default-image

শুধু শাকিবই নন, তহবিল গঠন ও সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন জয়া আহসান, আসিফ আকবর, তাহসান খান, লিংকন, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, অপূর্ব, সাইমন সাদিক, বাপ্পী চৌধুরী, মেহজাবীন, আফরান নিশো প্রমুখ। তাঁরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। ভক্তদের কাছে অর্থসহায়তা পাঠানোর মোবাইল নম্বর দিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আসিফ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘৮৮, ৯৮–এর মতো এবারের বন্যাও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। অস্থির লাগছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি সাধ্যানুযায়ী বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকব। আপনিও প্রস্তুত থাকুন।’

অভিনেত্রী জয়া আহসান মানুষের পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার পশুপাখির সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। অনেক গরিব মানুষের বেঁচে থাকার আশ্রয় পশুগুলো হারিয়ে দিশাহারা। এই পশুগুলো মারা যাওয়ায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হবে। বন্যাকবলিত প্রতিটি পরিবারের জন্যই ব্যথিত এই ঢালিউড নায়িকা। জয়া লিখেছেন, ‘হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে সবার জন্য প্রার্থনা করছি, শিগগিরই প্রকৃতির এই ভয়াবহতা কেটে যাক, সিলেট ও সুনামগঞ্জের সব মানুষ, পশুপাখি সুরক্ষিত থাকুক।’

default-image

সিনেমাপাড়া একটু করে আশার আলো জাগাচ্ছিল। সেই আশায় গত শুক্রবার মুক্তি পায় দুটি সিনেমা। শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় প্রযোজকদের। টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সকালের প্রদর্শনী বাতিল হয়। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা দর্শক বাড়লেও তা আশানুরূপ নয়। যখন সিনেমা দুটির প্রযোজক কর্তৃপক্ষের মন খারাপ করা উচিত, তখন তাঁরা ঘোষণা দেন, সিনেমার লভ্যাংশ সিলেটের বন্যায় দুর্গত মানুষের জন্য খরচ করবেন। ৪১টি সিনেমা হলে মুক্তি পাওয়া অমানুষ ছবির প্রযোজক ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তির প্রথম সপ্তাহের টিকিটের টাকা থেকে হলমালিকের অংশ বাদ দিয়ে তাঁর অংশের পুরো টাকা বানভাসি ব্যক্তিদের জন্য ব্যয় করবেন। অন্যদিকে ৫৪টি সিনেমা হলের মুক্তি পাওয়া তালাশ সিনেমার পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, ‘তালাশ সিনেমার আয়ের একটা অংশসহ সিনেমাটির টিমের সবাই ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিয়ে একটি ফান্ড করছি। সেই ফান্ড নিয়ে আমরা শিগগিরই সিলেটে রওনা হব।’

default-image

সিলেটে বন্যার সময়টায় ছিলেন ছোট পর্দার অভিনেতা মিলন ভট্টাচার্য। সিলেট থেকে ফেরার সময় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে বললেন, ‘রিকশা করে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে বের হয়েছিলাম। কী যে ভয়াবহ অবস্থা! বন্যার পানিতে প্রত্যেক মানুষ আতঙ্কিত। শহর থেকে একটু দূরের জায়গাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছিল। প্রশাসন তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিল। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, এমন খারাপ অবস্থা সিলেটবাসী আগে দেখেননি বলে জানালেন।’

দুর্গত মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নাটক ও সংগীতের বিভিন্ন সংগঠন। সিলেটের বন্যা ও এর ভয়াবহতায় সেখানে মানুষ দুর্বিষহ দিন পার করছেন। থমকে গেছে তাঁদের জীবনযাত্রা। বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ হয়ে অন্ধকারে কাটছে সময়। ডুবে গেছে রান্নার চুলা, ফলে রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের। খাবার ও পানির সংকটে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। এই বিপর্যয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়েছে ছোট পর্দার পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড। তারা সব নির্মাতাদের সহযোগিতাও চেয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক তারকা সহায়তার কথা জানিয়েছেন।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন