শাকিব, শুভ, সিয়ামরা একসঙ্গে এলে ৫ কোটি মানুষ দেখবে

‘জ্যাজ সিটি’তে প্রশংসিত হয়েছে আরিফিন শুভর অভিনয়। শেষ করেছেন ঈদুল আজহার সিনেমা ‘মালিক’–এর শুটিং। আরেক সিনেমা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ও আছে মুক্তির অপেক্ষায়। বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক প্রকল্পে কথা চলছে। শুভর সাম্প্রতিক খোঁজখবর নিয়েছেন মনজুর কাদের

আরিফিন শুভ। ছবি: ফেসবুক

সনি লিভ-এ মুক্তি পাওয়া ‘জ্যাজ সিটি’তে জিমি রায়ের চরিত্রে আরিফিন শুভর লুক, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পছন্দ করেছেন ভক্ত থেকে দেশের অনেক তারকা। কেউ তো এমনও বলেছেন, দেশের পরিচালকেরা কেন শুভকে পর্দায় এভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না! তাঁকে নিয়ে দেশের পরিচালকদেরও আলাদা করে ভাবা উচিত। অথচ সিরিজটিতে নিজের চরিত্রটি নিয়ে শুভর প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না, ‘খুবই নার্ভাস ছিলাম। কারণ, এটা আমার কমফোর্ট জোনের বাইরের এলাকা। ভিন্ন লোকেশন, ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা। তারপরও শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

আরিফিন শুভ
ছবি : আরিফিন শুভর সৌজন্যে

ভারতীয় টিমের সঙ্গে আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। তবে মুজিব–এর অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন উল্লেখ করে এই তারকা বললেন, শ্যাম বেনেগালের মতো পরিচালকের ইউনিট আর অন্য ইউনিট এক নয়। ৮৫ বছর বয়সী একজন মানুষের সঙ্গে কাজ আর এই সময়ের পরিচালকের সঙ্গে কাজের ধরন পুরোপুরি ভিন্ন।
সৌমিক সেন পরিচালিত সিরিজটির শুটিং হয়েছে মুম্বাই ও পশ্চিমবঙ্গে। প্রকল্পটির জন্য শুভকে দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন। অনলাইন প্রশিক্ষকের মাধ্যমে হিন্দি ও উর্দু শেখার ক্লাস করেছেন। শুভ বলেন, ‘কেউই হয়তো ভাবেননি, এমন সাড়া ফেলবে বা মানুষ এতটা পছন্দ করবেন। আমাদের এখানে অনেকেই সরাসরি বলিউডে কাজ করেননি।’
সামনে নতুন কিছু কাজ নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে সেগুলো নিয়ে এখনই কিছু বলতে চান না শুভ।

আরিফিন শুভ
ছবি : আরিফিন শুভর সৌজন্যে

কেন ঈদকেন্দ্রিক
ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘মালিক’–এর শুটিং শেষ হয়েছে। সাইফ চন্দন পরিচালিত ছবিটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ শুভ। গেল কয়েক বছরে ঢালিউডে ঈদকেন্দ্রিক সিনেমার প্রবণতা নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, বড় প্রযোজনা ও তারকানির্ভর ছবিগুলো মূলত ঈদের জন্য তৈরি হচ্ছে।

সারা বছর সিনেমা নির্মাণ না হওয়ায় আক্ষেপ করলেন শুভ। জানালেন, শিল্পীরা উৎসবকেন্দ্রিক কাজের জন্য বসে থাকেন না। তাঁর ভাষায়, ‘সারা বছরই তো কাজ হওয়া উচিত। দর্শকও আছেন। দর্শক অনেক সময় ভাবেন, আমরা চাই না কাজ হোক, বাস্তবতা তা নয়। ছবির অর্থলগ্নিকারক ও প্রযোজকদেরই এসব নিয়ে ভাবতে হবে।’ ঈদ ছাড়াও পয়লা বৈশাখ, ক্রিসমাস, পূজা বা ভালোবাসা দিবসের মতো উৎসবে সিনেমা নির্মাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান শুভ। তিনি বলেন, টেলিভিশনে যেমন সারা বছর বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করা হয়, সিনেমাতেও আগে এমন ধারাবাহিকতা ছিল, এখন কমে গেছে।

শুভর মতে, বছরে পাঁচ–ছয়টি ভালো কাজ নিয়মিতই করা সম্ভব। তবে ঈদে যে ধরনের বড় কাজ হয়, সেটি অন্য সময়ে প্রত্যাশা করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, কেন সারা বছর সিনেমা নির্মাণের সেই ধারাবাহিকতা আর নেই—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই, সরকারেরও ভাবা উচিত।

আরও পড়ুন

‘ঠিকানা বাংলাদেশ’, অন্য রকম অভিজ্ঞতা
মুক্তির অপেক্ষায় আরিফিন শুভর ঠিকানা বাংলাদেশ। ২০১৯–২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদানের সিনেমাটির নাম শুরুতে ছিল ফুটবল ৭১। শুভ জানালেন, ছবিটি ঈদের পর যেকোনো সময় মুক্তি পেতে পারে।

সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভ জানান, এটি একেবারেই ভিন্নধর্মী একটি গল্প। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, স্পোর্টসম্যানশিপ, প্রণয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে। তাঁর ভাষায়, নির্মাতা হিসেবে অনম বিশ্বাস যেভাবে কাজ করেন, তাতে ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা রাখাই যায়।

