ‘রাজীব আমাকে খুব একটা পছন্দ করেননি। অন্য একজন অভিনেত্রীকে নেওয়ার সিদ্ধান্তও প্রায় হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিকল্প না থাকায় আমাকে নেওয়া হয়।’
তাঁর কথায়, ‘আমি ছিলাম শেষ পছন্দ।’
প্রেম শুরু হয়েছিল ছবি মুক্তির পর
সোনম স্পষ্ট করে বলেন, ‘ত্রিদেব’ নির্মাণের সময় কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ছবি মুক্তির পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন দুজনই অবিবাহিত ছিলেন এবং কারও কাছে কোনো জবাবদিহির প্রয়োজন ছিল না।
সোনম বলেন, ‘ছবি মুক্তির পর আমরা সম্পর্কে জড়াই। তার আগে কোনো গোপন প্রেম, ফোনকল বা পরিচালকের বিশেষ সুবিধা—কিছুই ছিল না।’
প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর বিচ্ছেদ
‘ত্রিদেব’-এর সাফল্যের পর সোনম ও রাজীব রায়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ১৯৯১ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন সোনম। সংসার ও সন্তানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দম্পতির এক পুত্রসন্তান রয়েছে, যিনি অটিজমে আক্রান্ত। ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেছেন তাঁরা।
তবে দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর ২০০১ সালে আলাদা হয়ে যান রাজীব ও সোনম। প্রায় ১৫ বছর আলাদা থাকার পর ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
৩০ বছর পর ফিরতে চান
১৯৯২ সালের ‘বিশ্বত্থামা’–এর পর আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি সোনম খানকে। তবে সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন দশক পর আবার অভিনয়ে ফিরতে চান। তবে এবার বড় পর্দার বদলে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে