default-image

ঢাকাসহ সারা দেশের ৯০ হলে মুক্তি পেয়েছে পরীমনি অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’। এটি তাঁর মুক্তি পাওয়া তিন নম্বর চলচ্চিত্র। পরিচালক এস এ হক অলিকেরও এটি তৃতীয় চলচ্চিত্র। ছবিতে পরীমনি অভিনয় করেছেন শাকিব খানের বিপরীতে। নতুন ছবিসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় পরীমনির। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরেছেন মনজুর কাদের

আজ শুক্রবার আপনার আরেকটি ছবি মুক্তি পেল। কেমন লাগছে?
চলচ্চিত্রে আমার বয়স খুব বেশি দিনের নয়। মাত্র দুই বছরের। শুরুতে না বুঝেই অনেক ছবিতে সাইন করি। এরপর যখন ছবি মুক্তি পাচ্ছিল না, তখন খুব মন খারাপ হয়। অবশেষে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ছবিটি মুক্তি পায়। একই মাসে আরেকটি ছবি মুক্তি পায়। পাঁচ মাস পর আবার ছবি মুক্তি পেল। আগামী সপ্তাহে আরেকটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আরেকটি ছবি মুক্তি পাবে। এ এক অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি, বলে বোঝানো সত্যিই মুশকিল। মনে হচ্ছে, আমি হাওয়ায় ভাসছি।

default-image

‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ ছবিটি প্রসঙ্গে কিছু বলুন?
নিটোল প্রেমের গল্পের ছবি বলতে যা বোঝায়, ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ ঠিক তাই। স্বল্প ক্যারিয়ারে আমি অনেক প্রেমের ছবিতে অভিনয় করেছি, কিন্তু এই ছবিটা সত্যি অন্যরকম। এ পর্যন্ত যতগুলো রোমান্টিক ছবিতে অভিনয় করেছি, অন্য ছবিগুলো এটার ধারেকাছে নেই।
এই ছবিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
এই পরিচালকের ‘হৃদয়ের কথা’ ছবিটি যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ ঠিক তেমনটাই করবে। ‘হৃদয়ের কথা’ ছবির মুক্তির সময় আমি অবশ্য অনেক ছোট। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ছবিটি দেখেছি। এই ছবির প্রতিটি গান আমাদের মুখস্থ হয়ে যায়। আমি তখন বরিশালে থাকি। ছবিটি বহুবার দেখেছি। আমার মনে হচ্ছে, সেই রকম একটা ছবি হতে যাচ্ছে ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’। ছবিটি তরুণ-তরুণীরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে।

default-image

বলছিলেন, স্কুলে পড়ার সময়ে পরিচালক এস এ হক অলিকের নাম শুনেছেন। অবশেষে তাঁর ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে কেমন লেগেছিল?
ছবিতে অভিনয়ের আগে আমি সাধারণত গল্প, পরিচালক, সহশিল্পী, প্রোডাকশন কেমন হবে, তা নিয়ে খুব ভাবি। যখন ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই, তখন গল্প কী, প্রোডাকশন কেমন হবে, আমার বিপরীতে কে অভিনয় করবে, কিছুই জানি না। শুধু জানলাম ছবিটির পরিচালক এস এ হক অলিক। অবশ্য এর বাইরে আর কিছু জানতেও চাইনি। ছবিতে অভিনয়ের জন্য পরিচালকের নাম জানাটাই যথেষ্ট ছিল। আমার মনে হয়, তিনি এমন একজন নির্মাতা, যাঁর ওপর হান্ড্রেড পর্সেন্ট নির্ভর করা যায়। ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি পেয়ে গেছি। আমার কাছে এটাও মনে হয়, দর্শক ছবিটি নিয়ে যা প্রত্যাশা করেছে, তারও অনেক বেশি কিছু পাবেন।
দর্শকেরা কেন এই ছবিটি দেখতে হলে যাবেন বলে আপনি মনে করেন?
হলে না গিয়ে থাকতে পারবে না বলেই মনে হয়। ছবি দেখার জন্য দর্শক আকৃষ্ট করতে যা যা থাকা দরকার, সবই আছে ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ ছবিতে। দ্বিতীয়ত, এটি খাঁটি বাংলা সিনেমা। এটা কলকাতার সিনেমা নয়, যৌথ প্রযোজনার সিনেমাও নয়। এই ছবিতে সবকিছুই বাংলাদেশি। এখানে বাংলাদেশের মানুষের প্রেমের গল্পই বলা হয়েছে। বাংলাদেশের চমৎকার সব লোকেশন ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে দর্শকেরা ছবিটি অবশ্যই দেখবেন।
নিজের সিনেমা দেখতে এখন অনেক দর্শক হলে যাচ্ছেন। আপনি প্রথম কার সিনেমা দেখেছিলেন?
যত দূর মনে পড়ে, খালাদের সঙ্গেই প্রথম কোনো সিনেমা হলে যাই। হলে ঢুকেই কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর আর কিছুই মনে নেই। তবে বুদ্ধি হওয়ার পর সিনেমা হলে যেয়ে দেখা আমার প্রথম ছবিটি ‘হৃদয়ের কথা’।

