মৃত্যুর সপ্তাহখানেক আগে নির্মাতা মাসুদ কায়নাতের করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রাতেই তাঁর মরদেহ নিয়ে তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, ছোট ভাইসহ নিকট আত্মীয়রা রওনা হন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। আজ সকাল ৭টায় সেখানে পৌঁছান তাঁরা। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে আজ বাদ জোহর তাঁকে দাফন করা হয়। প্রথম আলোকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন চলচ্চিত্র পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার। মাসুদ কায়নাত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য ছিলেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

মাসুদ কায়নাতের বন্ধু লিটন এরশাদ ফেসবুকে দুটো ছবি পোস্ট করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে লেখেন, ‘বিদায় বন্ধু। করোনা তোকেও কেড়ে নিল। ফোন করে আর কখনো বলা হবে না, কই? দেখা হবে তো? কী নির্মম, শেষ বিদায়েও দেখা হলো না! আর দেখা হবে না। নতুন করে স্বপ্ন বোনা হবে না। এ রকম জটলা করে আর ছবিও উঠবে না। ওপারে ভালো থাকিস।’

default-image

লিটন জানান, ৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটাছুটি শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে কোথাও জায়গা পাওয়া যায়নি। ভোর ছয়টার দিকে একটি হাসপাতালে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না হওয়ায় বিকেলে বনশ্রীর আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় সেখানেই মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী আর দুই সন্তানকে রেখে গেছেন মাসুদ কায়নাত।

মাসুদ কায়নাত মূলত বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা ছিলেন। দুই শতাধিক বিজ্ঞাপন বানিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্র, নাট্যনির্মাতা, উপস্থাপক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি আছে। নিজের লেখা গল্পে তাঁর পরিচালিত একমাত্র চলচ্চিত্র ‘বেইলী রোড’। এই ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নিলয় আলমগীরের। এখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আঁচল আঁখি। ‘বেইলী রোড’ ছবিতে বাপ্পা মজুমদার আর মিলার গাওয়া ‘দেহ গেলে কি যায় বলো, মন গেলে তো সবই যায়’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই ছবির মাধ্যমেই প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন মিলা।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন