শাকিব–নিশো থেকে ফারিণ–সাবিলা, কী আছে এবারের ঈদের ছবিতে

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে পাঁচ সিনেমা। দেশের আলোচিত শিল্পীদের সিনেমা যেমন আছে, তেমনি গত কয়েক বছরে পরীক্ষিত নির্মাতারাও ফিরছেন নতুন সিনেমা নিয়ে।

ঈদের ৫ ছবিতে কী আছে? কোলাজ

গ্যাংস্টারের গল্প ‘প্রিন্স’
নাম ঘোষণার পর থেকেই শাকিব-ভক্তদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে প্রবল আগ্রহ। নব্বইয়ের দশকের অপরাধজগতের পটভূমিতে তৈরি ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’য় রাজধানীর গ্যাংস্টার–সংস্কৃতির একটি অধ্যায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। শুরুতে ছবিটির বড় অংশের শুটিং ভারতের হায়দরাবাদে হওয়ার কথা ছিল। তবে ভিসা জটিলতার কারণে পরে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ধারণ করা হয় ছবির কিছু অংশ। কিছু অংশের শুটিং হয়েছে কলকাতায়।

সিনেমাটির টিজারে শাকিব খানকে পাওয়া গেছে সহিংসরূপে। শুরুতেই দেখা যায় ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধের চিত্র, এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন প্রিন্স চরিত্রের অভিনেতা শাকিব খান। লম্বা চুল, চোখে সানগ্লাস; অ্যাকশনের মেজাজে প্রিন্স গুলিতে ধরাশায়ী করেন প্রতিপক্ষ আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। টিজারে শাকিবের আরেকটি চেহারা সামনে এসেছে—তুলনামূলক ছোট চুল, লুকও ভিন্ন। এটি কি প্রিন্সের আগের গল্প, নাকি দ্বৈত চরিত্র, সেটা অবশ্য স্পষ্ট করা হয়নি। টিজারে দেখা গেছে আলোচিত ভারতীয় অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যকে; এ ছাড়া শাকিবের দুই নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুরও ঝলক আছে। টিজারের শেষের দিকে প্রিন্সের কণ্ঠে শোনা যায় সংলাপ, ‘আমার সাথে যে ধান্ধা করবে, তার জন্য মিষ্টি আর আমার শত্রুর সঙ্গে যে ধান্ধা করবে, তার জন্য বুলেটের বৃষ্টি।’

‘প্রিন্স’–এর টিজারে শাকিব খান। ভিডিও থেকে

তবে টিজারে গ্র্যাফিকসের কাজ পছন্দ হয়নি অনেকের, কেউ আবার বলছেন তাড়াহুড়ায় টিজার তৈরি করতে গিয়ে এমনটা হয়েছে; সিনেমায় সব পুষিয়ে দেবেন শাকিব। শুরুতে শোনা গিয়েছিল, ‘প্রিন্স’ নব্বইয়ের দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত গ্যাংস্টারের জীবন অবলম্বনে নির্মিত, তবে তা নাকচ করেছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য, ‘এটা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবনী নয়, এটি পুরোপুরি একটি বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা।’

এতে আরও অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ, শরীফ সিরাজসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পী। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ছাড়াও ছবির শুটিং হয়েছে ভারতে।

আরও পড়ুন

টিকে থাকার গল্প ‘দম’
‘সুড়ঙ্গ’, ‘দাগি’র পর এবারের ঈদে নিজের তৃতীয় সিনেমা ‘দম’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন আফরান নিশো। এবার তিনি বেছে নিয়েছেন সারভাইভাল স্টোরি বা টিকে থাকার গল্প। নির্মাতা রেদওয়ান রনির তৃতীয় চলচ্চিত্র দম নির্মিত হয়েছে একটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায়। এর মধ্যেই মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার, যা শুরু হয় ছবির প্রধান অভিনেতা আফরান নিশোর ভয়েস ওভার দিয়ে, গল্প এগিয়ে চলে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে প্রতিকূল পরিবেশে। ভয়েস ওভারে নিশোকে বলতে শোনা যায়, ‘জন্মের পরেই শুরু হয় দমের খেলা। আর মৃত্যুর যহন আপনি খুব কাছাকাছি, তহন দম ধইরা রাখতে যেমন কষ্টের, দম একবারে ছাইড়া দিতে আরও কষ্ট।’ ট্রেলার দেখে বোঝা যায়, নিশো অভিনীত নূর চরিত্রটিকে একটি গোষ্ঠী আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে, না দিলেই হত্যা করা হবে। ঘোষণার সময় থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিল।

