মুক্তির বিতর্কের পর টপ চার্টের শীর্ষে, কী আছে এই সিনেমায়

‘থ্র্যাশ’ সিনেমার দৃশ্য। ছবি: নেটফ্লিক্স

নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিনেমা ‘থ্র্যাশ’ মুক্তি পায় ১০ এপ্রিল। মুক্তির পর সিনেমাটির রেটিং ছিল নিম্নমুখী, অনেক দর্শক হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন। সব মিলিয়ে শুরুতেই যেন সিনেমাটির গায়ে ‘ব্যর্থ’ তকমা লেগে যায়। কিন্তু কয়েক দিন যেতেই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে উঠে এসেছে সিনেমাটি।

মুক্তির পর থেকেই সারভাইভাল থ্রিলারটি বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবির কাহিনি শুনলে প্রথমে মনে হবে, এটি খুবই পরিচিত এক দুর্যোগভিত্তিক থ্রিলার। ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত একটি উপকূলীয় শহর, পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর, আর সেই পানিতে হঠাৎ হাজির হাঙরের দল—যার নেতৃত্বে রয়েছে এক ভয়ংকর সাদা হাঙর। মানুষ বাঁচার চেষ্টা করছে, চারপাশে মৃত্যু, আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা। ওপর থেকে দেখলে এটি যেন একেবারেই সাধারণ বি গ্রেড থ্রিলারের গল্প।

কিন্তু এখানেই রয়েছে মোচড়। এই ছবির নির্মাতা টমি উইরকোলা ভৌতিক ও ডার্ক কমেডি সিনেমার জন্য পরিচিত। তাঁর ‘ডেড স্নো’ ও ‘ভায়োলেন্ট নাইট’ দেখা দর্শকমাত্রই জানেন টমি কখনো সরলভাবে গল্প বলেন না; বরং পরিচিত ধারাকে উল্টে দিয়ে তৈরি করেন নতুন অর্থ।

এই সিনেমাতেও সবকিছু অতিরঞ্জিত, কিন্তু উপস্থাপন এতটাই গম্ভীর যে দর্শক সহজে বুঝতে পারেন না, এটি আসলে একধরনের ব্যঙ্গ। চরিত্রগুলো পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে নেয়, যদিও ঘটনাগুলো স্পষ্টতই অযৌক্তিক। অনেকেই এম নাইট শ্যামলনের দ্য হ্যাপেনিং-এর সঙ্গে ছবিটির তুলনা টানছেন, দুর্বল অভিনয় ও অদ্ভুত কাহিনির জন্য সে ছবিটিও মুক্তির সময় সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু পরে বোঝা যায়, সেটিও ছিল একধরনের ইচ্ছাকৃত বি গ্রেড ন্যারেটিভের পরীক্ষা।

আরও পড়ুন

‘থ্র্যাশ’ সিনেমাতেও একই ধরনের ইঙ্গিত ছড়িয়ে আছে। সিনেমাটির প্রধান চরিত্র ডাকোটা—যার খোলা জায়গা নিয়ে ভয় কাজ করে। ঝড় ও হাঙরের আতঙ্কেও বাড়ি ছাড়তে চায় না। তার আত্মীয়, একজন সমুদ্রগবেষক, তাকে বাঁচাতে ঠিক সময়েই হাজির হন। অন্যদিকে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ঠিক সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেই সন্তান জন্ম দেন, যেখানে চারপাশে হাঙরের উপস্থিতি। এমন দৃশ্যগুলো এতটাই চরম যে তা বাস্তবতার সীমা ছাড়িয়ে ব্যঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে।

`থ্র্যাশ' সিনেমার পোস্টার। ছবি: নেটফ্লিক্স

এ ছাড়া রয়েছে আরেকটি উপকাহিনি—নির্যাতনকারী অভিভাবকের সঙ্গে থাকা পালক সন্তানদের গল্প, যেখানে অস্ত্র, বিস্ফোরক আর মাংস মজুত করার মতো অদ্ভুত উপাদান রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি উপাদান যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বাড়াবাড়ি’, যাতে দর্শক বুঝতে পারেন এটি কেবল থ্রিলার নয়, বরং থ্রিলারের ভেতর লুকানো এক ব্যঙ্গচিত্র।

সমস্যা হলো, এই ব্যঙ্গ খুব সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্মাতা কোথাও সরাসরি বলেননি যে এটি মজা করে বানানো। ফলে অনেক দর্শক সেটিকে সরলভাবে গ্রহণ করেছেন এবং হতাশ হয়েছেন। কেউ লিখেছেন, ‘হাঙরগুলোই সবচেয়ে ভালো অভিনয় করেছে।’ কেউ আবার একে জীবনের সবচেয়ে খারাপ সিনেমা বলেছেন। কিন্তু এসব প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে, ছবিটির ‘মজা’ অনেকের চোখ এড়িয়ে গেছে।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ফোবি ডাইনেভর, হুইটনি পিক, জিমোঁ উন্সু।

পিপলডটকম অবলম্বনে