ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়কের নাম সালমান শাহ। অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন মানুষের মন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর একে একে উপহার দিয়েছেন ২৭টি চলচ্চিত্র। মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহ যেন আরও বেশি করে আলোচনার বিষয় হয়েছেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন এই নায়ক। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। কিন্তু প্রিয় সহশিল্পী ও জনপ্রিয় জুটি শাবনূরের কাছে এখনো যেন বিশ্বাস হয় না সালমান নেই। সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন শাবনূর।
শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’ সালমানের কথা মনে করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘এত বছর পেরিয়ে গেলেও তোমার স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। পর্দার সেই প্রিয় রাজপুত্র, মানুষের ভালোবাসার সেই স্বপ্নের নায়ক তুমি আজও বেঁচে আছো আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের ভালোবাসায়। তোমার অকালপ্রয়াণে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’
শাবনূরের মতে, সময় চলে গেছে, প্রজন্ম বদলেছে; কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া এখনো মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জীবন্ত। প্রিয় সহশিল্পীর উদ্দেশে তাঁর শেষ কথা, ‘যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ।’
সালমান-শাবনূর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দায় তাঁরা এতটাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন যে একসময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাবনূর বরাবরই সেই গুঞ্জন নাকচ করে এসেছেন। তাঁর দাবি, সালমানকে তিনি সব সময় ভাইয়ের মতোই দেখেছেন। সম্প্রতি সালমানের মা নীলা চৌধুরীও বলেছেন, শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান শাহ।
সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিও এখনো মনে আছে শাবনূরের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তা বলেছেনও। শাবনূরের মতে, ‘সালমানকে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন মৌসুমী আপুর সঙ্গে শুটিং করছিল। আসা-যাওয়ার মধ্যেও দেখা হতো। তবে খুব একটা কথা হতো না। তখন শুনেছি, ফিল্মে সালমান শাহ নামে নতুন একজন হিরো এসেছে। আনুষ্ঠানিক পরিচয় “তুমি আমার” ছবিতে অভিনয় করার সময়। তখন কাজের কারণে বন্ধুত্ব হয়। আমাদের প্রথম ছবি “তুমি আমার” মুক্তি পাওয়ার পর সুপারহিট হয়।’
সালমানের মৃত্যুর পরও শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গল্প ডালপালা মেলে। এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে শাবনূরের।
তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’
সালমানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার মুহূর্তটিও আজও ভুলতে পারেননি শাবনূর। সেদিন তিনি ছিলেন বাসায়। হঠাৎ একজন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রথমে কথাটি বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। শাবনূর বলেন, ‘হঠাৎ করে কে যেন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছে। আমি উল্টো ধমক দিয়ে বলি, কী বলে এসব! আমার ছোট বোন বাইরে গিয়ে সালমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে আসে। আমি তখন পুরোপুরি হতবাক হয়ে যাই। এরপর এফডিসিতে সালমানকে দেখতে যাই।’