ইসরায়েল সমালোচনা করে অভিনেত্রী বাদ, ছবির প্রিমিয়ার ঘিরে বিক্ষোভ
হলিউডের বহুল আলোচিত হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ক্রিম’ সিনেমার নতুন কিস্তির প্রিমিয়ারে বিক্ষোভের ঘটনা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারামাউন্ট পিকচার্সের স্টুডিও লটে আয়োজিত প্রিমিয়ারের বাইরে জড়ো হন প্রায় ২৫ জন বিক্ষোভকারী। তাঁদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, ড্রাম ও মাইক; শোনা যায় স্লোগান—‘স্ট্যান্ড ফার ফ্রি স্পিচ’, ‘ক্যানলেস প্যারামাউন্ট প্লাস’ ইত্যাদি স্লোগান
কেন এই বিক্ষোভ
ঘটনার সূত্রপাত আগেই। ফ্র্যাঞ্চাইজির সাবেক তারকা মেরিসা বারেরাকে ২০২৩ সালে সিরিজ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই ক্ষোভ। গাজা-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন ব্যারেরা। তাঁর পোস্টে ইসরায়েল সরকারের সমালোচনা ছিল, যা প্রযোজনা সংস্থা স্পাইগ্লাস মিডিয়া গ্রুপের কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়। সংস্থাটি জানায়, তারা ঘৃণাত্মক বক্তব্য বা ইহুদিবিদ্বেষের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে।
ব্যারেরাকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। প্রিমিয়ারের দিন সেই অসন্তোষ সরাসরি রাস্তায় গড়ায়।
পরিচালকের প্রতিক্রিয়া
লালগালিচায় কথা বলতে গিয়ে ছবির পরিচালক কেভিন উইলিয়ামসন বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন অনেক খারাপ ঘটনা ঘটছে। মানুষ তাদের কণ্ঠ শোনাতে চায়। তাদের প্রতি আমার সহমর্মিতা আছে। তবে প্যারামাউন্ট প্লাস বাতিল করাই সমাধান কি না, জানি না। প্রত্যেকে নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিক।’
উল্লেখ্য, প্রথম ‘স্ক্রিম’ ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন কেভিন উইলিয়ামসন। এবার তিনি পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন।
কাস্টে বড় রদবদল
ব্যারেরা বাদ পড়ার কিছুদিন পর সময়সূচি-সংক্রান্ত জটিলতার কথা জানিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়েন সহ-অভিনেত্রী জিনা ওর্তেগা। প্রাথমিকভাবে পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকা ক্রিস্টোফার ল্যান্ডনও সরে দাঁড়ান; ব্যারেরা বিতর্কের জেরে তিনি হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে চিত্রনাট্য পুনর্লিখন করে সিরিজের পুরোনো নায়িকা সিডনি প্রেসকট চরিত্রে ফিরিয়ে আনা হয় নেভ ক্যাম্পেবলকে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কোর্টনি কক্স, ম্যাথু লিলার্ড। নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আছেন ইসাবেল মে, জেসসমিন সেভয় ব্রাউন, মেসন গুডিং, আনা ক্যাম্প, জোয়েল ম্যাকহেল ও ম্যাকেনা গ্রেস।
গল্পে কী থাকছে
শুক্রবার মুক্তি পেতে যাওয়া ছবিতে দেখা যাবে—সিডনি প্রেসকট মেয়ে নিয়ে শান্ত জীবনের আশায় উডসবোরোতে ফিরেছেন। কিন্তু ‘ঘোস্টফেস’ আবারও ফিরে এসে সবকিছু ওলটপালট করে দেয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজির সামনে চ্যালেঞ্জ
‘স্ক্রিম’ সিরিজ বরাবরই সামাজিক বাস্তবতা ও হররকে এক সুতোয় বেঁধেছে। তবে এবার বাস্তবের রাজনৈতিক বিতর্কই যেন ছবির মুক্তির আগে সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
একদিকে মুক্ত মতপ্রকাশের প্রশ্ন, অন্যদিকে করপোরেট নীতির অবস্থান—এই টানাপোড়েনের মাঝেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘স্ক্রিম ৭’। বক্স অফিসে ছবির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলবে; তবে প্রিমিয়ারের রাতেই স্পষ্ট হয়েছে, এই সিনেমা শুধু হরর নয়—সমসাময়িক রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ হয়ে গেছে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে