বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিগত সময়ে দেখা গেছে, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিল্পী–কলাকুশলীদের হাতে সাহায্য তুলে দেওয়ার সময় ফেসবুক লাইভ করা হতো। শিল্পী–কলাকুশলীদের সহযোগিতার নামে লাইনে দাঁড় করিয়ে ফেসবুক লাইভ করার ব্যাপারটা পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাইকে অসম্মান করা—এমনটাই মনে করেছেন শিল্পী–কলাকুশলীদের অনেকে। বিগত সময়ের এমন ঘটনা ঘটায় অনেকে বিব্রতও। গতকাল সংবাদ সম্মেলেনে এই বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সর্বশেষ কমিটির উপদেষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চন আলাদা প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার কারণ হিসেবে বললেন, ‘আমাকে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কথা যখন একজন সাংবাদিক বলেছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমি হ্যাঁ বলিনি। ১৫ দিন ভেবেছি, চিন্তা করেছি—এরপর হ্যাঁ বলেছি। এবারও যখন নিপুণ, রিয়াজ, ফেরদৌস, খোরশেদ আলম, শামসুল আলমরা বারবার বলছিল—আমি বলেছি, সময় দাও। আপাতত কিছুই বলব না। ১০ দিন পর হ্যাঁ বলেছি।’

default-image

চিত্রনায়িকা নিপুণকে সঙ্গে নিয়ে প্যানেল গঠনের বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, নিপুণ একজন জুনিয়ার আর্টিস্ট, তাকে নিয়ে কেন আমি প্যানেল গড়লাম? কিন্তু আমি যেমন মানুষের উপকার করার চেষ্টা করি, নিপুণও সেই কাজ করে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, সংকটে নীরবেই সে চলচ্চিত্রের শিল্পী–কলাকুশলীদের পাশে থেকেছে, উপকার করেছে। করেও যাচ্ছে। একজন নারী শিল্পী হয়েও যেভাবে নীরবে মাঠে নেমে তার অঙ্গনের মানুষদের নানাভাবে উপকার করেছে, সত্যিকারে নেতা তো এভাবেই কাজ করেন। মানুষের প্রতি নিপুণের ভালোবাসা আছে। সংগঠিত করার একটা ক্ষমতাও আছে। তাই আমি মনে করছি, একজন যোগ্য সেক্রেটারি নিয়ে আমি এগিয়ে যাচ্ছি।’

default-image

কথায় কথায় ইলিয়াস কাঞ্চন এ–ও বললেন, ‘একটা কথা বলতে চাই, দুস্থ শিল্পী নাম দিয়ে শিল্পীদের অপমান করা ঠিক নয়। শিল্পী হিসেবে আমাদের সম্মান যতটুকু ছিল, তা এখন ওই জায়গায় নেই। সম্মান যদি না থাকে, সেই অসম্মান কিন্তু আমার গায়েও লাগে। আজ আমার যা কিছু হয়েছে, সব এই চলচ্চিত্র থেকেই। কোনো কিছুতে চলচ্চিত্রের যদি সুনাম হয়, সেটা আমারও ভালো লাগে। একজন মাসে ২০-২৫ টাকার নিচে চলতে পারেন না। কিন্তু একজন শিল্পীকে কদিন সাহায্য দিয়ে বাঁচাবেন? সাহায্য দিয়ে শিল্পী বাঁচেন না, ইন্ডাস্ট্রিকেও বাঁচানো যায় না। ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে আমাদের কিছু প্রোগ্রাম, কৌশল ও পরিকল্পনা করতে হবে। সেই পরিকল্পনাগুলো যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে এত দিন হয়নি। গেল ১০ দিন আমরা সবাই এসব নিয়ে ভেবেছি। কারও কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার জন্য কেউ শিল্পী হননি। আরেকটা কথা, সাহায্য মানুষকে পঙ্গু করে দেয়। আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাণের রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে। মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র বেশি নির্মাণ করতে হবে। মিলেমিশে কাজ করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি যদি না বাঁচে, আমার এই সব শিল্পী সমিতি দিয়ে কী হবে। ইন্ডাস্ট্রিকে যদি বাঁচাতে হয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করতে করতে হবে।’

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই চলচ্চিত্র থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু আজ চলচ্চিত্র যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, আমার মনে হচ্ছে, আমরা সংকটকাল পার করছি। আমি একা কিন্তু কিছুই করিনি, আমার পাশে বসে আছেন রিয়াজ ভাই, সাইমন, ইমন—তাঁরাই কিন্তু আমাকে আজ এখানে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। আর কাঞ্চন ভাইকে অনেক ধন্যবাদ, তিনি এই সময় এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’ নিপুণ আরও বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথাই বলব, যদি আমার প্যানেল নির্বাচিত হয়, তাহলে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে এফডিসিতে আনব। তিনি ছাড়া এফডিসিকে বাঁচানো আর সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীকে দেখাব, তাঁর বাবার গড়া এফডিসি এখন কী অবস্থায় আছে। আমার মনে হয়, তিনি যদি একবার আসেন, তাহলে পুরো এফডিসির চেহারা পাল্টে যাবে।’

default-image

কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন সাইমন সাদিক। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে ইমন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নিরব এবং এই প্যানেলে থাকবেন রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, সুচরিতা, রোজিনা, নূতন, সম্রাট, জেসমিন, আফজাল শরীফ, গাঙ্গুয়াসহ অনেকেই। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক নেতা খোরশেদুল আলম, শামসুল আলম, পরিচালক বদিউল আলম প্রমুখ। ১১ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন কাঞ্চন-নিপুণ। তারপর আনুষ্ঠানিক প্যানেল ও ইশতেহার ঘোষণা করবেন তাঁরা।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন