ওটিটিতে আলোচিত সিনেমা–সিরিজ, কোনটি কোথায় দেখবেন, কেন দেখবেন

চলতি আগস্ট মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুক্তি পেয়েছে আলোচিত সব সিনেমা ও সিরিজ। কোলাজ

চলতি আগস্ট মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুক্তি পেয়েছে আলোচিত সব সিনেমা ও সিরিজ। কয়েকটি আছে মুক্তির অপেক্ষায়। এত সিনেমা সিরিজের ভিড়ে কোনগুলো দেখবেন? কেনই–বা দেখবেন? সব ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আবার বাংলাদেশ থেকে দেখাও যায় না। বাংলাদেশ থেকে দেখায় এমন প্ল্যাটফর্মের বাছাই ১০ সিনেমা ও সিরিজ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

‘রঙিন সুরমা’, চরকি
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটির বড় প্রাপ্তি আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির জুটি। বয়সের সঙ্গে সীমিত হয়ে আসে মানুষের চাহিদা, কমে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা; অন্য রকম হয়ে ওঠে হারানোর ভয়। এর সঙ্গে যোগ হয় অসুস্থতা, একাকিত্ব ও বয়সের নানা সীমাবদ্ধতা। জীবনের শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া মুন্তাসির ও শাহিদা কীভাবে এসব ক্ষয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও একে অপরকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেন, ‘রঙিন সুরমা’য় সেই গল্পই বলতে চেয়েছেন নির্মাতা রিয়াজুল হক।
যাঁরা থ্রিলারের বাইরে ড্রামাধর্মী কাজ দেখতে চান, ‘রঙিন সুরমা’ হতে পারে ভালো পছন্দ।

‘রঙিন সুরমা’র পোস্টার। চরকির সৌজন্যে

‘রিচার ৪’, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও
অ্যাকশনপ্রেমীদের প্রিয় সিরিজ ‘রিচার’ আবার ফিরেছে। চতুর্থ মৌসুমের প্রথম তিন পর্ব মুক্তি পেয়েছে ১২ আগস্ট। আট পর্বের বাকি পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে মুক্তি পাবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নতুন মৌসুমটি শুরু হচ্ছে এক অদ্ভুত ঘটনার মধ্য দিয়ে। গভীর রাতে নিউইয়র্কের একটি পাতাল রেলে এক অপরিচিত নারীর সঙ্গে রিচারের দেখা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ওই নারীর মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয় বড় রহস্য। রিচার স্বভাবতই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন না। এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন এমন এক ষড়যন্ত্রে, যার শিকড় পৌঁছে গেছে ক্ষমতার একেবারে ওপরের মহলে। লি চাইল্ডের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিরিজটিতে এবারও রিচার চরিত্রে আছেন অ্যালান রিচসন। সিরিজটির শো রানার নিক সানতোরা।
রিচার জটিল মানুষ নন। তিনি জানেন অন্যায় হলে কী করতে হবে। তাঁর নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার। বাস্তব জীবনে যেখানে ভালো-মন্দের সীমারেখা অনেক সময় ধূসর, রিচারের জগতে তা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। ফলে দর্শক তাঁর সঙ্গে সহজেই একাত্ম হতে পারেন।

প্রতিটি মৌসুমে রিচারের অতীত সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যায়। কিন্তু পুরোপুরি জানা যায় না। তিনি কোথা থেকে এসেছেন, কেন এমন জীবন বেছে নিয়েছেন, কেন মানুষের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করেন না, কেন সব সময় একা থাকতে চান—এ প্রশ্নগুলো চরিত্রটির প্রতি কৌতূহল ধরে রাখে। ‘রিচার’-এ অ্যাকশন আছে। গুলি আছে। ধাওয়া আছে। খুন আছে। কিন্তু প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্যের আগে সাধারণত একটি তদন্ত থাকে। রিচার আগে প্রতিপক্ষকে বোঝেন, তারপর আঘাত করেন। এ কারণে সিরিজটি একই সঙ্গে গোয়েন্দা গল্প ও অ্যাকশন সিরিজের দর্শককে ধরে রাখতে পারে।