default-image

প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী কারা?
আমার সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা আলমগীর। প্রিয় অভিনেত্রী অবশ্য সুচিত্রা সেন। তবে বাংলাদেশের শাবানা ম্যাডামের অভিনয় আমার বেশ ভালো লাগে।
ছোটবেলা থেকেই কি আপনি নায়িকা হতে চেয়েছিলেন?
নায়িকা হওয়া তো দূরের কথা, চলচ্চিত্রে কাজ করারই কোনো প্ল্যান ছিল না। ছোটবেলা থেকে আমার ইচ্ছে ছিল পুলিশ অফিসার হব। ওখান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটা জগতের বাসিন্দা হয়ে গেলাম!
পুলিশ অফিসার হতে না পারলেও ছবিতে কি সেই সুযোগ হয়েছে?
পুলিশ অফিসার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে ঠিকই, কিন্তু আমি করিনি। আমি মনে করি, এটা আমার স্বপ্নের জায়গা। স্বপ্নের জায়গাটা স্বপ্নের জায়গায় থাক।
তার মানে আপনাকে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে দেখা যাবে না?
না, তা বলছি না। হতেও পারে। ভবিষ্যতের কথাটা নিশ্চিত করে বলাটা খুব মুশকিল।
আপনি বলছিলেন, নায়িকা হওয়ার কোনো ইচ্ছেই আপনার ছিল না। কখনো কি মনে হয়েছে, সিনেমায় এসে ভুল করেছেন?
প্রথম প্রথম ঠিকই মনে হয়েছিল। এ কোথায় এলাম! জায়গাটা আমার জন্য না। বাংলা সিনেমা নিয়ে সবাই নাক সিঁটকায়। নিজেকে একটু সেকেলে মনে হচ্ছিল। কারও সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না। কিন্তু ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ছবি ‘রানা প্লাজা’র শুটিং করার পরই সিনেমার প্রেমে পড়ে যাই। আমার মধ্যে অনেক বড় একটা পরিবর্তন চলে আসে। তখনই মনে হতে থাকল, নায়িকা হওয়ার জন্যই আমার জন্ম হয়েছে।
সিনেমা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে আমি সুপারস্টার হবই। সেভাবে এগোচ্ছি। আমার ইচ্ছে, যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন সবাই আমার নামধাম জানবে। মরে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর মানুষ যেন মনে রাখে, সে ধরনের ছবি করে যাব।
সুপারস্টার হওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?
শুধু সুন্দর চেহারা থাকলেই নায়িকা হওয়া যায় না। সুন্দর চেহারা নায়িকা হওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করে। আমি মনে করি, অ্যাক্টিং সবাইকে দিয়ে সম্ভব না। আমি জোর গলায় বলতে পারি, আমার মধ্যে অভিনয় প্রতিভা নিশ্চয়ই আছে। নইলে এত অল্প সময়ে আমাকে নিয়ে এত মাতামাতি হতো না। তাই সবকিছু মিলিয়ে আমি সুপারস্টার হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন