এই লকডাউনে অনেকের মতো মুনমুনের হাতের টাকাও ফুরিয়ে যায়। দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে সংসার তাঁকেই চালাতে হতো। অনেক দিন ধরেই স্বামীকে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সিনেমা বানানোর জন্য টাকা খরচ না করে ব্যবসা শুরু করার। তিনি শোনেননি। এমনকি সংসারের খরচও দিচ্ছিলেন না। উপায় না দেখে স্টেজ ও যাত্রায় নাচ শুরু করলেন ঢালিউডের এক সময়ের নায়িকা মুনমুন। একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়, ‘আর পারলাম না।’ ব্যস, বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের।

default-image
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি মুনমুন ও তাঁর স্বামী মীর মোশাররফ হোসেনের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। মডেল, অভিনেতা ও প্রযোজক মোশাররফ হোসেনের ঠিকানায় বিচ্ছেদ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন মুনমুন। যদিও এর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না মোশাররফ। তবে মুনমুন জানালেন বিচ্ছেদের পেছনের এক দুঃখজনক গল্প। মুনমুন বলেন, ‘তাঁর “পাগল প্রেমিক” ছবিটি নিয়েই আমাদের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। অনেক টাকা বিনিয়োগ করেও সে ছবিটি নিয়ে এগোতে পারছিল না। এদিকে লকডাউনে আমার হাত প্রায় শূন্য হয়ে আসে। তাঁকে বলেছিলাম, ছবির চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যবসা–বাণিজ্যের কথা ভাবতে। সে ব্যবসা নয়, সিনেমা নিয়েই থাকতে চায়। তখন আমার কাছে মনে হল আমি আর পারলাম না।’ মুনমুনের অভিযোগ, স্বামী হিসেবে সে পরিবারকে না দিত সময়, না দিত পরিবারের খরচ। সংসার চালাতে মুনমুনকে স্টেজ ও যাত্রায় নাচতে হতো। আর মোশাররফ তাঁর নিজের রোজগারের টাকা ঢালতেন সিনেমা নির্মাণের পেছনে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ঈদের দুদিন আগে মুনমুনের ভাইয়ের কাছ থেকে বিচ্ছেদের চিঠি পান মোশাররফ হোসেন। হঠাৎ করে এমন চিঠি পেয়ে তিনি হতবাক। আলাদা থাকলেও বিচ্ছেদের চিঠি পাবেন, এমনটা তিনি ভাবেননি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুনমুনের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। আমাদের বোঝাপড়ায় কিছুটা সমস্যা ছিল, তবে সেটা বিচ্ছেদের মতো কিছু না। আমি তাঁকে যতটা সময় দিয়েছি, কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে ততটা সময় দেয় না। তারপরও আমি কেন, কীভাবে তাঁর কাছে খারাপ হলাম, জানি না।’ তার দাবি, নিজের রোজগারেই তিনি সংসার চালাতেন। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে আমি তাঁকে কোনো প্রেশার দিইনি। তাঁর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতাম না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করতাম তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবেই। মোশাররফের সঙ্গে মিলে যায় মুনমুনের কথাও। তিনিও জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতেন না মোশাররফ।

বিয়ে বিচ্ছেদের কারণে ‘পাগল প্রেমিক’ ছবিটি থেকেও বিচ্ছিন্ন হতে পারেন মুনমুন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, মিডিয়ায় আর কাজ করবেন না। তবে শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সাবেক স্বামীর পাশে থাকবেন তিনি। মুনমুন বলেন, ‘তাঁর অনেক দিনের স্বপ্ন ফিল্মের হিরো হবে। অনেক স্ট্রাগল করেছে সে। আমি চাই, সে একটা ভালো পজিশনে যাক, স্বপ্ন পূরণ করুক। কিন্তু আমি তাঁর সঙ্গে আর তাল মেলাতে পারছি না। সে কখনো আমাদের দায়িত্ব নেয়নি। আমি একাই সন্তান এবং সংসার সামলাতে চাই। সে ফিল্ম সামলাক।’ মুনমুন জানান, গত ৯ বছর বহুবার তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করছেন তাঁর সাবেক স্বামী। সংসার টেকাতে সেসব নীরবে সহ্য করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি স্ত্রী–সন্তানদের সাধ্যমতো দিয়েছি। তা ছাড়া মুনমুন বিভিন্ন সময় আমার নামে অভিযোগ করেছে, আমি নাকি তাঁর গায়ে হাত তুলেছি, যা মিথ্যা।’ বিচ্ছেদের কারণ তাহলে কী? মোশাররফ বলেন, ‘আমি তো সিনেমার লোকদের চিনি। আমার স্ত্রী কার সঙ্গে কোন কাজ করলে নিরাপদ থাকবে, সেটা আমি বুঝি। আমি এক প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করতে তাঁকে নিষেধ করেছি। সে কারণে হয়তো মাইন্ড করে বিচ্ছেদের চিঠি দিয়েছে। সে প্রতিটি সাক্ষাৎকারে আমার প্রশংসা করেছে। তাহলে হঠাৎ আমাকে না জানিয়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল?’ কেন নিয়েছেন মুনমুন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো কোনো ইস্যু না।’

বিজ্ঞাপন
default-image

২০০৩ সালে সিলেটের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে যুক্তরাজ্যে চলে যান মুনমুন। ২০০৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। দেশে ফিরে আবারও বিনোদন অঙ্গনে কাজ শুরু করেন তিনি। যাত্রায় অভিনয় করতে গিয়ে পরিচয় হয় মীর মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। যাত্রার এই অভিনেতা একদিন সিনেমার হিরো হবেন, সেই প্রত্যাশা নিয়ে ২০০৯ সালে তিনি বিয়ে করেন মোশাররফকে। বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাঁদের দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। সম্প্রতি ভেঙেই গেল তাঁদের সংসার। সালমান ও যশ নামে তাঁদের দুই ছেলে আছে। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৮ ও ৯ বছর। দুজনই মায়ের সঙ্গে থাকে।

মন্তব্য পড়ুন 0