ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর প্রদর্শনী বন্ধ, উদ্বিগ্ন নির্মাতারা’

সিনেমাটি প্রদর্শন না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও আশফাক নিপুন। কোলাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ শনিবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবিটির প্রদর্শনী স্থগিত করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আপাতত প্রদর্শনী স্থগিত করেছে। তবে শিগগিরই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই সংগঠনের সদস্য। এক বছর ধরে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছিলেন তাঁরা। সংগঠনটি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর আয়োজন করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার জেলার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি প্রদর্শন না করার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা পোস্ট করেছেন। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও আশফাক নিপুন।

প্রথম আলোর একটি খবরের লিংক শেয়ার করে আজ দুপুরে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে রেদওয়ান রনি লিখেছেন, ‘শুধু “বনলতা এক্সপ্রেস” নয়, দেশের সব চলচ্চিত্রের জন‍্য এ ঘটনা চরম উদ্বেগজনক! আজ এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করলে অদূর ভবিষ্যতেই এটা চলচ্চিত্র উন্নয়নের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তথ‍্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব‍্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। শো মাস্ট গো অন।’

আরও পড়ুন

নির্মাতা আশফাক নিপুন সমসাময়িক নানা ঘটনা নিয়ে বরাবরই সামাজিক মাধ্যমে সরব। এ ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন তিনি। আশফাক নিপুন লিখেছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “বনলতা এক্সপ্রেস” চলচ্চিত্রের প্রদর্শন জেলার কওমা ছাত্র ঐক্য পরিষদ নামের কতিপয় ফ্রিঞ্জ এলিমেন্টের কারণে বন্ধ হওয়ায় “বনলতা এক্সপ্রেস” টিমের বিশেষ কোনো অর্থনৈতিক ক্ষতি নাই। এই ছবি দেশে–বিদেশে যত মানুষ দেখছে, ভালোবাসছে, ব্যবসা করছে, তাতে কোনো এক জেলায় না দেখালেও মোটা দাগে কোনো লস নাই তাদের। ক্ষতিটা কাদের? অবশ্যই যারা মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের এবং অতি অবশ্যই বর্তমান সরকারের। জনগণের ভোটে নির্বাচিত যে সরকার তাদের প্রধানমন্ত্রীর কন্যাসমেত ঢাকায় সিনেপ্লেক্সে ছবি দেখতে যাওয়াকে ব্যাপকভাবে সেলিব্রেট করেন, সেই সরকারের প্রথম ১২০ দিনের মধ্যেই দেশে–বিদেশে দারুণভাবে সমাদৃত ১০০ ভাগ খাঁটি দেশীয় ছবির স্থানীয় প্রদর্শন বন্ধ হওয়া পুরাপুরি বিপরীতমুখী বার্তা দেয়। ইংরেজিতে যাকে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলে।’

‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর পোস্টার থেকে। নির্মাতার সৌজন্যে

সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্মাতা আরও লিখেছেন, ‘সরকারকে যদি নাগরিকদের কাছে প্রমাণ করতে হয় তারা সংস্কৃতিবান্ধব, তাহলে কথায় কথায় যা মন চায় তাই বন্ধ করার সংস্কৃতিকে আইনগতভাবেই দমন করতে হবে এবং সেটা শুধু এই এক ছবিকে প্রদর্শিত হতে দিয়ে না, বরং ভবিষ্যতে কোনো ছবি যদি “বনলতা এক্সপ্রেস”–এর মতো পপুলার না–ও হয়, সেটাও যেন প্রদর্শিত হতে পারে, যেকোনো মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা যেন বিকশিত হতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।’

আরও পড়ুন

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবিটির প্রদর্শনী না করতে যে প্রচার চলছে, সেটা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন সিনেমাটির নির্মাতা ও প্রযোজক তানিম নূরও। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘তারা আমার ছবির পোস্টারে ক্রস চিহ্ন দিয়ে প্রচার করছে, উগ্রবাদী কথাবার্তা বলছে। এটা তো তারা করতে পারে না। ভয়ংকর ব্যাপার, এটা পুরোপুরি বেআইনি। কেউ যদি চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সনদ পাওয়া কোনো ছবি নিষিদ্ধের কথা বলে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’