শাকিবের সিনেমায় মরুভূমিতে রামদার কোপে হত্যা, গলা কাটার দৃশ্য এল কোথা থেকে
মুক্তির প্রায় দেড় মাস পর ‘প্রিন্স’ সিনেমার সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। কেন? খোঁজখবর করলেন মকফুল হোসেন
ঈদুল ফিতরে সিনেমা হলে মুক্তি পায় ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ।
তার আগে গত ১৬ মার্চ কর্তন সাপেক্ষে সিনেমাটিকে ‘অ্যাডাল্ট’ সনদ দিয়েছিল সার্টিফিকেশন বোর্ড। সেই তারাই আবার ৬ মে সিনেমাটির সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিত করেছে। সার্টিফিকেশন বোর্ড বলছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা যাবে না।
কর্তন করা দৃশ্য জুড়ে দিয়েছেন প্রযোজক
সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে সিনেমাটির ছাড়পত্র দেওয়ার সময় কিছু দৃশ্য কর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কী কী দৃশ্য ছিল, জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সার্টিফিকেশন বোর্ডের এক সদস্য প্রথম আলোকে জানান, মরুভূমিতে রামদা দিয়ে নির্বিচার মানুষকে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বাদ দেওয়া হয় চাপাতি দিয়ে একজনের হাত ও গলা কাটার দৃশ্য। এসব দৃশ্য বাদ দেওয়ার অঙ্গীকার করে সার্টিফিকেশন সনদ নেন প্রযোজক।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি অঙ্গীকার রক্ষা করেননি। সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপপরিচালক মো. মঈনউদ্দীন প্রথম আলোকে জানান, সিনেমাটি কর্তন করা দৃশ্যসহ সিনেমা হলে প্রদর্শন করেছেন প্রযোজক।
পাশাপাশি সার্টিফিকেশনবিহীন নতুন দৃশ্যও জুড়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সিনেমা হলে গোপন নজরদারি
সিনেমাটিতে সার্টিফিকেশনবিহীন দৃশ্য প্রদর্শিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে সার্টিফিকেশন বোর্ড। সার্টিফিকেশন বোর্ডে থাকা তিন চলচ্চিত্র পরিদর্শক সিনেমাটি দেখতে বেরিয়ে পড়েন। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গোপনে ঢাকার মধুমিতা, যশোরের মণিহার, রংপুরের শাপলা টকিজ, গাইবান্ধার তাজ, সৈয়দপুরের তামান্না, চট্টগ্রামের সুগন্ধা, সিনেমা প্যালেসসহ বেশ কয়েকটি হলে ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি দেখেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সার্টিফিকেশন বোর্ডের এক চলচ্চিত্র পরিদর্শক প্রথম আলোকে জানান, সার্টিফিকেশন সনদ পাওয়া সিনেমার কপিটিও তাঁরা দেখেছেন। কোন কোন দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতেন। হলে সিনেমাটি দেখতে গিয়ে বাদ দেওয়া দৃশ্যগুলোও পেয়েছেন। বেশ কয়েকটি হল ঘুরে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সার্টিফিকেশন বোর্ডে প্রতিবেদন জমা দেন তাঁরা।
সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
মো. মঈনউদ্দীন জানান, তবে প্রযোজক যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিত করা হয়েছে।
পরিবেশক কী বলছে
সিনেমাটির ডিস্ট্রিবিউশন করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। তারা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসকে দায় দিচ্ছে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযুক্তি কর্মকর্তা সৈকত খান বলেন, ‘আমরা সিনেমা প্রদর্শনের মাধ্যম। সিনেমায় কী থাকবে, কী থাকবে না—সেটা প্রযোজকের দায়িত্ব। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।’
এর মধ্যে সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিতের খবর পেয়ে হল থেকে ‘প্রিন্স’ সরিয়ে নিয়েছে লায়ন সিনেমাস। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দেশে কোথাও সিনেমাটি চলছে না।
প্রযোজকের দায় দেখছে সার্টিফিকেশন বোর্ড
এ ঘটনায় প্রযোজক শিরিন সুলতানার দায় দেখছে সার্টিফিকেশন বোর্ড। তিনিই সার্টিফিকেশনবিহীন অংশসহ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে ফোন করা হয়। শিরিন সুলতানা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন, কোনো উত্তর দেননি।