ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি তাঁরা
পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন শিল্পীরা। কখনো তাঁদের চরিত্রের প্রয়োজনে দেখা যায় নগ্ন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে। অনেক তারকার পর্দায় নিরাভরণ হতে আপত্তি নেই। কিন্তু অনেক তারকাই আছেন, যাঁরা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেন না। কেউ আবার পর্দায় নগ্ন হওয়া নিয়ে কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। জেনে নেওয়া যাক এমন আট হলিউড তারকার কথা।
ব্লেক লাইভলি
ব্লেক লাইভলি এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি কখনোই নগ্ন দৃশ্যে পর্দায় উপস্থিত হন না। কারণ, তিনি নিজেকে এভাবে দেখতে পছন্দ করেন না। মনে করেন, এই দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রের জন্য অপ্রয়োজনীয়। ‘যখন আমি এটি পর্দায় দেখি, সব সময়ই বিভ্রান্ত হই,’ তিনি বলেন। ‘আমি মনে করি, এটা কখনোই আমার জন্য ঠিক হবে না,’ বলেন তিনি।
সারা জেসিকা পার্কার
‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’র প্রধান অভিনেত্রী সারা জেসিকা পার্কার ফ্র্যাঞ্চাইজির খোলামেলা দৃশ্যের বিপরীতে কঠোরভাবে অবস্থান নিয়েছেন। শোতে কাজ করার সময় তিনি ‘নো নুডিটি’ বা ‘পর্দায় নগ্ন হবেন না’—এমন চুক্তিও করেছিলেন।
‘যারা এটি করে (নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়), তাদের সম্পর্কে আমার কোনো মন্তব্য নেই,’ এক সাক্ষাৎকারে বলেন সারা। এই অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে করি, যাঁরা এটি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁরা তারকা সাহসী। তবে আমার এতটা সাহস নেই, আমি কখনো এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতে পারব না।’
মেগান ফক্স
মেগান ফক্স সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর কখনো ‘আর রেটেড’ সিনেমায় অভিনয় করবেন না। এমনকি এ ধরনের সিনেমার কয়েকটি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন পর্দায় নগ্ন হতে হবে বলে। ছেলের মা হিসেবে ফক্স চিন্তিত, তাঁর সন্তানেরা তাঁকে পর্দায় কীভাবে দেখতে পারে, তা নিয়ে। ‘সন্তানদের এভাবে কখনোই মাকে পর্দায় দেখা উচিত নয়,’ তিনি বলেন।
পেন ব্যাডগলি
নেটফ্লিক্সের ‘ইউ’ শোর প্রধান অভিনেতা পেন ব্যাডগলি চতুর্থ মৌসুমের জন্য একটি অনুরোধ করেছিলেন, যতটা সম্ভব কম অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি কারণ ছিল।
প্রথমত, পেন চাননি তাঁর ক্যারিয়ার কেবল রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে আটকে থাকুক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রেমিকার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। ‘প্রতিটি সম্পর্কের নিজস্ব নিয়ম থাকে। আমি চেয়েছি সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে। কাজের জন্য আমাকে অনেক কিছুই করতে হবে কিন্তু চেয়েছি সেটা যেন আমার জন্য কম অস্বস্তিকর হয়,’ বলেন তিনি।
কিরা নাইটলি
মা হওয়ার পর কিরা নাইটলি বিশেষ করে পুরুষ পরিচালকদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কারণ, তিনি পর্দায় নিজেকে আর পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে চান না। নাইটলি বলেন, ‘যখন বুঝতে পারি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যটি আসলে সিনেমার জন্য অপ্রযোজনীয়, নির্মাতা কেবল দর্শকদের আকর্ষণের জন্য এটা করতে চান, তখন আমি অবশ্যই না বলি।’
রেবেল উইলসন
আরেক অভিনেত্রী রেবেল উইলসনও ‘আর রেটেড’ সিনেমায় অভিনয় করেন না। তাঁর চুক্তিতে একটি শর্ত রয়েছে—কোনোভাবেই খোলামেলা দৃশ্যে হাজির হবেন না। তাঁর সিনেমা ‘গ্রিমসবি’তে কাজ করার সময় চরিত্রের প্রয়োজনে কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছিল কিন্তু রেবেল রাজি না হওয়ায় দৃশ্যগুলোতে বডি ডাবল ব্যবহার করা হয়।
মাহারশালা আলী
মাহারশালা আলী ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেঞ্জামিন বাটন’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছিলেন। কারণ আর কিছুই নয়, এতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের উপস্থিতি। আলী ব্যক্তিগত কারণে এমন দৃশ্যে কাজ করতে চান না। তবে নির্মাতা ছিলেন নাছোড়বান্দা, তিনি অভিনেতাকে হাতছাড়া করতে চাননি। পরে তিনি দৃশ্যটি পরিবর্তন করেন, আলীও সিনেমাটি করেন।
জুলিয়া রবার্টস
মা হওয়ার পর জুলিয়া রবার্টস পর্দায় কী করবেন, তা নিয়ে খুব সতর্ক হন। তিনি এখনো কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেন কিন্তু যদি এটি খুব বেশি খোলামেলা মনে হয়, তবে তিনি আপত্তি জানান। ‘তিন সন্তানের মা হিসেবে আমার কিছু সীমারেখা মেনে চলতে হয়। পর্দায় কী করব আর করব না, সেটা আমি মেনে চলি। এ বিষয়ে আমাকে কেউ বাধ্য করতে পারে না,’ বলেন তিনি।
বাজফিড অবলম্বনে