কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে বলতাম, আমি কবিতার মেয়ে ববিতা: জয়া আহসান
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জগতে দীর্ঘ সময় ধরে অসামান্য অবদানের জন্য সম্প্রতি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী ববিতা। এই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর প্রতিভা ও শিল্পী হিসেবে অর্জনের প্রশংসা করে ফেসবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। জয়া তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ববিতা আমাদের অভিনয়শিল্পের পাওয়ার হাউস।’
জয়া আহসান শৈশব থেকেই ববিতার অভিনয়ের ভক্ত। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ববিতাকে পছন্দ করেন। শৈশবের এই ভালো লাগার শুরুটা নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় নাকি আমি চুল গুছিয়ে মায়ের ঢলঢলে হাইহিল পরে ঘুরে বেড়াতাম। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে তার জবাবে বলতাম, আমি কবিতার মেয়ে ববিতা। কবিতাও ঠিক করে বলতে পারতাম না। ক-অ-বিতা।’
দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে মেধাবী অভিনেত্রীদের মধ্যে এখনো ববিতা অনুকরণীয়। জয়া মনে করেন, ‘ববিতা আমাদের অভিনয়শিল্পের পাওয়ার হাউস। তাঁর কাছ থেকে আমরা শিখেছি অভিনয় কীভাবে শিল্প হয়ে ওঠে, শিল্পীর ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য কীভাবে বহন করতে হয়।’
ববিতার অভিনয়গুণে অনেক সিনেমাই যেন প্রাণ পেয়েছে। যাঁর অভিনয়ের ছিল আলাদা শক্তি। ‘বহু দুর্বল সিনেমা স্মরণীয় হয়ে আছে শুধু তাঁরই (ববিতা) অভিনয়গুণে। ঢাকাই সিনেমার পরিচ্ছন্ন ধারাটি গড়ে উঠেছিল কেবলই তাঁর অভিনয়ের শক্তিতে।’
মেধার গুণেই তিনি দেশের বাইরে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘অশনি সংকেত’ সিনেমা দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হন।
সেই প্রসঙ্গে জয়া লিখেছেন, ‘সেই অবিকশিত সিনেমাজগতে থেকেও আশ্চর্য শক্তিতে তিনি নজর কেড়েছিলেন বিশ্ব সিনেমার। তাঁর চরিত্রগুলো শুধু বিশ্বাসযোগ্যই হয়ে ওঠেনি, হয়ে উঠেছে আমাদের অভিজ্ঞতার অংশ। তাঁর কাছ থেকে আমাদের নেওয়ার, পাওয়ার, শেখার শেষ নেই। আমরা শুধু চলচ্চিত্রের লোকেরাই নই, বাংলাদেশের মানুষেরা তাঁর কাছে পরিশোধের অতীত ঋণে আবদ্ধ।’
পোস্টের শেষে জয়া লিখেছেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসা। তাঁকে অনিঃশেষ অভিনন্দন, সব সময়।’