ভেনেজুয়েলা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে সিরিজ
সাধারণত নতুন দিনের সিনেমা কিংবা সিরিজের গল্প বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতিও তুলে ধরে সুনিপুণভাবে। পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয় বাস্তব বিশ্বের সমস্যা ও ভূরাজনৈতিক নানা বিষয়। তেমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে ‘জ্যাক রায়ান’ সিরিজে। গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কার্যত অপহরণ করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরেই এখন দিন কাটছে নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর। অথচ কদিন আগেও তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সেভাবে আন্দাজ করতে পারেনি কেউ। মার্কিন হুমকি থাকা সত্ত্বেও এই দেশের প্রেসিডেন্টকে উড়িয়ে নিয়ে মার্কিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে—এমন কথাও আদতে কেউ আন্দাজ করতে পারেনি।
অথচ ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল কয়েক বছর আগেই। আর সেটি ঘটেছিল জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাক রায়ান’-এ। ২০১৯ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের একটি দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ফেসবুক থেকে ইনস্টাগ্রাম সবখানে এই একটি দৃশ্যই ঘুরপাক খাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিরিজের একটি দৃশ্যে জন ক্রাসিনস্কির অভিনীত প্রধান চরিত্র জ্যাক রায়ান সিআইএর কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন তুলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে হুমকির মুখে কোন দেশ। জবাবে একজন বলেছেন রাশিয়ার নাম। এরপর জ্যাক রায়ান জানতে চান, আর কে? একজন বলে ওঠেন চীনের নাম, কেউ বলেন, উত্তর কোরিয়া।
এবার সিআইএ বিশ্লেষক জ্যাক রায়ান নিজেই বলেন, ভেনেজুয়েলার কথা কারও মনে এসেছে? কারও কাছ থেকেই তেমন উত্তর না পেয়ে তিনি বলতে থাকেন, ভেনেজুয়েলাই হতে পারে বিশ্বের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট। কারণ, সৌদি আরব বা ইরানের চেয়েও বেশি তেল ও আফ্রিকার সব খনি মিলিয়ে যত সোনা আছে, তার চেয়েও বেশি খনিজ ভেনেজুয়েলায়। বিপুল তেল, সোনা ও খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে ভেনেজুয়েলা। খুব কাছে হওয়ায় ভবিষ্যতে এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এই কল্পনাপ্রসূত সংলাপই বাস্তবে ধরা দিল ট্রাম্পের কার্যক্রমে। এই দৃশ্য নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে নেটিজেনদের মধ্যে।
নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই ঘোষণার সঙ্গে সিরিজের দৃশ্যের মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। কেউ এটিকে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক মুহূর্ত বলছেন। কেউ বলছেন, সিরিজটি বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ আগেভাগেই তুলে ধরেছিল।
এই দৃশ্য নিয়ে সিরিজের সহনির্মাতা কার্লটন কিউস বলেছেন, সিরিজ তৈরির উদ্দেশ্য ছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক থ্রিলার তৈরি করা, কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা নয়। তবে এটা সত্যি যে বাস্তব ভূরাজনীতি অনেক সময় কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। টম ক্লেন্সির লেখা থেকে নির্মিত সিরিজের প্রথম সিজন মুক্তি পায় ২০১৮ সালে।