‘রিচার ৪;–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’, নেটফ্লিক্স
দেশভাগ নিয়ে প্রচুর হিন্দি সিনেমা হয়েছে, ১৪ আগস্ট এসেছে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। তবে ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ আলাদা এর গল্প বলার ধরনের কারণেই। প্রেক্ষাগৃহে আগেই এসেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওটিটিতে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকের কাছে প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি। দেশভাগ নিয়ে এত সিনেমার ভিড়ে এটা কেন আলাদা?

অন্য অনেক দেশভাগের সিনেমার মতো এখানে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে খলনায়ক বানানো হয়নি। বরং সহিংসতার পেছনে কাজ করা উন্মত্ত, অমানবিক ইতিহাসকেই দায়ী করা হয়েছে। ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—আগের প্রজন্ম কি নিজেদের ট্রমা লুকিয়ে রেখে পরের প্রজন্মকে রক্ষা করতে চেয়েছিল? দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতি সন্তানদের কাছ থেকে গোপন করে রাখা হয়েছিল হয়তো তাদের মানসিকভাবে নিরাপদ রাখার জন্য। কিন্তু এই সিনেমা দেখায়, গভীর ক্ষতকে চাপা দিলে সেটি মুছে যায় না; বরং অন্য রূপে ফিরে আসে। আরও প্রবলভাবে।
দুর্দান্ত চিত্রনাট্য ও নির্মাণ সঙ্গে নাসিরউদ্দিন শাহ ও দিলজিৎ দোসাঞ্জের অভিনয় এটিকে চলতি বছরের অন্যতম সেরা হিন্দি সিনেমা বানিয়েছে।

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

‘ওম্যান ইন ব্লু ২’, অ্যাপল টিভি+
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ও সিরিজ সারা দুনিয়াতেই এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। তেমন কিছু দেখতে চাইলে সিরিজটি হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। মেক্সিকোর প্রথম নারী পুলিশ বাহিনীর সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি সিরিজটির দ্বিতীয় মৌসুমের প্রচার গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। আট পর্বের নতুন মৌসুমের শেষটি মুক্তি পাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। চার নারী পুলিশ এবার এমন এক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামবেন, যার সূত্র মিশে আছে ১৯৬৮ সালের ছাত্র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে।
মেক্সিকো সিটির রাস্তায় তখন পুরুষ পুলিশদের দাপট। নারীদের পুলিশ হিসেবে নিয়োগ করা হলেও তাঁদের কাজ নিয়ে ছিল তীব্র অবজ্ঞা। সেই বাস্তবতার মধ্যেই পুলিশের ইউনিফর্ম পরেছিলেন কয়েকজন নারী। দ্বিতীয় মৌসুমেও ফিরেছেন বারবারা মোরি, জিমেনা সারিনানা, নাতালিয়া তেলেস ও আমোরিতা রাসগাদো। সিরিজটির পরিচালক ফার্নান্দো রোভজার ও পাবলো আরামেন্দি।

আরও পড়ুন

‘ককটেল ২’, নেটফ্লিক্স
গুরুগম্ভীর মেজাজের কাজ দেখতে দেখতে ক্লান্ত। তাহলে দেখে নিতে পারেন হালকা মেজাজের এই রোমান্টিক হিন্দি সিনেমাটি। নামের সঙ্গে ইমতিয়াজ আলীর ‘ককটেল’ থাকলেও এটি সরাসরি সেই সিনেমার সিক্যুয়েল নয়। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, প্রেম, ঈর্ষা ও ত্রিভুজ সম্পর্ককে নতুন চরিত্রে তুলে ধরা একটি স্পিরিচুয়াল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন হোমি আদাজানিয়া। প্রধান তিন চরিত্রে আছেন শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানা।

