জন্মদিনের রাতে স্ত্রী পরীমনির কাছ থেকে একটি উপহারও পেয়েছেন বলে জানান রাজ। তবে সেটি কী, তা প্রকাশ করতে চাননি এই অভিনেতা, ‘উপহার হিসেবে পরী যে জিনিসটি আমাকে দিয়েছে, তা পৃথিবীর কাউকে বলতে পারব না।’

জন্মদিনের পুরো দিনটিই পরিবারের তিনজন মিলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছেন রাজ। জানালেন পরিবার হওয়ার আগে একসময় ধানমন্ডি ১৫ নম্বর, রবীন্দ্রসরোবর, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মেরে, গল্প করে সময় কেটেছে তাঁর। জন্মদিনে তিনজন মিলে সেসব জায়গায় ঘুরেছেন। বলেন, ‘আমি একসময় যেসব জায়গা থেকে এ পর্যায়ে উঠে এসেছি, জায়গাগুলো আমার পরিবারের সদস্যদের দেখিয়েছি। কারণ, আমি খুবই স্মৃতিকাতর মানুষ, আবেগপ্রবণ মানুষ।’

এ প্রসঙ্গ ধরে রাজ আরও বলেন, ‘একসময় ঢাকায় আমার থাকার জায়গা ছিল না। মহাখালীসংলগ্ন একটি শুটিং হাউস ছিল পরিচালক রেদওয়ান রনি ভাইয়ের। ওখানেই রাতে ঘুমাতাম। যেদিন রাতে হাউসে শুটিং থাকত, আমি মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে একটি জায়গায় সেদ্ধ ডিমের দোকানে শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত সময় কাটাতাম। এভাবে অনেক দিন ভোররাতে গিয়ে হাউসে ঘুমিয়েছি।’

বউ ও সন্তানের সঙ্গে প্রথম জন্মদিন উদ্‌যাপনের দিনে নিজেকে সৌভাগ্যবানও বললেন আবার দুর্ভাগ্যবানও বললেন রাজ। বোঝা গেল কথার মধ্যে কোথাও যেন একটু দুঃখবোধও কাজ করছে এই অভিনেতার।  

এ প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘আমার আর্থিক অবস্থাটা যদি আরও ভালো থাকত, তাহলে আমার সংসার, আমার স্ত্রী, সন্তানকে আরও বেশি সময় দিতে পারতাম, কেয়ার নিতে পারতাম। এখন আমাকে শুটিংয়ে যেতে হয়, কাজে যেতে হয়। এসবের ফাঁকে ফাঁকে পরিবারকে সময় দিতে হয়। আমি যদি পুরো সময়টাই পরিবারকে দিতে পারতাম, তাহলে আমার ভালো লাগত। এ কারণে দুর্ভাগ্যের কথা বললাম।’

একসময় ঢাকায় আমার থাকার জায়গা ছিল না। মহাখালীসংলগ্ন একটি শুটিং হাউস ছিল পরিচালক রেদওয়ান রনি ভাইয়ের। ওখানেই রাতে ঘুমাতাম। যেদিন রাতে হাউসে শুটিং থাকত, আমি মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে একটি জায়গায় সেদ্ধ ডিমের দোকানে শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত সময় কাটাতাম। এভাবে অনেক দিন ভোররাতে গিয়ে হাউসে ঘুমিয়েছি

রাজের স্ত্রী পরীমনির ফেসবুকে লেখা দুটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিদ্যা সিনহা মিম ঘোষণা দিয়েছেন রাজের সঙ্গে আর কাজ করবেন না। এ ব্যাপারে রাজ বলেন, ‘আমি এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। কারণ, এ বিষয় নিয়ে আমি প্রশ্ন জন্ম দিই নাই, কাউকে কিছু বলি নাই। এই বিষয়টি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজ, আমার পরিবার। আর এটি আমি আমার বাবা-মার কাছ থেকে শিখেছি। সংসার, পরিবার মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। সংসার সবার আগে। আমার বাবাকে দেখছি সংসারকে অগ্রাধিকার দিতে। সারাটা জীবন সংসারের জন্য কাজ করে গেছেন বাবা। আমার জীবনটাও এর বাইরে নয়।’

রাজ আরও বলেন, ‘অন্য কোনো কিছু নিয়ে আমার আক্ষেপ নাই। বাট এ কয়েক দিন ধরে যা যা হয়েছে, কেন হয়েছে, কী কারণে হয়েছে—এসবের উত্তর আমার কাছে নাই। যদি থাকত বলতে পারতাম, এই কারণে এই সব হয়েছে। যেহেতু এসব ঘটনা আমার কাছ থেকে প্রকাশ হয় নাই, তাই এসব নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নাই।’
কিন্তু এসব ঘটে যাওয়া ঘটনা ধরেই তো অনেকে আবার বলছেন পরী-রাজের সংসারে ভাঙনের সুর বাজছে।