এ সময় পরিচালকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন শুভ। তাঁর মতে, বাংলাদেশে যেসব পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অনম বিশ্বাস ও তানিম নূর—দুজন অমায়িক ও মেধাবী। ওটিটি কনটেন্ট কন্ট্র্যাক্ট–এ তানিম নূরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শুভ জানান, ‘আমাদের দেশের অনেক শুটিং সেটে দেখা যায়, নায়কেরা সময়মতো না এলে তিনি বড় নায়ক। আবার পরিচালকেরা একটু হাইপার না হলে বুঝি বড় পরিচালক হন না। কিন্তু তানিম নূর একেবারেই ব্যতিক্রম—অত্যন্ত ঠান্ডা, ভদ্র এবং মিষ্টভাষী একজন পরিচালক। অনম বিশ্বাস তো খুব কম কথা বলেন, কিন্তু কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী।’

আরিফিন শুভ
ছবি : আরিফিন শুভর সৌজন্যে

এক ফ্রেমে দেখার স্বপ্ন
গেল বছরের ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় আরিফিন শুভ অভিনীত আরিফিন শুভর ‘নীলচক্র’, একই উৎসবে মুক্তি পায় শাকিব খানের ‘বরবাদ’। এবার ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শুভর নতুন ছবি ‘মালিক’, একই সময়ে আসছে শাকিব খানের বড় প্রজেক্ট ‘রকস্টার’। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও পুরোনো একটি আলোচনা, ‘শাকিব খানের মুখোমুখি আরিফিন শুভ’ কেউ কেউ এটিকে সরাসরি দুই তারকার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন, কারও মতে, শাকিবের সঙ্গে তুলনা করাটাই অপ্রয়োজনীয়। তাঁদের মতে, প্রতিটি সিনেমার নিজস্ব দর্শক আছে—তাই প্রতিযোগিতা হোক ছবির সঙ্গে ছবির, শিল্পীর সঙ্গে নয়। শুভ বললেন, ‘এই যে একধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়, এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর—এই ধরনের র‌্যাঙ্কিং মূলত চাপিয়ে দেওয়া, যা ঘোড়ার রেসের মতো প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত। শিল্পীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।’

আরও পড়ুন

শুভ জানালেন, তিনি এখন আর ‘পৃথিবীর জন্য বাঁচা’র চাপ অনুভব করেন না, বরং নিজের মতো করে কাজ করতে চান। তাঁর মতে, একজন দর্শক একই সঙ্গে শাকিব খান, শরীফুল রাজ, সিয়াম কিংবা অন্য যেকোনো শিল্পীর সিনেমা দেখতে যেতে পারেন। তিনি বলেন, দর্শককে ভাগ করে দেখার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। তাঁর মতে, শাকিব খান, আরিফিন শুভ, সিয়াম, রাজ, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী—সবাই যদি একসঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করেন, তা দেশের সিনেমার জন্য বড় অর্জন হতে পারে।

এটা কি আদৌ সম্ভব? শুভ বললেন, ‘সঠিক চরিত্রায়ণ ও শক্তিশালী চিত্রনাট্য থাকলে কোনো শিল্পীই এমন প্রজেক্টে না করবেন না।’ তাঁর মতে, সমস্যা শিল্পীদের অনাগ্রহে নয়, বরং বড় পরিসরের প্রযোজনা ভাবনা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। তিনি বলেন, ‘যদি শাকিব খান, শুভ, রাজ, সিয়াম, মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো শিল্পীরা একসঙ্গে কাজ করেন, কমপক্ষে দেশের ২০ কোটি মানুষের পাঁচ–ছয় কোটি মানুষ ছবিটা দেখবেই। কারণ, দর্শকের আগ্রহ আছে, দরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ।’

আরিফিন শুভ
ছবি : আরিফিন শুভর সৌজন্যে

সময় কাটে যেভাবে
শুভকে যাঁরা চেনেন, তাঁর ফিটনেস সচেতনতার খবরও তাঁরা জানেন। শুভ বলেন, ‘যদি কোনো দিন চাঁদেও থাকি, সেখানেও জিম বের করব। শুধু ফিটনেসের জন্য হলে এত বছর নিয়মিত থাকতে পারতাম না। মানসিক প্রশান্তির জন্য জিমে যাই। ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি মাকে কবরে শোয়ানোর পরদিনই কস্টিউম ট্রায়াল দিয়েছি, ২৭ তারিখে শুটিংয়ে গেছি—এটা পারতাম না, যদি মানসিকভাবে শক্ত না থাকতাম। জিম, শরীরচর্চা বা দৈহিক প্রশিক্ষণ—সবকিছুর মূলে মানসিক প্রশান্তি।’

জিমের বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে, সিনেমা ও সিরিজ দেখে সময় কাটান শুভ। জানালেন, নিজের অভিনীত জ্যাজ সিটি সিরিজটি দেখে তাঁর ভালো লেগেছে। পাশাপাশি সম্প্রতি দেখা ‘স্বপ্নে ভার্সেস এভরিওয়ান’ও দেখেছেন। শুভ বলেন, ‘মূল অভিনয়শিল্পীই এটার লেখক ও পরিচালক। একজন অভিনেতা হয়েও তিনি (অমব্রিশ ভার্মা) যেভাবে কাজ করেছেন, তা সত্যিই দারুণ। তাঁর মধ্যে আমাদের নায়ক আলমগীর সাহেবের ছাপ খুঁজে পাই। তিনিও ছিলেন একজন সফল নির্মাতা।’