এবারের গল্পের কেন্দ্রে কুনাল, দিয়া ও অ্যালি। শহীদ কাপুরের কুনাল দিল্লি-এনসিআরভিত্তিক একজন শেফ। রাশমিকা মান্দানার দিয়া তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে আছেন। তাঁরা প্রায় ১৬ বছর ধরে একসঙ্গে, অর্থাৎ সম্পর্কটি নতুন প্রেমের উত্তেজনা পেরিয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল ও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে দুজনেরই খুব একটা আগ্রহ নেই। সমস্যা হলো সমাজ তাঁদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। চারপাশ থেকে বারবার আসে একই প্রশ্ন—‘কবে বিয়ে করছেন?’

বিয়ের মৌসুম সামনে রেখে এই প্রশ্ন থেকে বাঁচতেই কুনাল ও দিয়া সিদ্ধান্ত নেন, কিছুদিনের জন্য ভারত থেকে দূরে চলে যাবেন। তাঁরা পাড়ি দেন ইতালির সিসিলিতে। সেখানেই তাঁদের জীবনে ফিরে আসে দিয়ার পুরোনো কলেজবন্ধু অ্যালি, চরিত্রটি করেছেন কৃতি শ্যানন। অ্যালি প্রাণবন্ত, স্বাধীনচেতা এবং অনেক বেশি বেপরোয়া। তাঁর উপস্থিতি কুনাল ও দিয়ার বহুদিনের স্থিতিশীল সম্পর্কের ভেতরের চাপা অনিশ্চয়তাগুলো সামনে নিয়ে আসে।

‘ককটেল ২’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

ছবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লিভ-ইন সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে সামাজিক চাপ। কুনাল ও দিয়া দীর্ঘদিন একসঙ্গে থেকেও বিয়ে করতে চান না। তাঁদের কাছে সম্পর্কের বৈধতা পাওয়ার জন্য বিয়ে অপরিহার্য নয়; কিন্তু পরিবার ও সমাজ বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখে। ছবিটি বর্তমান শহুরে ভারতীয় মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত জীবনের একটি বাস্তব সমস্যাকে তুলে ধরেছে—দুজন মানুষ নিজেদের মতো করে সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও চারপাশের মানুষ বারবার সেই সম্পর্ককে প্রচলিত কাঠামোয় ঢোকাতে চায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সিচুয়েশনশিপ, কমিটমেন্ট, ইনসিকিউরিটি ও ট্রাস্ট ইস্যু—আধুনিক প্রেমের পরিচিত কিছু শব্দ ও সংকট।

‘দ্য লাস্ট হাউস’, নেটফ্লিক্স
নেটফ্লিক্সে মুক্তির পরই দারুণ সাড়া ফেলেছে ‘দ্য লাস্ট হাউস’। স্ট্রিমিংয়ের প্রথম তিন দিনে গ্রেটা লি ও ওয়াগনার মৌরা অভিনীত থ্রিলার সিনেমাটি ২ কোটি ৭৫ লাখ ভিউ পেয়েছে। ৩ থেকে ৯ আগস্ট—এই এক সপ্তাহের হিসাবে নেটফ্লিক্সের দর্শকসংখ্যার তালিকায় এটি সরাসরি শীর্ষে উঠে এসেছে। শুধু ইংরেজি ভাষার সিনেমার মধ্যে নয়, ওই সপ্তাহে নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি দেখা কনটেন্ট হয়েছে এটি। ফলে মুক্তির পরপরই সিনেমাটি নেটফ্লিক্সের অন্যতম আলোচিত কনটেন্টে পরিণত হয়েছে।

