‘হাউ টু হ্যাভ সেক্স’ সিনেমার নায়িকা হঠাৎ আলোচনায়
ব্রিটিশ অভিনেত্রী মিয়া ম্যাককেনা-ব্রুস। তিনি ২০২৩ সালে ‘হাউ টু হ্যাভ সেক্স’ সিনেমার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়। পরে অ্যাঁ সার্তে রিগা বিভাগের সেরা সিনেমার পুরস্কার পায়। এই সিনেমায় সাহসী চরিত্রে অভিনয় করেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ অভিনেত্রী মিয়া।
সিনেমায় দেখানো হয় তিন বান্ধবীর গল্প। তাঁরা ভ্রমণে বের হন। তাঁদের মধ্যে একজন কখনো শারীরিক সম্পর্ক করেননি। প্রেমের পরে তাঁকে ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিয়া। এমন গল্পের মধ্য দিয়ে সিনেমায় উঠে আসে কিশোরী বয়সের জটিল আবেগ, সম্মতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। এমন চরিত্রে সাহসী ও সংবেদনশীল অভিনয়ের মাধ্যমে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান তিনি।
শুধু তা–ই নয়, ‘হাউ টু হ্যাভ সেক্স’ নামের এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ব্রিটিশ ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান মিয়া। নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে পেয়েছিলেন বাফটার রাইজিং স্টার পুরস্কার। এ ছাড়া আরও একাধিক স্বীকৃতি পান।
সেই অভিনেত্রী এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। আইএমডিবিতে তিনি আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। এর কারণ জনপ্রিয় রহস্যকাহিনির লেখক আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিরিজের জন্য। তাকে দেখা যাচ্ছে ‘আগাথা ক্রিস্টি’স সেভেন ডায়ালস’–এর প্রধান চরিত্রে। অভিনয় দিয়ে নিজেকে তুলে ধরার কারণেই দর্শক তাঁকে পছন্দ করেছেন।
ভ্যারাইটি সূত্রে জানা যায়, ‘হাউ টু হ্যাভ সেক্স’-এর বাস্তবধর্মী ও সাহসী চরিত্র থেকে সরে এসে আগাথা ক্রিস্টির জগতে প্রবেশ করা মিয়ার ক্যারিয়ারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। রহস্য, ষড়যন্ত্র ও চরিত্রের দ্বৈততার গল্পে মিয়ার উপস্থিতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ভ্যারাইটির চলচ্চিত্র সমালোচকেরা আরও বলছেন, মিয়া শুধু সমসাময়িক সামাজিক গল্পেই নয়; বরং ক্ল্যাসিক সাহিত্যনির্ভর সিনেমাতেও নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
‘আগাথা ক্রিস্টিস সেভেন ডায়ালস’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লন্ডনের ধনী এলাকা সেভেন ডায়ালসের এক রহস্যময় বৃত্ত। গল্প শুরু হয় এক তরুণের অদ্ভুত মৃত্যুকে ঘিরে, যার ঘরে পাওয়া যায় একাধিক অ্যালার্ম ঘড়ি—সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সেট করা। ঘটনাটি প্রথমে নিছক দুর্ঘটনা মনে হলেও ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র।
তদন্তে এগিয়ে আসে একদল তরুণ-তরুণী। যাদের নেতৃত্বে থাকে সাহসী ও কৌতূহলী এক তরুণী। তার নাম লেডি আইলিন ব্রেন্ট। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিয়া। তাঁর অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে জানা যায়, ‘সেভেন ডায়ালস’ শুধু একটি জায়গার নাম নয়; বরং এটি একটি গোপন সংগঠন—যারা রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য, গুপ্তচরবৃত্তি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।
গল্প এগোতে থাকলে হত্যা, প্রতারণা ও ছদ্মবেশের জট খুলতে থাকে। বিশ্বাসযোগ্য মুখগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকে শত্রু, আর নিরীহ মনে হওয়া চরিত্রগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বিপজ্জনক। শেষ পর্যন্ত সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়—এই রহস্যের পেছনে ব্যক্তিগত লোভের চেয়েও বড় রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জড়িত।