‘দম’–এর ফার্স্ট লুকে আফরান নিশো। চরকির সৌজন্যে

বিশেষ করে ১০ বছর পর বড় পর্দায় নির্মাতা রেদওয়ান রনির প্রত্যাবর্তন এবং প্রথমবারের মতো আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো দুই শক্তিশালী অভিনেতার একসঙ্গে পর্দায় আসা সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের মধ্যে বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করেছে। এর আগে পোস্টার ও টিজার দেখে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার প্রশংসার করেছেন দর্শকেরা। ছবিতে নিশোর নায়িকা পূজা চেরী। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন চঞ্চল চৌধুরী।

সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান ও সাইফুল্লাহ রিয়াদ। ছবির বড় অংশের শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে। এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড প্রযোজিত এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি সহপ্রযোজনা করেছে সিনেমাটি।

আরও পড়ুন

পারিবারিক গল্পের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’
গত ঈদুল আজহায় ‘উৎসব’ বানিয়ে ব্যবসায়িক সাফল্য ও প্রশংসা সবই পেয়েছিলেন তানিম নূর। বিশেষ করে ঈদে পরিবারকেন্দ্রিক সিনেমাটির জন্য আলাদাভাবে কথা হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। এবারও এক ঝাঁক তারকাকে নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন। তবে এবার ফ্যামিলি ড্রামা নয়, রোড মুভি। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস কিছুক্ষণ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার টিজার ও ট্রেলার অন্তর্জালে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে টিজার ও ট্রেলারে সিনেমাটির চরিত্রগুলোকে যেভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন নির্মাতা; সেটারও তারিফ করেছেন অনেক দর্শক।

ট্রেনের কামরায় শুরু হয় গল্প। সেখানে মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী আবুল খায়ের খান ও খামখেয়ালি পর্যটক রশীদ উদ্দিন। কথার লড়াই, ব্যঙ্গ আর অদ্ভুত পরিস্থিতির ভেতরেই এগোয় কাহিনি। ‘তাই বলে কবিতা লেখার জন্য তোমার মন্ত্রিত্ব চলে যাবে?’ আলাদা করে আলোচনা হয়েছে ট্রেলারের এই সংলাপ নিয়ে। এ ছাড়া সিনেমাটি নিয়ে তৈরি করা বুকলেটেরও প্রশংসা করেছেন অনেকে। সিনেমাটির প্রধান চরিত্র চিত্রা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তরুণী। এ চরিত্রে দেখা যাবে সাবিলা নূরকে। ‘তাণ্ডব’–এ শাকিবের সঙ্গে অভিনয়ের একেবারেই ভিন্নধর্মী চরিত্র নিয়ে ফিরছেন তিনি। ছবিতে আরও আছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ইন্তেখাব দিনার, শ্যামল মাওলা প্রমুখ। ছবির বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে মাশা ইসলামকে; এ সিনেমা দিয়েই অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে এই গায়িকার।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ সাবিলা নূর। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

উপন্যাসের সঙ্গে সিনেমার কতটা মিল কিংবা অমিল থাকবে, তা খোলাসা করেননি নির্মাতা। সিনেমাটি নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ স্যার, আইয়ুব বাচ্চু ভাইকে স্মরণ করছি। যেকোনো সিনেমা একা করা যায় না, সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অত্যন্ত গুণী অভিনয়শিল্পীরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাবে বনলতা এক্সপ্রেস। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বুড়িগঙ্গা টকিজ; সহপ্রযোজনায় রয়েছে হইচই স্টুডিওজ, সার্বিক সহযোগিতা করেছে ডোপ প্রোডাকশনস।

আরও পড়ুন

সহিংস অ্যাকশনে প্রতিশ্রুতি ‘রাক্ষস’–এর
কয়েক বছর ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে সহিংস অ্যাকশন সিনেমা তৈরি হচ্ছে। গত বছরের রোজার ঈদে শাকিব খানকে নিয়ে এই ধারার সিনেমা ‘বরবাদ’ বানিয়েছিলেন মেহেদী হাসান; এবার তিনি সিয়াম আহমেদকে নিয়ে বানিয়েছেন রাক্ষস। সিনেমাটির ট্রেলারে শুরু হয় সিয়ামের সংলাপে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মানুষ বলে, নারী কিসে আটকায়? নারী বলে, মায়ায়, ভালোবাসায়। আমি বলি, না, নারী আটকায় লোভে। আর লোভে পাপ, আর পাপে মৃত্যু!’ এরপর নৃশংসতায় মেতে উঠতে দেখা যায় সিয়ামকে। ট্রেলারজুড়ে ছিল অ্যাকশন ও সহিংসতার দৃশ্য। রাক্ষস–এর ট্রেলারে বেশ কিছু চমক রেখেছেন নির্মাতা মেহেদী হাসান। তাঁর এর আগের সিনেমা ‘বরবাদ’–এর জিল্লু চরিত্রটিও এনেছেন এখানে।

