শট শেষে দেখি, ব্যাগের মধ্যে ফোন নেই

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় চরকির ফ্ল্যাশ ফিকশন `পথের প্যাঁচাল'-এ ঔপন্যাসিক উমা চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন তরুণ অভিনেত্রী বন্নি হাসান। গত সোমবার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মকফুল হোসেন

প্রথম আলো:

উমা চরিত্রটি যথেষ্ট পরিণত। আপনার সঙ্গে কতটা মিল আছে?

বন্নি হাসান: উমা চরিত্রের বয়স আমার চেয়ে বেশি। উমার মতো আমারও লেখালেখির অভ্যাস আছে। উপন্যাস বা গল্প হয়তো লেখা হয়নি, কিন্তু টুকটাক কবিতা লিখি। আমার বই পড়ার অভ্যাস আছে।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

আপনার পছন্দের লেখক কারা?

বন্নি হাসান: আমার বেসিক্যালি পুরোনো লেখক পছন্দ। আমি রবীন্দ্রনাথের ভীষণ বড় ভক্ত। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র—ওনাদের গল্প ভীষণ পছন্দ। পুরোনো রাইটারদের লেখার ধরনটা আসলে আমার পছন্দ।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ আপনাকে মুগ্ধ করেছিল।

বন্নি হাসান: যখন দেখেছিলাম, তখন সম্ভবত ক্লাস থ্রিতে পড়ি। ঈদে দাদুবাড়িতে সিনেমাটা তখন টিভিতে চলছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিনেমাটি দেখি। সিনেমাটা ভীষণ এনজয় করি। সিনেমার প্রতিটা গান আমার ভীষণ পছন্দ। যেহেতু ছোটবেলায় গান করতাম, ফলে গানগুলো প্র্যাকটিসও করা হতো বা আমার টিচারও আমাকে শেখাতেন। সেলিম স্যারের মেকিংয়ের একটা ডিফারেন্ট প্যাটার্ন আছে এবং উনি বাংলাদেশের গল্প রিপ্রেজেন্ট করেন সব সময়। ওখান থেকে কাজ করার ইচ্ছা ছিল এবং সব মিলিয়ে হয়ে যায়।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

পথের প্যাঁচাল–এর শুটিংয়ে নাকি ফোন হারিয়েছিলেন?

বন্নি হাসান: হ্যাঁ। শুটিংয়ে ফোন চুরি হয়ে যায়। সিএমএম কোর্টে শুটিং করছিলাম, পুরান ঢাকার দিকে। রিয়েল লোকেশনে শুটিং। একটা দৃশ্য ছিল, আমি ও আমার আইনজীবী কোর্টের ভেতরে যাচ্ছি। ওখানে অনেক মানুষ ছিল। অনেক ধাক্কাধাক্কি ছিল। তখন ক্যারেক্টারে থাকার কারণে ব্যাগ বা ফোন নিয়ে সচেতন হওয়ার উপায় ছিল না। হঠাৎ করেই শট শেষে দেখি, ব্যাগের মধ্যে ফোন নেই, কেউ টান দিয়ে নিয়ে চলে গেছে। ঘটনাটা খুবই আনফরচুনেট। মনটা খারাপ হয়ে যায়।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

পরে ফোনটি আর উদ্ধার হয়নি?

বন্নি হাসান: না। ফোনটি আর উদ্ধার হয়নি। মোবাইলে তো অনেক কিছু থাকে। এত বছরের স্মৃতি, এত কিছু। স্মৃতিগুলো হারিয়ে ফেলি।

আরও পড়ুন
বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

কোন কাজটি আপনার ক্যারিয়ারের বাঁকবদল করেছে?

বন্নি হাসান: জাহিদ প্রীতম ভাইয়ের তিলোত্তমা। ওই কাজের পর আমাকে সবাই অভিনেত্রী হিসেবে চিনেছেন এবং সবাই আমাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন।

প্রথম আলো:

অভিনয়ে এলেন কীভাবে?

বন্নি হাসান: ছোটবেলায় বিজ্ঞাপনে কাজ করার অফার এসেছিল। তারপর যখন একটু বড় হলাম, স্কুল থেকে কলেজের দিকে, তখন ফেসবুকে ছবি দেখে ডিরেক্টররা কাজের জন্য নক করতেন, তুমি কাজ করতে আগ্রহী হলে জানাও। সেখানে আমি অডিশন দিই এবং কাজ শুরু করি। ওখান থেকেই আসলে ফিকশনের কাজের সুযোগ হয়। ২০১৭ সালে প্রথম ফিকশন ছিল লাভ লিংক।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

এরপর?

বন্নি হাসান: ২০১৭ সালের পর ২০১৯ পর্যন্ত কোনো কাজ করিনি। ২০২০-এর শেষ দিকে একটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে আবার কাজ করা শুরু হয়। মধ্যে জাস্ট দুই-তিনটা মিউজিক ভিডিও আর বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। ২০২২-এ কারাগার-এ কাজ করা হয়। আমি আসলে একবারে রেগুলার ওরকম করে কাজ করিনি, হয়তো বছরে একটি-দুটি করে কাজ করছি বা একটি করে বিজ্ঞাপন করছি।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

আপনি তো গানও করেন।

আরও পড়ুন

বন্নি হাসান: গান ছোটবেলা থেকে শিখেছি। আমার বাবা-মা আমাকে খুব ছোট বয়সে গানের ক্লাসে ভর্তি করে দেন। বাবার চাকরির সূত্রে সাতক্ষীরাতে ছিলাম। ওখানে পাঁচ বছর আমি গানের চর্চা করেছি। তারপর আর গান কন্টিনিউভাবে শেখা হয়নি, কিন্তু চর্চা ছিল। পরে ক্লাসিক্যাল নাচও শিখেছি। ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশনের মাঝখানে কাজের বিরতি দিই। আদনান আল রাজীবের ইউটিউমার–এ প্রথম প্লেব্যাক করি। সেটিই আমার প্রথম মৌলিক গান। এর বাইরে নিয়মিত গান কাভার করি।

বন্নি হাসান
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

সামনে কী কী কাজ করছেন?

বন্নি হাসান: কোরবানির ঈদে প্রাণের প্রিয়তমা নামে একটি কাজ নিয়ে আসছি। আমি একটু গল্পভিত্তিক কাজ করার চেষ্টা করছি। যেভাবে ফিমেল চরিত্রে ইমপ্যাক্ট ফেলে।