একটি বাড়ি। বাইরে অবিরাম বৃষ্টি। দরজা খোলা যাচ্ছে না, জানালা খোলা যাচ্ছে না। ফোন, ইন্টারনেট—কোনো কিছুই যেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। চারজন মানুষ বুঝতে পারছে, তারা শুধু নিজেদের বাড়িতেই আটকা পড়েনি, সম্ভবত পুরো পৃথিবী থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোনো ভূত নয়, বরং বাড়িটা থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই, এটাই হয়ে ওঠে মূল ভয়। সিনেমাটি এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
‘দ্য লাস্ট হাউস’কে শুধু হরর ছবি বললে হয়তো এর ধরনটা পুরোপুরি বোঝা যাবে না। নেটফ্লিক্স নিজেই ছবিটিকে সায়েন্স ফিকশন, হরর ও থ্রিলারের মিশ্রণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের মতে, ছবিটি ভয় দেখানোর চেয়ে পরিবারের ভেতরের সম্পর্ক ও মানসিক চাপকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে এতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সিনেমাটি।

ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ গ্রেটা লি। ‘পাস্ট লাইভস’ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়া এই অভিনেত্রী এখানে রাইলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রাইলি একজন মা, যাঁকে একই সঙ্গে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে হবে এবং নিজের ভয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ চরিত্রে বড় কোনো অ্যাকশন দৃশ্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখের অভিব্যক্তি, নীরবতা ও আতঙ্ক। ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা ওয়াগনার মৌরা আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘নার্কোস’-এর পাবলো এসকোবার চরিত্রের জন্য। এবার তিনি জেসন চরিত্রে। জেসন এমন একজন বাবা, যিনি শুরুতে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা খুঁজতে চান। কিন্তু সময় যত এগোয়, বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর লড়াই তত কঠিন হয়ে ওঠে।

ছবিটির পরিচালক লুই লেতেরিয়ের এর আগে বড় বাজেটের অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে দ্য‘ ইনক্রেডিবল হাল্ক’, ‘নাউ ইউ সি মি’, ‘ফাস্ট এক্স’। এ ছবিতে তিনি বিপরীত পথে হেঁটেছেন। বড় অ্যাকশন সেটের বদলে প্রায় পুরো গল্পকে আটকে দিয়েছেন একটি বাড়ির মধ্যে।

‘দ্য লাস্ট হাউস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘মাইকেল’, জিওহটস্টার
একদিকে সমালোচকদের তীব্র আপত্তি, অন্যদিকে দর্শকের উচ্ছ্বাস—২০২৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ‘মাইকেল’। অ্যান্টোইন ফুয়াকোয়া পরিচালিত মাইকেল জ্যাকসনের এই বায়োপিক বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করা মিউজিক বায়োপিক। জুলাইয়ে সিনেমাটি ১০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার পর এর মোট আয় ১০২ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এবার আসছে ওটিটিতে।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই সাফল্যের পেছনে সমালোচকদের প্রশংসা খুব একটা ছিল না। রটেন টমেটোজে সমালোচকদের স্কোর মাত্র ৩৮ শতাংশ, মেটাক্রিটিকে ৩৯। অথচ দর্শকের স্কোর ৯৭ শতাংশের কাছাকাছি। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সমালোচকেরা যে সিনেমাকে খুব একটা পছন্দ করলেন না, সেই সিনেমাই কীভাবে এত বড় বক্স অফিস সাফল্য পেল?

উত্তরটা লুকিয়ে আছে মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা, তাঁর গানের অমর আবেদন, ভক্তদের আবেগ, অভিনয়ের চমক এবং সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক বিশাল সাংস্কৃতিক কৌতূহলের মধ্যে।

‘মাইকেল’ মুক্তি পায় ২৪ এপ্রিল। মুক্তির আগে অনুমান ছিল, উত্তর আমেরিকায় প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ডলারের মতো আয় করতে পারে। কিন্তু সেই হিসাবকে অনেকটাই ভুল প্রমাণ করে প্রথম সপ্তাহান্তেই সিনেমাটি শুধু উত্তর আমেরিকা থেকে আয় করে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাপী প্রথম সপ্তাহান্তের আয় দাঁড়ায় ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

