আজ ২৫০তম ‘কোর্ট মার্শাল’

'কোর্ট মার্শাল' নাটকের দৃশ্য
ছবি : সংগৃহীত

১৯৯৩ সালের ৪ মার্চ মহিলা সমিতি মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ‘কোর্ট মার্শাল’। তারপর তিন দশক ধরে দেশ-বিদেশের মঞ্চে থিয়েটার আর্ট ইউনিট প্রযোজিত নাটকটি দাপটের সঙ্গে অভিনীত হয়ে আসছে। ত্রিশ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির ২৫০তম মঞ্চায়ন হবে। এ উপলক্ষে আজ নাটকের নতুন–পুরোনো অভিনেতাদের মিলন মেলা বসবে।

স্বদেশ দীপক রচিত হিন্দি ভাষার নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’। নাটকটি বাংলায় অনুবাদ করেন সলিল সরকার। এই অনুবাদকে আশ্রয় করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী বীরাঙ্গনার পুত্র আকবরের ওপর ঘটে চলা মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে এস এম সোলায়মানের রূপান্তর ও নির্দেশিত নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষ–বিপক্ষ শক্তির দ্বন্দ্বই ‘কোর্ট মার্শাল’। ট্র্যাজিক পরিণতির এই নাটকে দেখা যায়, বীরাঙ্গনা সন্তান আকবর দেশকে ভালোবাসে। কিন্তু তার সহকর্মী এফ এ খান স্বাধীনতাবিরোধী। দেশপ্রেমী আকবরকে সে সহ্য করতে পারে না। নানাভাবে তাকে মানসিক নিপীড়ন করে। এই নিপীড়ন সীমা ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে এফ এ খানকে খুন করতে উদ্যত হয় আকবর। হত্যাচেষ্টার দায়ে আকবরের ফাঁসির আদেশ হয়। কেন এবং কীভাবে এই হত্যাচেষ্টা এবং কী তার পরিণতি, সেটি নিয়েই নাটক।

'কোর্ট মার্শাল' নাটকের দৃশ্য
ছবি : সংগৃহীত

২৫০তম মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) চন্দন রেজা বলেন, চোখে দেখা সত্যের আড়ালেও থাকতে পারে আরেক সত্য। সেই চূড়ান্ত সত্য কখনো কখনো হয়ে ওঠে মানুষের প্রাণের চেয়ে মূল্যবান বস্তু। তাই সামাজিক শ্রেণিদ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের লড়াই, সামন্ত প্রবৃত্তির উৎপীড়ন অথবা চিন্তার স্তরে সামন্ত চিন্তার নৈরাজ্যের চেয়ে সত্য আবিষ্কারের সংগ্রাম হয়ে উঠেছে এই নাটকের মূল প্রতিপাদ্য।

আরও পড়ুন

‘কোর্ট মার্শাল’ নাটকের প্রথম মঞ্চায়নে অভিনয় করেছিলেন এস এম সোলায়মান, আজিজুস সামাদ, শেখ নাজিম, চন্দন রেজা, রাশেদুল হাসান, মোহাম্মদ বারী, সুমন আহম্মেদ, কামাল রায়হান, মাসুম, কামরুল ইসলাম, প্রশান্ত হালদার। আর ২৫০তম মঞ্চায়নে অভিনয় করবেন চন্দন রেজা, ফেরদৌস আমিন, রাকিবুল হাসান, আশরাফ কবির, সেলিম মাহবুব, নাহিদ সুলতানা, স্বাধীন শাহ, আবু সুফিয়ান, হাসনাত প্রদীপ, সজল চৌধুরী।