ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলবেন এই অভিনেত্রী
হলিউড অভিনেত্রী হান্নাহ আইনবাইন্ডার বলেছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুখ না খোলার মূল্য নিজের ক্যারিয়ার হারানোর চেয়েও অনেক বেশি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন ছবি নিয়ে হাজির হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যে বিষয়গুলোকে তিনি ন্যায়সংগত মনে করেন, সেগুলো নিয়ে কথা বলা থেকে তাঁকে কেউ বিরত রাখতে পারবে না।
চলতি বছর কান উৎসবে হান্নাহর নতুন কুইয়ার স্ল্যাশার ড্রামা ‘টিনএজ সেক্স অ্যান্ড ডেথ অ্যাট ক্যাম্প মিসমা’ প্রদর্শিত হয়েছে। সেখানে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘হ্যাকস’ অভিনেত্রী বলেন, ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকেই তিনি সাহস পাওয়ার শিক্ষা নিয়েছেন।
‘আমি সেই ফিলিস্তিনিদের পথ অনুসরণ করি, যাঁরা সব সময় নিজেদের হয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন,’ বলেন হান্নাহ। তাঁর ভাষায়, ‘আমি এমন এক ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে খুশি, যেখানে ফিলিস্তিনি ও তাঁদের ইহুদি মিত্ররা এমন এক সময়ে সরব থেকেছেন, যখন অনেকেই নীরব থাকতে বেছে নিচ্ছেন। আমি তাঁদের অনুসরণ করি।’
সুজান সারান্ডন ও মেলিসা বারেইরা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে কাজ হারানোর অভিযোগ তুলেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে যখন হান্নাহকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁরও কি ‘কালোতালিকাভুক্ত’ হওয়ার ভয় আছে, তখন তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তাঁরা যা জানেন, আমিও তা–ই জানি—চুপ থাকার মূল্য আরও বেশি।’
হান্নাহ আরও যোগ করেন, ‘কথা না–বলার ভেতরে আরও বড় এক ক্ষয় আছে। জীবনে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা পরিষ্কার থাকতে হবে। আমার ছোট্ট ক্যারিয়ার কখনোই একটি মানুষের জীবনের সমান হতে পারে না। তাই আমি এটাকে দায়িত্ব মনে করি এবং সব সময়ই কথা বলব।’
আলোচনায় হান্নাহ আরও কয়েকজন হলিউড তারকার প্রশংসা করেন, যাঁরা প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মেলিসা, সুসান, মার্ক রাফালো বা হাভিয়ের বারদেম—সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই।’
গত বছরের এমি অ্যাওয়ার্ডসে পুরস্কার গ্রহণের সময়ও হান্নাহ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন।’ পরে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, ‘দুঃখজনকভাবে হলিউডে অনেক মানুষ তখনই কোনো ইস্যুকে গুরুত্ব দেয়, যখন সেটি কোনো শ্বেতাঙ্গ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।’
কানে নিজের নতুন ছবি ‘টিনএজ সেক্স অ্যান্ড ডেথ অ্যাট ক্যাম্প মিসমা’ নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। ছবিটিতে তিনি ‘ক্রিস’ নামের এক স্বাধীনচেতা চলচ্চিত্র নির্মাতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পুরোনো এক কাল্ট হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চান। তাঁর সঙ্গে আছেন সেই সিরিজের একসময়ের ‘স্ক্রিম কুইন’, যাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন গিলিয়ান অ্যান্ডারসন।
হান্নাহর মতে, ছবিটি মূলত যৌনতা ঘিরে লজ্জা ও অস্বস্তির অনুভূতি নিয়ে কথা বলে, যে বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে খুব কম আলোচনা হয়।
দ্য গার্ডিয়ান ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে