গতকাল শুক্রবার রাতে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আইসিটি ডিভিশনের পৃষ্ঠপোষকতা ও নিবেদনে বসেছিল চ্যানেল আই-স্ন্যাক কিপার ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের আসর। সেখানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির কনটেন্ট থেকে আটটি পুরস্কার এসেছে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ ওয়েব সিরিজ, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ কয়েকটি শাখায় দেওয়া হয়েছে এসব পুরস্কার। সেখানেই পুরস্কৃত হন তরুণ অভিনেতা মোস্তফা মন্ওয়ার।

১৯৭০ সালে জহির রায়হান তৈরি করেন সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’। সিনেমাটি তৎকালীন পাকিস্তানের সেন্সর বোর্ডের রোষানলে পড়ে। সেই সময় সেন্সর বোর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন জহির রায়হান। ‘জাগো বাহে’–এর ‘লাইট, ক্যামেরা...অবজেকশন’ পর্বে দেখানো হয়েছে সেই গল্প। আর সেখানে জহির রায়হানকে ফুটিয়ে তুলেছেন মোস্তফা মন্ওয়ার।

জহির রায়হানের কথা ভাবলেই চোখে ভাসে দুই হাত অ্যাওয়ার্ডে ভরা জহিরের একটি ছবি। আর তাঁর চরিত্রে অভিনয় করে পুরস্কার পেলেন মন্ওয়ার। কেমন ছিল অভিনয়ের সেই সফর? মোস্তফা মন্ওয়ার বলেন, ‘এর জন্য আমি খুব বেশ সময় পাইনি। এক সপ্তাহ কি দুই সপ্তাহ সময় পেয়েছিলাম। “গুণিন”–এর সপ্তাহখানেক পরপরই এটার শুটিং হয়। প্রথমে স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর গল্পটা খুব সিরিয়াসলি পড়ি। পড়ে খুবই এক্সাইটেড হয়ে যাই। খুবই ভালো লাগে।’
মোস্তফা মন্ওয়ার আরও বলেন, ‘খুবই নার্ভাস ছিলাম। কারণ, জহির রায়হানকে নিয়ে সবারই জানা। এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় খুবই ডিফিকাল্ট। প্রস্তুতি দুই রকমের হয়। ফিজিক্যাল ও ইন্টারনাল। বাইরের দিকটা মেকআপ, হেয়ারস্টাইল, কস্টিউম—এগুলোয় আসলে আমার খুব বেশি করণীয় নেই। খুব চেষ্টা করেছি ইন্টারনালি ক্যারেক্টারটাকে ধারণ করা। জহির রায়হানের ফিলোসফিটা বোঝা। এমনিতে তাঁকে নিয়ে পড়েছি। কিন্তু চরিত্র ধারণের জন্য আবার নতুন করে পড়াশোনা করেছি। বই, নানান ধরনের লেখা পড়ে তাঁর দৃষ্টিকোণ, তাঁর ভ্যালুজ, আইডিওলজি ধারণ করার চেষ্টা করেছি। ইন্টারনালি মনোযোগ দিলে বাইরেও তাঁর ছাপ পড়ে।’

মোস্তফা মন্ওয়ার জানান, শুটিংয়ের সময় যেমন তিনি রোমাঞ্চিত ছিলেন, তেমনি চাপও ছিল। তবে সবাই তাঁকে খুব সাহায্য করেছেন।
ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে ওয়েবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে চরকির ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে পুরস্কার জিতেছেন একই প্ল্যাটফর্মের ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ছবির মিজানুর রহমান আরিয়ান, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’র ফজলুর রহমান বাবু, একই ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তমা মির্জা।
শ্রেষ্ঠ ওয়েব সিরিজের পুরস্কার জিতেছে চরকির ‘ঊনলৌকিক’। ওয়েব সিরিজের শ্রেষ্ঠ পরিচালক হইচইয়ের সিরিজ ‘মহানগর’-এর আশফাক নিপুণ, সিরিজের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা চরকির ইন্তেখাব দিনার (ঊনলৌকিক), অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ (লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, জি ফাইভের)।

নাটকে শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও পরিচালক মারুফ হোসেন (বিলোপ), শ্রেষ্ঠ পরিচালক ভিকি জাহেদ (পুনর্জন্ম), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা আফরান নিশো (বিলোপ), অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা (অহং), মেহজাবীন চৌধুরী (পুনর্জন্ম)। শ্রেষ্ঠ রাইজিং স্টার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন চরকির তাসনিয়া ফারিণ (তিথির অসুখ) ও মোস্তফা মন্ওয়ার (জাগো বাহে)। শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও শাহরিয়ার পলকের ‘রাত জাগা পাখি’, শ্রেষ্ঠ ইউটিউব কনটেন্ট নাদিরের ‘এটাই আসল ঢাকা’, ফেসবুক কনটেন্ট শামীমা শ্রাবণীর ‘কুত্তা কেন বলো, টাইসন বলো’, শ্রেষ্ঠ এডুটেনমেন্ট কনটেন্ট জুবায়ের তালুকদারের ‘ফটোগ্রাফি কম্পোজিশন ফর বিগিনার্স’, অ্যাগ্রোটেক দেশের প্রথম আবহাওয়া পূর্বাভাসবিষয়ক ডিজিটাল তথ্যসেবা মার্স, হেলথটেক স্টেমসেল থেরাপিতে অবদানের জন্য টটি সেল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকার হিসেবে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।