‘রাক্ষস’–এর পোস্টারে সুস্মিতা ও সিয়াম। ছবি: ফেসবুক থেকে

‘বরবাদ’ মুক্তির পর সবার মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল শাকিব খানের ‘ওই জিল্লু মাল দে’ সংলাপটি। এবার সিয়ামের মুখে শোনা গেল ‘ওই জিল্লু খাইয়া দে’। চমকের পাশাপাশি রহস্যও রেখেছেন নির্মাতা। সব চরিত্র দেখালেও একটি চরিত্র নিয়ে রহস্য রেখেছেন তিনি। ভিলেন চরিত্রটির মাথা ও শরীরজুড়ে ট্যাটু, মাথা ন্যাড়া আর কোনো কিছুই খোলাসা করেননি তিনি। ট্রেলার প্রকাশের পর এ চরিত্র নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয়েছে আলোচনা। মন্তব্যের ঘরে বিভিন্ন মন্তব্য চোখে পড়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন, এটি সিয়ামের দ্বৈত চরিত্র। আবার কারও মতে, এটা শাকিব খান, মেহেদী হাসানের ইউনিভার্স হতে যাচ্ছে এটি। আবার অনেকেই লিখছেন, নির্মাতা নিজেই এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রহস্য খোলাসা হবে মুক্তির পরেই। ছবিতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। সিনেমার আইটেম গানে অভিনয় করছেন হিন্দি সিনেমার অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। বাংলাদেশ ছাড়াও সিনেমাটির বড় অংশের শুটিং হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এর মধ্যেই সিনেমাটির দুটি রোমান্টিক গান মুক্তি পেয়েছে।

আরও পড়ুন

নতুন রাফীর ‘প্রেশার কুকার’
গত কয়েকটি ঈদের শাকিব ও আফরান নিশোর মতো বড় তারকাকে নিয়ে ছবি বানিয়েছিলেন রায়হান রাফী। এবার তিনি আসছেন এমন এক সিনেমা নিয়ে, যেখানে প্রচলতি অর্থে কোনো নায়ক নেই। নির্মাতার ভাষ্যে, ‘গল্পই এ সিনেমার নায়ক।’ সিনেমাটির টিজার প্রশংসা কুড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, ছবির নামের সঙ্গে মিল রেখে টিজারকে নির্মাতা বলছেন ‘ফার্স্ট হুইসেল’। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও কানন ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমায় প্রচলিত নায়ককেন্দ্রিক ধারা থেকে সরে এসে চার নারীর গল্পকে কেন্দ্র করে চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন রাফী।

‘প্রেশার কুকার’ ছবির পোস্টার
সংগৃহীত

এতে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত। প্রকাশিত ‘ফার্স্ট হুইসেল’-এ চার নারী চরিত্রের পাশাপাশি দেখা গেছে বেশ কয়েকজন গুণী অভিনয়শিল্পীকেও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর, আজিজুল হাকিম ও সাবেরী আলমকে। ‘ফার্স্ট হুইসেল’–এ দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে চঞ্চল চৌধুরীর ভয়েস ওভারে করা আবৃত্তি—‘মৌমাছি, মৌমাছি/ কোথা যাও নাচি নাচি/ দাঁড়াও না একবার ভাই।’ এই আবৃত্তি ও রহস্যময় আবহ মিলিয়ে টিজারটি দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার নাগরিক জীবনের চাপ, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন যাত্রার গল্পই তুলে ধরা হবে ‘প্রেশার কুকার’-এ। রাফীর কথায়, এই ঢাকা শহর আসলে মেয়েদের জন্য একটা প্রেশার কুকার। তাদের চিৎকার সহ্য না করতে পারলে এই প্রেশার কুকারে সিটি বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

এর আগে প্রকাশিত পোস্টারেও চার নারী চরিত্রকে সামনে এনে সিনেমাটি নিয়ে আলোচনার জন্ম দেন নির্মাতা। সেই পোস্টেই তিনি জানান, নিজের প্রথম প্রযোজিত সিনেমাটি উৎসর্গ করছেন প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদকে। রাফী বলেন, ‘তারেক মাসুদকে দেখেই সিনেমা বানাতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তিনি আমার গুরুতুল্য। তাই আমার প্রথম প্রযোজিত ছবিটি তাঁকে উৎসর্গ করাটা বিশেষ অর্থ বহন করে।’
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া বহুল আলোচিত ‘হাওয়া’র পর ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমা দিয়েই চার বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন নাজিফা তুষি।