এ ব্যাপারে খানিকটা মজা করেই রাজ তাঁর ভাষ্য দিলেন, ‘কারা কারা আমাদের ভাঙনের সুর শুনছেন, তাঁদের আমি বাসায় দাওয়াত দিতে চাই। যাঁরা যাঁরা আমাদের ভাঙন চাইছেন, বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন, আনন্দ পাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে গল্প করতে চাই, আড্ডা দিতে চাই। তাঁরা আমার সামনে এসে বলুন, আমাদের সংসার ভাঙনের মুখে। তবে এঁরা কারা, তাঁদের আমি চিনি, জানি।’

কিন্তু আপনার স্ত্রী পরীমনির সম্প্রতি দুটি স্ট্যাটাস নিয়ে কী বলবেন? এমন প্রশ্নে রাজের বক্তব্য, ‘আমার ঘরে বউ, বাচ্চা রেখে আমি সারা রাত ধরে অন্য মেয়ের সঙ্গে কেন কথা বলব? কেন প্রেম করব? আরে আমি তো সেই রকম ছেলে না, লুকিয়ে প্রেম করব। কোনো মেয়ে পছন্দ হলে পরীকেই সরাসরি বলতে পারি। কিন্তু আমার তো এখন পরিবার আছে। আমি পরিবার রেখে এসব করব কেন? পরী হয়তো তাঁর আবেগ, অভিমানের জায়গা থেকে এসব করেছে। তবে সেটার দায়িত্ব আমি নেব না। নিতে চাইও না।’

কারা কারা আমাদের ভাঙনের সুর শুনছেন, তাঁদের আমি বাসায় দাওয়াত দিতে চাই। যাঁরা যাঁরা আমাদের ভাঙন চাইছেন, বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন, আনন্দ পাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে গল্প করতে চাই, আড্ডা দিতে চাই।

রাজের কথা, সিনেমার প্রচারে আজ মিমের হাত ধরেছি, কাল আরেক ছবিতে অন্য নায়িকার হাত ধরতে হতে পারে। সিনেমা করতে গেলে এটা থাকবেই। কারণ,  সিনেমা আমার কাজ, পেশা। সুতরাং এখানে এই হাত ধরাধরিটা সাধারণ ব্যাপার।
দুঃখ করে রাজ আরও বলেন, ‘এটি নিয়ে অনেক ইস্যু হয়ে গেল। হঠাৎ কেন এসব কাহিনি এল, তা–ও জানি না। কীভাবে সামলাতে হয়, তা–ও আমার জানা নাই। মোটকথা, এসব নিয়ে আমার কোনো উত্তর নাই। এক সপ্তাহ ধরে মানুষ আমাকে পাগল করে দিয়েছে। এর উত্তর চেয়েছে। কিন্তু আমি কারও ফোনই ধরিনি। ঘটনাটি সত্যি হলে উত্তর দিতাম। সবার ফোন ধরতাম। আমি পরীকে সম্মান করি, সংসারকে সম্মান করি। আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও পরিবার, সংসারকে সম্মান দিয়ে যাব।’

এই অভিনেতা মনে করেন, ‘যে ঘটনা ঘটে গেল, একটা সময় পরী কাজে ফিরবে, এসব নিয়ে তার ঝামেলা হবে না। মিমেরও ঝামেলা হবে না। যার যার মতো কাজ করবে তারা। সমস্যা হবে তার, যে মানুষটি কোনো কিছুই জানে না, কোনো কিছুই করল না, তাকে নিয়ে এখন মানুষ মুখরোচক সব গল্প বানাচ্ছে, নিউজ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোনো মিডিয়া নাই, এসব নিয়ে খবর প্রকাশ হয়নি, যা আমাকে ফেস করতে হচ্ছে। কাজটি না করেও আমাকে ফেস করা লাগছে। যদি আমার জীবনে এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে আমি মানতে পারতাম। কিন্তু না করেই ফেস করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও পরী দুজনে একসময় প্রচুর পাগলামি করেছি। কিন্তু এখন তো আমাদের পরিবার হয়েছে। পরিবারে তিন মাসের নতুন সদস্য এসেছে। সব পাগলামি বন্ধ করে সংসার করছি। ঠিক সেই সময় এমন ঘটনার জন্ম আমার জন্য কষ্টদায়ক।’