জম্বি, এআই আর ভয়—এক দিনে তিন সিনেমা
আজ সোমবার একসঙ্গে তিনটি হলিউড সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের পর্দায়। সিনেমা ৩টি হচ্ছে ‘২৮ ডেজ লেটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ কিস্তি ‘২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল’, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি থ্রিলার ‘মার্সি’ ও হরর সিনেমা ‘প্রাইমেট’।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে মুক্তি পাওয়া এই তিনটি সিনেমা দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাল্টিপ্লেক্সটি জানিয়েছে, বছরের শুরুতে হলিউড সিনেমার এমন বৈচিত্র্যময় আয়োজন বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে।
‘২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল’
গত বছরের জুনে মুক্তি পেয়েছিল ‘২৮ ডেজ লেটার’ সিরিজের সিনেমা ‘২৮ ইয়ার্স লেটার’। অস্কারজয়ী পরিচালক ড্যানি বয়েল নির্মিত সিনেমাটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায়। আয়ের দিক থেকে সিরিজের আগের সিনেমাগুলোকে ছাড়িয়ে যায় এটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার দর্শকের সামনে এসেছে সিরিজের নতুন অধ্যায়, ‘২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল’। নিয়া ডা কস্টা পরিচালিত সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায় গত ১৬ জানুয়ারি। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাফ ফিয়েনেস, জ্যাক ও’কনেল, আলফি উইলিয়ামস, এরিন কেলিম্যান ও চি লুইস-প্যারি।
এই সিনেমায় ‘বোন টেম্পল’ কোনো সাধারণ জায়গা নয়; এটি এক ভয়ংকর প্রতীক। মানুষের হাড়, বিশ্বাস, মৃত্যু ও ক্ষমতা মিলেমিশে এখানে তৈরি হয়েছে এক ধর্মীয় কেন্দ্র, যেখানে মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, সম্পদ কিংবা বলি হিসেবে দেখা হয়। রেজ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ২৮ বছর পর যুক্তরাজ্য আর আগের মতো নেই। সংক্রমিতরা এখনো আছে, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে মানুষই।
সভ্যতা ভেঙে পড়ে গড়ে উঠেছে নানা গোষ্ঠী ও আধা সামরিক শাসনে বিভক্ত এক ভয়াল সমাজ। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কিশোর স্পাইক, যে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের খোঁজে একটি রহস্যময় ও শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সেই গোষ্ঠীর নেতা সার জিমি ক্রিস্টাল-একজন ক্যারিশমাটিক কিন্তু ভীতিকর কাল্ট-লিডার, যার শাসন চলে ভয়, বিশ্বাস ও সহিংসতার মাধ্যমে।
একই সময়ে বিজ্ঞানী ইয়ন কেলসন এমন এক প্রকল্পে কাজ করছেন, যা মানবজাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই ভবিষ্যৎ কি মুক্তির, নাকি আরও ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণের? সিনেমাটিতে জম্বি সংক্রমণের ভয় ছাড়িয়ে মানুষের ভেতরের অমানুষিক, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতি মূল ভয়ের উৎস হয়ে ওঠে।
‘মার্সি’
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি থ্রিলার সিনেমা ‘মার্সি’ পরিচালনা করেছেন তৈমুর বেকমাম্বেটভ। প্রযোজনা করেছেন চার্লস রোভেন ও বেকমাম্বেটভ। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস প্র্যাট ও রেবেকা ফার্গুসন। ভবিষ্যৎ সময়ের পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমায় ক্রিস প্র্যাট অভিনয় করেছেন ডিটেকটিভ ‘ক্রিস রাভেন’ চরিত্রে। স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তিনি নিজেই সন্দেহভাজন হয়ে পড়েন এবং তার বিচার হয় একটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচারকের সামনে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য তার হাতে সময় মাত্র ৯০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যেই এআই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
সিনেমাটির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রায় রিয়েল-টাইম ফরম্যাটে নির্মিত। পুরো গল্পটি এগিয়ে যায় এই ৯০ মিনিট সময়ের মধ্যেই। চরিত্রের চাপ ও অসহায়ত্ব বাস্তবভাবে তুলে ধরতে ক্রিস প্র্যাট নিজেই শুটিংয়ের সময় নিজেকে চেয়ারে বেঁধে রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
‘মার্সি’ প্রযুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার দ্বন্দ্বকে সামনে আনে। এআই কি নৈতিকতা বোঝে, নাকি কেবল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়—এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি করে সিনেমাটি।
‘প্রাইমেট’
আমেরিকান হরর সিনেমা ‘প্রাইমেট’ পরিচালনা করেছেন জোহানেস রবার্টস। এতে অভিনয় করেছেন জনি সিকোইয়া, জেসিকা আলেকজান্ডার, ট্রয় কোটসুর, ভিক্টোরিয়া ওয়াইন্ট ও গিয়া হান্টার। গল্পের পটভূমি হাওয়াইয়ের একটি দূরবর্তী বাড়ি। সেখানে একটি পরিবার তাদের পোষা শিম্পাঞ্জি বেনকে নিয়ে বসবাস করে। কলেজছাত্রী লুসি পিনবোরো বন্ধুদের নিয়ে ছুটি কাটাতে বাড়িতে ফেরার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। একসময় বেন একটি রেবিস আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ে সংক্রমিত হয় এবং ধীরে ধীরে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে লুসি ও তার বন্ধুরা বেঁচে থাকার জন্য মরিয়া লড়াইয়ে নামে। গৃহপালিত প্রাণীর বিপজ্জনক রূপান্তর এবং সংকটময় অবস্থায় মানুষের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ—এই দুটি বিষয়ই সিনেমার মূল থিম।
সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া ‘প্রাইমেট’ ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ৩২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। পর্যালোচনা ওয়েবসাইট রটেন টমেটোসে ১৩৪ জন সমালোচকের রিভিউয়ের ভিত্তিতে সিনেমাটির ইতিবাচক রেটিং ৭৯ শতাংশ, গড় স্কোর ৬ দশমিক ৫।