এটি ছিল কোনো বায়োপিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সাফল্য এসেছে এমন সময়ে, যখন সমালোচকদের বড় একটি অংশ সিনেমাটির সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলছিলেন। অর্থাৎ দর্শক যেন শুরু থেকেই সমালোচকদের রায়কে পাশ কাটিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।

এখানেই ‘মাইকেল’-এর প্রথম বড় সাফল্যের সূত্র। মাইকেল জ্যাকসন নিজেই ছিলেন সবচেয়ে বড় ‘ব্র্যান্ড’। একজন অভিনেতা, পরিচালক কিংবা প্রযোজকের নাম দিয়ে যে সিনেমার প্রচারণা চালাতে হয়, ‘মাইকেল’-এর ক্ষেত্রে সেই প্রয়োজন ছিল না। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মাইকেল জ্যাকসন—এমন একজন শিল্পী, যাঁকে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রজন্ম কোনো না কোনোভাবে চেনে।

‘মাইকেল’–এ জাফর জ্যাকসন। আইএমডিবি

‘থ্রিলার’, ‘বিলি জিন’, ‘বিট ইট’, ‘ব্যাড’, ‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট’, ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’—তাঁর গান শুধু গান নয়, পপ সংস্কৃতির ইতিহাসের অংশ। ফলে সিনেমাটি মুক্তির আগেই এর সম্ভাব্য দর্শক তৈরি ছিল। কেউ মাইকেলের গান শুনে বড় হয়েছেন, কেউ তাঁর মুনওয়াক দেখে বড় হয়েছেন, আবার নতুন প্রজন্ম তাঁকে আবিষ্কার করেছে ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।

দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো—অনেক দর্শক সিনেমাটিকে একটি বায়োপিকের চেয়ে মাইকেল জ্যাকসনের বড় পর্দার কনসার্ট হিসেবে গ্রহণ করেছেন। রটেন টমেটোজের দর্শক পর্যালোচনাতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। দর্শকদের বড় অংশ বলেছেন, সিনেমাটি তাঁদের মাইকেল জ্যাকসনের কনসার্টের কাছাকাছি এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। দর্শক স্কোরও ৯৭ শতাংশের আশপাশে ছিল। মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের অভিনয় যে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, সে কথা বলাই বাহুল্য।

‘দ্য লাস্ট সানরাইজ’, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও
কখনো কখনো একটি প্রেমের গল্প আসলে প্রেমের গল্প থাকে না। তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, নিজের শরীরের সঙ্গে লড়াই এবং হারিয়ে যাওয়ার আগেই জীবনটাকে একটু বেশি করে অনুভব করার চেষ্টা। ‘দ্য লাস্ট সানরাইজ’ তেমনই একটি গল্প।

মায়া রেফিকো, ফার্নান্দো লিনদেজ ও ইভা লঙ্গোরিয়া অভিনীত এই রোমান্টিক ড্রামা তৈরি হয়েছে লেখক আনা টডের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন কার্লসন ইয়ং, চিত্রনাট্য লিখেছেন আনা ক্লাসেন। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের প্রযোজনায় সিনেমাটি ২৬ আগস্ট প্রাইম ভিডিওতে মুক্তির কথা রয়েছে।

কিন্তু ‘দ্য লাস্ট সানরাইজ’কে শুধু আরেকটি গ্রীষ্মের প্রেমের সিনেমা ভাবলে ভুল হবে। কারণ, এর কেন্দ্রে যে তরুণী, তার কাছে গ্রীষ্মের এই কয়েকটি দিন নিছক ছুটি নয়; বরং নিজের জীবনটাকে নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার একটি বিরল সুযোগ।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ওরিয়াহ ‘রাই’ পেরা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন মায়া রেফিকো। রাই একজন কলেজছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে সে। তার জীবনের ওপর সেই অসুস্থতার প্রভাব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মায়ের অতিরিক্ত সুরক্ষাবোধ।

