বিজ্ঞাপন

পাখি গানটি নাকি দুই দেশের তিন শহরে তৈরি হয়েছে।

১৯৯০ সালে প্রমিথিউস ব্যান্ডের ‘মুক্তির প্রত্যাশায়’ অ্যালবামের ‘নির্জন শালবনে’ গানটি লিখেছিলেন রাজু চৌধুরী। এরপর পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তবে যোগাযোগ ছিল। এবার যখন নতুন গান নিয়ে আলাপ হচ্ছিল, তখন রাজু চৌধুরী তাঁর লেখা একটি গীতিকবিতার প্রসঙ্গ তোলেন, যা আমারও পছন্দ হয়। এরপর সেই গীতিকবিতার সঙ্গে আমার লেখা কয়েকটি লাইন যুক্ত করি। ফ্লোরিডা থেকে লেখা, নিউইয়র্ক থেকে কণ্ঠ, সুর-সংগীত আর ঢাকা থেকে গিটার ও কি–বোর্ডের কাজ করা হয়েছে। আর সবই সম্ভব হয়েছে ডিজিটালাইজেশনের কারণে। মেলোডি ধাঁচের রক গান। আধুনিক এই গানের সঙ্গে অর্কেস্টেশনে কম্পোজিশন করার চেষ্টা করেছি। গানটি তৈরি করে আমি সন্তুষ্ট।

default-image

যে বিপ্লব একটা সময় দেশের আনাচকানাচে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, ছুটতে হতো দেশের বাইরে, তাঁকে এখন ট্যাক্সিতে করে লোকজনকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দিয়ে আসতে হয়।

আমি যে লাইফ লিড করতাম, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এখন যে লাইফ লিড করছি, মানুষ হিসেবে এটাই বড় যোগ্যতা। যদি ভাবতাম, আরে ভাই আমি তো বাংলাদেশের বিপ্লব, এখানে এসে কী করছি! তখন কিন্তু আমি শেষ! মানে আমি ব্যর্থ-হতাশ হয়ে যাব। এই হতাশা আমাকে গ্রাস করবে। আমি মনে করি, দিস ইজ পার্ট অব লাইফ, আমি সময়টাকে উপভোগ করছি। আমি নতুন গান লিখছি, গানের মিউজিক করছি, কোনো কিছু কিন্তু থেমে নেই। নিজের একটা ইউটিউব প্ল্যাটফর্মও চালু করেছি সেখানে ভক্ত-শ্রোতারা নতুন গানের পাশাপাশি পাচ্ছে আমার সব পুরোনো গান। ট্যাক্সি চালালেও গান কিন্তু থেমে নেই।

default-image

এখন না হয় করোনার সময়। অন্য সময়ে তো যুক্তরাষ্ট্রেও স্টেজ শো হয়। আপনার কাছে কি প্রস্তাব আসে?

আসে তো অবশ্যই। সম্মান এবং সম্মানীর পাশাপাশি আয়োজনটা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর যদি মনে করি করা উচিত, তবে করি। আমি নিউইয়র্কে আসার পর যে কয়টা স্টেজ শো করেছি, তার সব কটিই এই স্টেটের বাইরে।

এখন অনলাইনে গান বেচাকেনা ও প্রকাশিত হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে আপনি এই কথাটাই বলে আসছিলেন?

দেশে অডিও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে শিল্পী, গীতিকার ও সংগীত পরিচালকেরা সঠিক সম্মানী থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। বিষয়টা আমাকে খুব নাড়া দেয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, কোনো কোম্পানিকে আর গান দেব না। তারা বারবার বলে আসছিলেন ব্যবসা খারাপ। তাই আমি অনলাইনে গান প্রকাশের পরিকল্পনা করি। আমি শিল্পী-গীতিকার-সংগীত পরিচালক সবাইকে বোঝানোর চেষ্টাও করি। সবাইকে এও বলি, হয়তো শুরুতে টাকাপয়সা আসবে না, কিন্তু একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে রাখা উচিত। শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে গান ছাড়বে। চাইলে অন্য প্ল্যাটফর্মের কাছে নির্দিষ্ট সময় ধরে ভাড়াও দিতে পারবে। সিনেমার ক্ষেত্রে ভাড়া দেওয়ার রীতি কিন্তু চালু হয়ে গেছে।

default-image

আপনি যে পেশায় আছেন, সংগীতচর্চার সময় পান?

সংগীতচর্চা মস্তিষ্কে অনুরণিত হয়। কাজের ফাঁকে ফাঁকে গানের পরিকল্পনা করি। দেখা গেছে, আমি কাজের ফাঁকে কোথাও বসে আছি, গান লিখছি, সুর নিয়ে ভাবছি। কাজ এলে আবার খাতা বন্ধ করে চলে যাই। গান আমার মস্তিষ্কে ঘুরতে থাকে। বাংলাদেশে থাকতে কন্টিনিউ গানের ভেতরে ডুবে থাকতাম, এখন তা হয় না। কাজ ও গান সমানতালে চলতে থাকে।

নিউইয়র্কে কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন নাকি?

প্রেম কইরা টাকা নষ্ট করুম নাকি। আমি মোটেও এসবের পক্ষে না।

default-image

প্রেম করলে বুঝি টাকা নষ্ট হয়?

বিদেশে প্রেম করতে গেলে টাকা নষ্ট হয়। আমি কাজ আর গান নিয়েই আছি।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন