default-image

ঈদের শপিং করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। করোনায় বিনোদন অঙ্গনসহ দেশে প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। করোনায় আক্রান্ত মানুষ বাড়ায় একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকার বিকল্প নেই। পরিবার ও নিজেকে করোনামুক্ত রাখতে ভিড়ের মধ্যে যাবেন না তিনি। শপিং নিয়ে কোনো আফসোস নেই তার।   
শৈশব থেকেই ঈদের কেনাকাটার তালিকা তৈরি করতেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। অভিনয় শুরু করার পর পরিচিতি বাড়তে থাকে। লম্বা হতে থাকে তালিকা। সেই তালিকা হাতে নায়িকা মাহি বোরকা পরে ছুটতেন শপিং মলে। তিনি জানান, এবার ঈদে নিজের ও পাশের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত তিনি। করোনার মধ্যে এমনিতেই সবকিছু নিয়েই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এখন কাজ ছাড়া একদমই বের হচ্ছেন না তিনি। এ জন্য বাতিল করেছেন চারটি সিনেমার শুটিং। তিনি বলেন, ‘লকডাউনে খুলে দেওয়ামাত্রই মার্কেটগুলোতে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। সবাই যেভাবে শপিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, সেগুলো দেখেই ভয় লাগে। ছবিতে কোনো সামাজিক দূরত্ব নেই। সব জায়গায় ভিড়। অথচ আমাদের করোনা এই শপিং থেকেও এবার ছড়িয়েছে। এই সময়ে শপিংয়ে বাইরে যেতে চাই না। বাসায়ই আছি। ভাবছি এবার কোনো শপিং করব না।’

বিজ্ঞাপন
default-image

লকডাউন শুরুর আগে থেকেই মাহি বাসায় রয়েছেন। কোনো শুটিং করছেন না। কিছু সিনেমার ডাবিং ও ঈদের কিছু কাজে তাঁকে স্বল্প পরিসরে বাইরে যেতে হচ্ছে। খুব সতর্কতা নিয়ে সেসব কাজ করছেন। মাহি বলেন, ‘করোনায় আমাদের সবার কমবেশি ক্ষতি হচ্ছে। কিছু অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, আমাদের দেশের অনেক গুণী মানুষ মারা যাচ্ছেন। সম্প্রতি করবী আপা মারা গেলেন। চাইলেও ঢালিউডে আরেকজন কবরী আপা তৈরি করা সম্ভব না। আপার শরীরে তো আমাদের মতোই কারও না কারও কাছ থেকে করোনা ভাইরাস গেছে। এই মুহূর্তে অন্যকে বাঁচাতে নিজেকে সচেতন থাকতে হবে। একবার শপিং না করলে আমাদের খুব বেশি ক্ষতি হবে না।’

default-image

পরিবারকে সময় দিয়েই কেটে যাচ্ছে মাহির দিন। তবে খুবই একাকী লাগলে মা-বাবাকে নিয়ে লং ড্রাইভে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। এবার ঈদ শ্বশুরবাড়ি নাকি নিজেদের বাড়িতে করছেন? মাহি বলেন, করোনায় আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও আমার স্বামীর পরিবারের অন্যদের জন্য আমার যাওয়াটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। আমার স্বামী ঈদের দিন রাজশাহীতে আসবে, এভাবেই পরিকল্পনা হয়েছে।’

এই অভিনেত্রী ২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ভালোবাসার রঙ’ সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ‘অগ্নি’, ‘দেশা দ্য লিডার’, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমাগুলো দিয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে সমানতালে অভিনয় করে গেলেও ঈদের সিনেমা নিয়ে তাঁর আফসোস রয়েছে। তিনি বলেন, একজন নায়িকা ক্যারিয়ারে কয়টা ঈদ পান। এর মধ্যে দুইটা বছরের ঈদ চলে যাচ্ছে করোনায়। কয় বছর ধরে আমার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। এখন সিনেমা প্রস্তুত থাকলেও মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কষ্টগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই।’

default-image
বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন