বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের বগুড়ায় শুভ মুক্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বগুড়া জিলা স্কুল চত্বর থেকে বের হওয়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) মহাস্থান অঞ্চলের সদস্যরা ছাড়াও এই শোভাযাত্রায় ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম, সৃজনশীল পরিচালক জুয়েল মাহমুদ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান অংশ নেন।
ছবিটির মুক্তির এক দিন আগেই বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরে বের করা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা, আহমেদ রুবেল ছাড়াও ছবির কলাকুশলীরা। এ সময় সাতমাথায় মুজিব মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছবিটির প্রধান দুই শিল্পী চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও আহমেদ রুবেল দর্শকদের হলে গিয়ে ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ জানান।

default-image

এ সময় বঙ্গমাতা চরিত্রে অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা বলেন, ছবিটি চলচ্চিত্রের বিশ্ব ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। এই ছবির মাধ্যমে দর্শকেরা পূর্ণিমাকে শত বছর মনে রাখবেন। সন্ধ্যায় ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ মুক্তি উপলক্ষে শহরের সাতমাথায় মুজিব মঞ্চে আয়োজন করা হয় জমজমাট কনসার্টের। এতে দর্শক মাতিয়ে মুগ্ধ করেন ছবির গানে কণ্ঠ দেওয়া নোলক বাবু ছাড়াও গায়িকা শিল্পী বিশ্বাস।
‘চিরঞ্জীব মুজিব’ ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ছবি মুক্তি উপলক্ষে জেলা শহরে দুই দিনব্যাপী বিশাল শোডাউন, কনসার্ট আয়োজন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনন্য ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ শুধু ঢাকার বাইরে বগুড়ায় রিলিজ দেওয়া ছাড়াও জমজমাট প্রচারণায় অনন্য নজির ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহেনা নিবেদিত ছবিটি প্রথাগত ধারা ভেঙে ঢাকার বাইরের জেলা শহরের একটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চিরঞ্জীব মুজিব’–এর শুভ মুক্তি উপলক্ষে বগুড়া শহর ছাড়াও আশপাশে সাঁটানো হয়েছে ছবিটির ৪ ধরনের ১০ হাজার পোস্টার, টানানো হয়েছে নানা ডিজিটাল ব্যানার। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও পুলিশ প্লাজার দুটি এলইডি পর্দায় দেখানো হচ্ছে ছবির ট্রেলার, চলছে মাইকিং এবং লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ। সব মিলিয়ে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ শুভ মুক্তি উপলক্ষে বগুড়া এখন রীতিমতো উৎসবের শহর।
শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল; অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, মধুবন সিনেপ্লেক্সে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’–এর প্রদর্শনী উপলক্ষে সব শ্রেণির দর্শকের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীকেও চলচ্চিত্রটি টিকিট কেটে দেখানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার পরে পর্যায়ক্রমে গাজীপুর, দিনাজপুর ও রংপুর শহরে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। বেগম ফজিলাতুন্নেছার চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা এবং বঙ্গবন্ধুর বাবা ও মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে খায়রুল আলম সবুজ ও দিলারা জামান। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত এস এম মহসীন, নরেশ ভূঁইয়া, শতাব্দী ওয়াদুদ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, আরমান পারভেজ মুরাদ, কায়েস চৌধুরী, আজাদ আবুল কালাম, সমু চৌধুরীসহ পাঁচ শতাধিক শিল্পী। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন লিটন হায়দার। সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা। চলচ্চিত্রটির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন, কুমার বিশ্বজিৎ, কোনাল, নোলক বাবু, কিরণ চন্দ্র রায়।
‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রথম পর্ব ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ ছবিটিতে ইতিহাসের সময়কাল ফুটিয়ে তুলতে পুরোনো দিনের গাড়ি, পুরোনো ট্রেন, পুরোনো বাড়ি শুটিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতা জানিয়েছেন, এই ছবির পরের পর্ব নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলছে গবেষণার কাজ। স্ক্রিপ্ট ও সংলাপ চূড়ান্ত হলেই শুটিং শুরু করা হবে।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন