শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫২ সাল, অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা নিবেদিত চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বগুড়ার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, মধুবন সিনেপ্লেক্সে “চিরঞ্জীব মুজিব”–এর প্রদর্শনী উপলক্ষে থাকবে নানা আয়োজন। চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও কলাকুশলীরা এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতে চলচ্চিত্রটি দেখতে পারে, তার জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। দর্শকের আগ্রহ থাকলে মধুবন সিনেপ্লেক্সে টানা এক মাস চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। পর্যায়ক্রমে দেশ-বিদেশের অন্য সিনেমা হলেও চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে।

অনুষ্ঠানে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের পোস্টার বুঝিয়ে দেওয়া হয় বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এম ইউনুসের হাতে। এ ছাড়া চলচ্চিত্রটির টিজার ও ট্রেলার দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান প্রমুখ।

‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা এবং বঙ্গবন্ধুর মা ও বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে খায়রুল আলম সবুজ ও দিলারা জামান। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত এস এম মহসীন, নরেশ ভুঁইয়া, শতাব্দী ওয়াদুদ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, আরমান পারভেজ মুরাদ, কায়েস চৌধুরী, আজাদ আবুল কালাম, সমু চৌধুরীসহ পাঁচ শতাধিক শিল্পী।

‘চিরঞ্জীব মুজিব’ প্রযোজনা করেছেন লিটন হায়দার। সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা। চলচ্চিত্রটির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, কুমার বিশ্বজিৎ, কোনাল, নোলক বাবু, কিরণ চন্দ্র রায়। চলচ্চিত্রটিতে গগন হরকরা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জসীমউদ্‌দীনের গান ব্যবহার করা হয়েছে।

default-image

‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রথম পর্ব ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ নির্মাণে প্রায় সাত কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ছবিটিতে শুধু শিল্পীদের দুর্দান্ত অভিনয় আর নির্মাণশৈলীই দর্শকদের মুগ্ধ করবে না, তাঁদের অতীত ইতিহাসেও ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ইতিহাসের ওই সময়কে ফুটিয়ে তুলতে পুরোনো দিনের গাড়ি, পুরোনো ট্রেন, পুরোনো বাড়ি শুটিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

নির্মাতা জানিয়েছেন, বাকি তিনটি পর্ব নির্মাণের কাজ শুরু হবে শিগগির। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর শৈশব ও কৈশোর নিয়ে একটি পর্ব, ১৯৫৩ থেকে ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে একটি পর্ব এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একটি পর্ব নির্মিত হবে।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন