জানুয়ারি মাস মানেই হলিউডে বড় সিনেমার খরা। অস্কারের আমেজ শেষে বড় স্টুডিওগুলো যখন কিছুটা জিরিয়ে নেয়, ঠিক তখনই পর্দা দখল করেন মারকাটারি অ্যাকশন হিরোরা। তবে এবারের জানুয়ারিতে নেটফ্লিক্স দর্শকদের জন্য নিয়ে এল দারুণ এক চমক। জো কারনাহানের পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘দ্য রিপ’। হলিউডের নব্বইয়ের দশকের চিরচেনা ‘বাডি কপ’ ঘরানায় বানানো সিনেমাটির প্রধান আকর্ষণ ‘আইকনিক’ বন্ধু জুটি ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেকের পুনর্মিলন। প্রায় ২৫ বছর আগে ‘গুড উইল হান্টিং’-এ যে নিখাদ বন্ধুত্বের সুচনা হয়েছিল, দ্য রিপ সিনেমায় সেটাই যেন আরও পরিপক্ব আবহে দেখা দিল।
একনজরে
সিনেমা: ‘দ্য রিপ’
ধরন: ক্রাইম থ্রিলার
ভাষা: ইংরেজি
পরিচালনা: জো কারনাহান
অভিনয়: ম্যাট ডেমন, বেন অ্যাফ্লেক, তিয়ানা টেইলর
স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স
দৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
মায়ামির এক পুলিশ কর্মকর্তার রহস্যময় মৃত্যুর জট খুলতে মাঠে নামে পুলিশের এক বিশেষ টাস্কফোর্স। দলের নেতৃত্বে থাকে লেফটেন্যান্ট ডেন ডুমারস (ম্যাট ডেমন), আর তার ছায়াসঙ্গী ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জেডি বার্ন (বেন অ্যাফ্লেক)। ডেন ঠান্ডা মাথার মানুষ, অন্যদিকে জেডি কথার চেয়ে ঘুষি চালাতেই বেশি পছন্দ করে। পর্দায় বিপরীতধর্মী এই দুই বন্ধুর রসায়নে মিশে আছে হলিউডের ক্ল্যাসিক থ্রিলারের নস্টালজিয়া।
মায়ামি পুলিশের পরিভাষায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ টাকা জব্দ করার প্রক্রিয়াকে বলে ‘রিপ’। এ সিনেমার কেন্দ্রে আছে তেমনই একটি অভিযান, ছবির তাই নাম দ্য রিপ। সে অভিযানে একটি বাড়ির চিলেকোঠায় লুকানো দুই কোটি ডলার খুঁজে পায় ডেন ও তার দল। বিশাল এই অর্থের অঙ্ক মুহূর্তেই বদলে দেয় সব সমীকরণ। কয়েক লাখ ডলারের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া সহজ, কিন্তু দুই কোটি ডলারের লোভ সামলানো কঠিন। দলের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় সন্দেহ, অবিশ্বাস আর নৈতিক লড়াই। কেউ চায় টাকা জমা দিতে, কেউ চায় ভাগ করে নিয়ে সটকে পড়তে। অন্যদিকে এতগুলো টাকা যার হাতছাড়া হয়েছে, সে নিশ্চয়ই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ফলে বাইরে থেকেও শুরু হয় শত্রুর মরণপণ আক্রমণ।
আগেও ‘নার্ক’ বা ‘দ্য গ্রে’র মতো সিনেমায় নিজের নির্মাণকুশলতা দেখিয়েছেন পরিচালক জো কারনাহান। দ্য রিপ-এর বাজেট প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। এর বড় একটি অংশ দুই তারকার পেছনে খরচ হলেও কারিগরি নির্মাণে কোনো কমতি ছিল না। ম্যাট ডেমন এখানে অনবদ্য। বয়সের ভারে ক্লান্ত ও অভিজ্ঞ এক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রটি তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের বাস্তব জীবনের অটুট বন্ধুত্ব পর্দার চরিত্র দুটির রসায়নকে আরও গভীরতা দিয়েছে।
পার্শ্বচরিত্রে তিয়ানা টেইলর ও স্টিভেন ইয়ানও সাবলীল। তবে সিনেমার শেষ দিকে এসে পরিচালক কিছুটা যেন খেই হারিয়ে ফেলেছেন। রহস্য সমাধানে অতিরিক্ত সময় নেওয়ার ফলে কোথাও কোথাও দর্শকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। কিছু সংলাপ ও পরিস্থিতি প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশিই নাটকীয় মনে হয়েছে।
‘দ্য রিপ’ গুরুগম্ভীর সিনেমা নয়, স্রেফ বিনোদনের জন্য নির্মিত একটি অ্যাকশন সিনেমা। যাঁরা নব্বইয়ের দশকের দুর্ধর্ষ পুলিশের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এটি দারুণ উপভোগ্য হবে। বন্ধুত্ব, লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতার এ রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে বসে দর্শক হতাশ হবেন না।