১৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার আয়,বিশ্বজুড়ে মাতামাতি

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

বিশ্বব্যাপী মুক্তির মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ১ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরিয়ে গেছে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। এখন পর্যন্ত ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৮৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় আয় ৩০৬ মিলিয়ন ডলার, আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ৭৭৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় কিস্তির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে-
চীন: ১৩৮ মিলিয়ন ডলার
ফ্রান্স: ৮১ মিলিয়ন ডলার
জার্মানি: ৬৪ মিলিয়ন ডলার
কোরিয়া: ৪৪ মিলিয়ন ডলার

‘অ্যাভাটার’ সিরিজের তৃতীয় এই কিস্তি অবশ্য আগের দুই ছবির তুলনায় একটু ধীরগতিতেই ১ বিলিয়নের মাইলফলক ছুঁয়েছে। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ মাত্র ১৪ দিনেই এক বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্লাবে ঢুকে পড়েছিল। আর ২০০৯ সালের প্রথম ‘অ্যাভাটার’ ছবিটি এই মাইলফলক ছুঁয়েছিল ১৭ দিনে।

তবে আগের দুটি ছবিই দীর্ঘদিন বড় পর্দায় রাজত্ব করেছিল—টানা সাত সপ্তাহ ধরে বক্স অফিসের শীর্ষে ছিল তারা। শেষ পর্যন্ত সেগুলো হয়ে ওঠে চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ আয় করা ছবি। প্রথম ‘অ্যাভাটার’-এর আয় ছিল ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, আর এর সিকুয়েল আয় করেছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

দুই বিলিয়নের পথে কি এগোবে ‘অ্যাভাটার ৩’
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ বিশ্বব্যাপী আয়ে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। এই লক্ষ্য অর্জন অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক দর্শকের ওপর। কারণ, আগের দুটি ছবিকেই মূলত বিদেশি বাজারের দর্শকেরাই অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রথম ‘অ্যাভাটার’ শুধু আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই আয় করেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, আর ‘দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ বিদেশি বাজার থেকে তুলেছিল ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

ডিজনির আরেকটি রেকর্ড বছর
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ হলো ২০২৫ সালে ডিজনির তৃতীয় ছবি, যা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এর আগে একই বছরে এই মাইলফলক স্পর্শ করে ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ ও ‘জুটোপিয়া ২’। তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডিজনির প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো স্টুডিওই ২০২৩ সালের পর থেকে একটি ছবিও এক বিলিয়ন ডলারের ঘরে তুলতে পারেনি।

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

এই সাফল্যগুলো মিলিয়ে ডিজনির জন্য এটি এক স্বর্ণালি বছর। কোভিড-১৯ মহামারির পর এই প্রথম স্টুডিওটি বিশ্বব্যাপী আয়ে ৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাজার অংশীদারত্বের দিক থেকেও ডিজনি এখন শীর্ষে—বক্স অফিসে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কমপক্ষে ২ বিলিয়ন ডলার বেশি আয় করেছে স্টুডিওটি।

আরও পড়ুন

গল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে জেক সলি (স্যাম ওয়ার্থিংটন), নেইতিরি (জো সালদানা) ও তাঁদের পরিবারের চারপাশে। এবার তাঁদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে এক নতুন শত্রুর সঙ্গে।

এই ছবি দিয়ে পরিচালক জেমস ক্যামেরন তাঁর ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো এক বিলিয়ন ডলার আয়ের ছবি উপহার দিলেন। তাঁর আগের ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘টাইটানিক’। ক্যামেরনই এখন পর্যন্ত একমাত্র নির্মাতা, যাঁর ঝুলিতে রয়েছে তিনটি ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা ছবি।

প্যান্ডোরা জগৎ নিয়ে মোট পাঁচটি ছবি বানানোর পরিকল্পনা ছিল ক্যামেরনের। তবে সম্প্রতি তিনি মজার ছলেই বলেছেন, ‘অ্যাভাটার ৪’ ও ‘অ্যাভাটার ৫’ আদৌ বানানো হবে কি না, তা ঠিক করতে হলে হয়তো তাঁকে আলাদা করে সংবাদ সম্মেলনই করতে হবে। এমনও হতে পারে, তৃতীয় ছবিতেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতি টানা হবে।
‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর মুক্তির আগে ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন বলেন, ‘আমরা “অ্যাভাটার ৪”-এর কথা বলে হয়তো একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলছি। প্রথমত, এই ছবিটি দিয়ে আমাদের টাকা কামাতে হবে। প্রতিবার মাঠে নামার সময়ই আমাদের এই পাগলাটে ব্যবসায়িক হিসাবটা আবার প্রমাণ করতে হয়।’

ভ্যারাইটি অবলম্বনে