পরিচালক হওয়ার পেছনে আপনার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে?

আমি একমাত্র সত্যজিৎ রায় দ্বারা অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত। ছোটবেলা থেকে তাঁর সিনেমা দেখে আর বই পড়ে বেড়ে ওঠা। ফেলুদা পড়ার সময় ভাবতাম, ইশ্‌ আমি যদি ফেলুদার সঙ্গে দার্জিলিং চলে যেতে পারতাম, যদি কাঠমান্ডু চলে যেতে পারতাম। বাংলাদেশে যদি বলি, হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণের চেয়ে তাঁর লেখা আমাকে বেশি প্রভাবিত করত। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশও আমার খুব পছন্দের।

চমক নামটি নিজের দেওয়া নাকি পরিবার থেকে রেখেছে?

আমার বড় মামা জন্মের পর বলেছিলেন, এই মেয়ে চমক দেখাবে। তাই চমক নামটা তিনিই রেখেছেন। সত্যি বলতে কি, আমার জন্ম হয়েছিল সোনার চামচ মুখে দিয়ে। আমার জন্মের পর নানাভাই হাসপাতালে সোনার চামচ এনে মুখে মধু দিয়েছিলেন (হাসি)। মানুষ বলে না, ‘সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হয়েছে’, আমার ক্ষেত্রে সত্যি সত্যিই তা হয়েছিল। (হাসি) আমার মায়ের বংশের প্রথম নাতনি ছিলাম তো, তাই সবার ভীষণ আদরের ছিলাম।

আপনার জন্ম হয়েছে কোথায়?

আম্মু যখন প্রেগন্যান্ট, তখন নানাভাইয়ের বরিশালের বাড়িতে চলে যায়। বরিশাল সদর হাসপাতালে আমার জন্ম। তবে আমার বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। শুরুতে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ছিলাম। ক্লাস সেভেনে শিফট হয়ে উত্তরায় চলে আসি। এর পর থেকে সেখানেই আছি।

চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ে অভিনয়ে আগ্রহী হলেন কীভাবে?

আমি মানিকগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ (বর্তমান নাম কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ মানিকগঞ্জ) থেকে এমবিবিএস ফাইনাল দিয়েছি। কিন্তু ইন্টার্নশিপ করা হয়নি। এমনিতে আমার লেখালেখির ঝোঁক ছিল। প্রচুর বই পড়তাম। আমি কিন্তু মেডিকেলে পড়ার সময় চিত্রনাট্যও লিখতাম। আস্তে আস্তে লেখালেখিতে আগ্রহ বাড়ে। এরপর উপস্থাপনা করি। তারপর অভিনয়।

আপনার প্রিয় লেখক কারা?

সত্যজিৎ রায়, হুমায়ূন আহমেদ, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ও অগাথা ক্রিস্টি আমার প্রিয় লেখক।

দুই বছরে আপনার অভিনীত কাজের সংখ্যা কত?

এখন পর্যন্ত ১০০-এর বেশি নাটক করেছি। এই সময়ে দর্শক ও পরিচালকদের এত ভালোবাসা পেয়েছি, প্রত্যাশা করিনি। ভাবিনি, সবাই এত দ্রুত আপন করে নেবেন।

কোন কাজটি আপনার পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন?

অবশ্যই ‘মহানগর’। অভিনয়জীবনের শুরুতে মহানগর-এর মতো কাজের অংশ হওয়ায় আমাকে কষ্টটাও ওভাবে করতে হয়নি। মহানগর মুক্তির পরই সবাই আমাকে দ্রুত গ্রহণ করেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, কলকাতা থেকেও অনেকে এই সিরিজের কথা বলেন। কলকাতার মানুষও আমাকে মহানগর দিয়ে চেনেন, নাটক দিয়ে নয়।

অথচ ‘মহানগর’-এ অল্প সময়ের উপস্থিতি ছিল।

আমার মনে হয়, অভিনয়শিল্পীদের নিজেকে প্রমাণের জন্য একটামাত্র দৃশ্যই যথেষ্ট। সেখানে তো আমার ১০-১২টা দৃশ্য ছিল। (হাসি)। আমার মনে হয়, সঠিকভাবে অভিনয় করতে পারলে, একটা দৃশ্যই সবার মনে গেঁথে যায়। সবাই মনে রাখেন।