সংখ্যার হিসাবেই সমস্যা, অর্থকড়ি সামলান বাবা, ডিসক্যালকুলিয়ার কথা জানালেন তারা
বলিউড অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া জানিয়েছেন, তিনি ডিসক্যালকুলিয়ায় ভুগছেন। এটি একধরনের শেখার সমস্যা, যার কারণে সংখ্যা বোঝা, হিসাব করা কিংবা সংখ্যাসংক্রান্ত তথ্য প্রক্রিয়া করতে অনেকেরই অসুবিধা হয়। এই সমস্যার কারণে অর্থকড়ি ও বিনিয়োগের হিসাব সামলানোও তাঁর জন্য কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকে নিয়মিত সহযোগিতা পান তিনি। বিশেষ করে তাঁর বাবা তাঁর আর্থিক বিষয়গুলো দেখভালে সাহায্য করেন।
সম্প্রতি আর্থিক সচেতনতা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম হটারফ্লাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই সমস্যার কথা জানান তারা। অভিনেত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই সংখ্যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা খুব একটা স্বচ্ছন্দের নয়। টাকাপয়সার হিসাব কিংবা বিনিয়োগের মতো বিষয়েও তাঁকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।
তবে এ নিয়ে আড়াল করার কিছু দেখেন না তারা। বরং নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলে এমন একটি শেখার সমস্যার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চেয়েছেন, যেটি ডিসলেক্সিয়ার তুলনায় অনেক কম পরিচিত।
‘আমার বাবা আমার অর্থকড়ি সামলাতে সাহায্য করেন’
নিজের আর্থিক বিষয় সামলানোর প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, কারণ আমার বাবা আমার অর্থকড়ি সামলাতে সাহায্য করেন।’
অভিনেত্রী জানান, শুধু বাবাই নন, তাঁর পেশাদার দলের সদস্যরাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে অ্যাকাউন্টস টিম তাঁর আর্থিক বিষয়গুলোর খুঁটিনাটি দেখে।
তারা বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার শেখার সমস্যা আছে। এটি গণিতসংক্রান্ত একটি শেখার সমস্যা, যার নাম ডিসক্যালকুলিয়া। আমি চেষ্টা করি, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই ভুল করে ফেলি। তাই আমার দলের সাহায্য প্রয়োজন হয়। আমার অ্যাকাউন্টস টিম প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখে।’
ডিসক্যালকুলিয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে সংখ্যার হিসাব করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যোগ-বিয়োগ বা গাণিতিক হিসাব থেকে শুরু করে টাকা গোনা, মূল্য বোঝা, বিল পরিশোধ কিংবা আর্থিক পরিকল্পনার মতো কাজেও সমস্যায় পড়তে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তিরা। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
বিনিয়োগ নিয়েও শিখছেন
অর্থকড়ি সামলানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ নিয়েও আগ্রহী তারা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিনিয়োগের ধরন বৈচিত্র্যময় রাখার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ বন্ধুদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
তারা বলেন, ‘আমার বিনিয়োগের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময়। যেতে যেতে শিখছি। এসব বিষয়ে আমার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলি, যাদের এ বিষয়ে ভালো ধারণা আছে। আমি বাড়ি খুব পছন্দ করি এবং বাড়িতে বিনিয়োগ করতেও ভালোবাসি।’
অর্থাৎ সংখ্যার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত লড়াই থাকলেও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে রাখেননি তারা। বরং নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে বিশ্বস্ত মানুষদের সহায়তা নিয়ে আর্থিক বিষয়গুলো সামলাচ্ছেন।
‘টক্সিক’-এর পর আলোচনায়
সম্প্রতি যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তারা সুতারিয়া। ছবিতে তাঁর অভিনয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে বড় পরিসরে দর্শকের সামনে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন তিনি।
এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবের ২০২৬ সালের ‘উইমেন ইন সিনেমা’ গালায়ও সম্মানিত হয়েছেন তারা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনায় এসেছেন তিনি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে