কার্ডে টাকা আছে, কিন্তু কোনো কাজে আসছে না: নেপাল থেকে তাসরিফ খান

২০ আগস্ট অবসর কাটাতে নেপালে যান সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সঙ্গীদের নিয়ে পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে আটকা পড়েছেন তিনি। তবে বুধবারের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মূল এলাকা রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে তাঁদের অবস্থান সরলরেখায় প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার দূরে। আটকে পড়া, দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা ও সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে তাসরিফের সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুরুল আলম

প্রথম আলো :

এখন কী অবস্থায় আছেন?

তাসরিফ খান: অবস্থা একদমই ভালো না। দুই দিন ধরে আটকে রয়েছি। কবে এখান থেকে বের হতে পারব, বুঝতে পারছি না। দুশ্চিন্তা প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে।

প্রথম আলো :

আপনার আশপাশে কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে?

তাসরিফ খান: আমরা ঘান্দ্রুক নামের যে পর্যটন গ্রামে এসেছি, এই দিকে পাহাড়ে তো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যে পথ দিয়ে এসেছি, সেই পথ পুরো শেষ হয়ে গেছে। আমাদের এখান থেকে আর যাওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই। দেখলাম, নেপালের প্রশাসনও এই রাস্তায় চলাচল আপাতত বন্ধ রেখেছে।

নেপালে দুর্যোগের আগে সহকর্মীদের সঙ্গে তাসরিফ খান
ছবি: তাসরিফের সৌজন্যে

প্রথম আলো :

এখন কত দিন থাকতে হবে মনে হচ্ছে?

তাসরিফ খান: আজ (বৃহস্পতিবার) আমাদের গাইড পরিস্থিতি বুঝতে বাইরে গেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন। কাল আসবেন। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আরও দু–তিন দিন লাগতে পারে।

প্রথম আলো :

দেশে ফেরা নিয়ে কী ভাবছেন?

তাসরিফ খান: আমাদের আজ দেশে থাকার কথা ছিল। ভয়াবহ দুর্যোগে নেপালে সাড়ে ৫ হাজার ফুট ওপরে বন্দী হয়ে আছি। আবার দেশে যাওয়ার টিকিটও খুঁজছি, কিন্তু মিলছে না। কবে টিকিট পাব জানি না। মনে হচ্ছে খাবারদাবার, অর্থ নিয়ে একটা সংকটে পড়ে যেতে পারি।

তাসরিফ খান
ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলো :

কী ধরনের সংকট?

তাসরিফ খান: টাকাপয়সা নিয়ে একটু বিপদে আছি। এখানে তো ডলার চলে। সঙ্গে অল্প নগদ নেপালি রুপি আর ১০০ ডলার আছে। কার্ডে টাকা আছে। কিন্তু এখানে কার্ড বা অন্য কিছু চলে না। শিগগির আমাদের কাছে থাকা ডলার ফুরিয়ে যাবে। কার্ড দিয়েও কোনো লাভ হবে না। একটাই ভাবনা, আমাদের যেকোনোভাবেই হোক শিগগিরই এখান থেকে চলে যেতে হবে।

প্রথম আলো :

রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, ফিরতে হলে অন্য কী উপায় রয়েছে?

তাসরিফ খান: প্রথমত, আমরা হিমালয়ের পাশটিতে আছি। এখান থেকে ফেরার রাস্তা সব ভেঙে গেছে। খবর নিয়ে জেনেছি, অনেক জায়গায় পাহাড় ধসে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের ঝুঁকি নিয়ে নদীর পাশ দিয়ে যেতে হবে। এভাবে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হবে। আবার অনেক জায়গায় প্রচুর পাহাড়ি ঢল হচ্ছে, সেই সঙ্গে ভূমিধস হচ্ছে, নতুন করে রাস্তা ভাঙছে। ট্রেকিং করে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি কি সেটাই দেখতে গেছে আমাদের গাইড। আসার পরে পরিস্থিতি বিস্তারিত বলতে পারব, কবে যেতে পারব।

আরও পড়ুন
নেপালে দুর্যোগের আগে সহকর্মীদের সঙ্গে তাসরিফ খান
ছবি: তাসরিফ খানের সৌজন্যে

প্রথম আলো :

নেপালে কেন গিয়েছিলেন?

তাসরিফ খান: টানা কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। যে কারণে একটু অবসরের জন্য এসেছিলাম। আমার সঙ্গে কুঁড়েঘর ব্যান্ডের গিটারিস্ট শামসুল আলম ও তানজীব খান আছে। আরও আছে আমার ‘তাসরিফ স্কোয়াড লিডার’–এর সিলেটের আসাদুর রহমান ও লক্ষ্মীপুরের আশরাফুল ইসলাম।

প্রথম আলো :

গান নিয়ে সামনে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

তাসরিফ খান: দেশে ফিরে আমাদের নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও শুটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন সবার কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন সুস্থভাবে ফিরতে পারি।