১১ বছর আগের কথা স্মরণ করে নাবিলা বললেন, ‘সেদিন ভীষণ আপসেট ছিলাম’
২০১৫ সালের কথা। দিনটা ৮ এপ্রিল। সেদিন নাবিলার জন্মদিন ছিল। কাতারে কাটছিল মাসুমা রহমান নাবিলার দিনটা। সেই সময়েই তিনি মোবাইলে একটি খুদে বার্তা পান। তাতে লেখা ছিল, ‘জন্মদিনে তোমাকে বেশি কিছু দিতে পারছি না। তবে তোমাকে হৃদি চরিত্রটি দিচ্ছি। তুমি কি এটা গ্রহণ করবে?’
নাবিলাকে এই বার্তা পাঠিয়েছিলেন, পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। তিনি সেই প্রথম ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার নায়িকা হিসেবে হৃদি চরিত্রে নাবিলাকে তাঁর জন্মদিনে সারপ্রাইজ দেন। নাবিলার ভাষায়, ‘সেবারের জন্মদিনটা আমার সবচেয়ে খারাপ যাচ্ছিল। দেশে পরিবারের সবাইকে মিস করছিলাম। সেদিন ভীষণ আপসেট ছিলাম। পরিবারের লোক নাই বন্ধুরা নাই। সেই সময়ে টেক্সটি আমার দিনটাকেই বদলে দিল। পরে তো হৃদি তার ক্যারিয়ারই বদলে দেয়।’
তখনো সিনেমায় নাম জড়ানো নিয়ে দোটানায় ছিলেন। কিন্তু ‘আয়নাবাজি’ সিনেমা নায়িকার প্রস্তাব আর ফেলতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। সেই মুহূর্তটা এখনো তাঁর কাছে যেন জীবন্ত। ‘আমি তুমুল এক্সসাইটমেন্টে ছিলাম। তবে সেদিন অনেক বেশি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এক্সসাইটমেন্টের চেয়ে সেদিন হাজার গুণ বেশি নার্ভাস ছিলাম। ধন্যবাদ অমিতাভ রেজা চৌধুরী। আপনি আরও বেশি সিনেমা বানিয়ে যান।’
পরে শুরু হয় শুটিং। এটি ছিল পরিচালকের ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা। সেই সিনেমা ২০১৬ সালে মুক্তি পায়। বড় পর্দার এই ভ্রমণ ছিল নাবিলার জন্য ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। সেই সিনেমাটি মুক্তির ১০ বছর নিয়ে কথা বলতেই তিনি গতকাল রাতে লাইভে আসেন। এটাই তাঁর প্রথম লাইভ, এর আগে তাঁকে লাইভে দেখা যায়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর ‘আয়নাবাজি’ সিনেমাটি মুক্তি পায়।
নাবিলা বলেন, ‘এই সিনেমার মাধ্যমে আপনারা আমাকে যতটা ভালোবাসা দিয়েছেন, এটা আমি কখনোই ভুলব না। এই সিনেমা আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। শুধু তা–ই নয়, আমার জীবনকে দেখার দর্শনও বদলেছে। নিজের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি করেছে। এটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল।’
সেদিন প্রথম শো দেখতে বসুন্ধরায় গিয়েছিলেন নাবিলা। চমকে উঠেছিলেন হাউসফুল দর্শক দেখে। এমনকি সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই ফেসবুকে সহকর্মী ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন।
সেই কথা স্মরণ করে নাবিলা বলেন, ‘সিনেমাটি পরে দারুণ ব্যবসা করে। দীর্ঘ সময় সিনেমা হলে চলে। তখন আমি দর্শকদের হয়ে গিয়েছিলাম আয়নাবাজি নাবিলা। এভাবেই আমাকে সবাই ডাকতেন। সিনেমাটির অংশ হিসেবে এটা আমার কাছে অনেক বেশি মিনিংফুল ছিল। অন্যদের কথা বলতে পারব না। এটি আমার ক্যারিয়ারও বদলে দিয়েছে। আর আমাকে আবিষ্কার করেছেন পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। তাঁকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’