রাইয়ের মা ইসোলডে—চরিত্রটিতে ইভা লঙ্গোরিয়া। মেয়েকে নিরাপদ রাখতে গিয়ে তিনি যেন তার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করতে চান। এ সম্পর্কটাই সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কারণ, রাই শুধু নিজের শরীরের সঙ্গে লড়ছে না; সে লড়ছে নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও। একপর্যায়ে মা-মেয়ে চলে যায় স্পেনের মায়োরকায়। আর সেই ভ্রমণই বদলে দেয় রাইয়ের জীবন।

‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: চ্যাপ্টার ২’, এইচবিও ম্যাক্স
ভয়ংকর কোনো রাত শেষ হয়ে গেলে সাধারণত মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। মনে হয়, বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: চ্যাপ্টার ২’ সেই স্বস্তির জায়গাটাকেই সবচেয়ে বড় আতঙ্কে পরিণত করে। এখানে ভয় শেষ হয় না; বরং প্রথম অধ্যায়ের শেষে যে মেয়েটি কোনোভাবে বেঁচে গিয়েছিল, তার জন্য দুঃস্বপ্ন শুরু হয় আরও একবার।
ম্যাডেলেইন পেটশ অভিনীত মায়া লুকাসকে কেন্দ্র করে তৈরি এই হরর সিনেমাটি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম কিস্তির পরবর্তী কাহিনি। রেনি হার্লিন পরিচালিত সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন গ্যাব্রিয়েল বাসো, ফ্রয় গুতিয়েরেজ, ইমা হরভাথ ও রিচার্ড ব্রেক। সিনেমাটি ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এখন দেখা যাচ্ছে এইচবিওতে।

প্রথম সিনেমায় যদি আতঙ্কের কেন্দ্র ছিল একটি বিচ্ছিন্ন বাড়ি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো একটি ছোট শহরে।

‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: চ্যাপ্টার ২’-এর গল্প বোঝার জন্য প্রথম অধ্যায়ের শেষটা মনে রাখা জরুরি। মায়া লুকাস এক ভয়ংকর রাত কাটিয়েছিল তিন মুখোশধারী খুনির হাতে—ডলফেস, পিন-আপ গার্ল ও স্কেয়ারক্রো। তারা কেন মানুষকে হত্যা করে, তার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই। তাদের হাতে কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেই। কোনো সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য নেই। তারা যেন শুধুই হত্যা করতে আসে। আর এই ‘কারণহীনতা’ই ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স’ সিরিজের সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়গুলোর একটি।

প্রথম সিনেমার শেষে মায়াকে মৃত ভেবে ফেলে যায় হত্যাকারীরা। কিন্তু সে বেঁচে যায়। সমস্যা হলো—তারাও জানতে পারে, মায়া বেঁচে আছে। তারপর শুরু হয় দ্বিতীয় শিকার। এরপর কী হয় তা নিয়েই এগিয়েছে সিনেমাটির গল্প।

‘মাদার মেরি’ সিনেমায় অ্যান হ্যাথওয়ে। আইএমডিবি

‘মাদার মেরি’, এইচবিও
দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি আরেকজন পপ তারকার উত্থান-পতনের গল্প। ঝলমলে পোশাক, বিশাল মঞ্চ, হাজারো ভক্ত, আলোঝলমল কনসার্ট—সবই আছে। কিন্তু একটু গভীরে গেলে বোঝা যায়, ‘মাদার মেরি’ আসলে তারকাখ্যাতির গল্পের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত।

এটি দুই নারীর গল্প—একজন পৃথিবীবিখ্যাত পপ তারকা, অন্যজন তাঁর একসময়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও পোশাকশিল্পী। একজন মঞ্চের আলোয় দাঁড়িয়ে কোটি মানুষের ভালোবাসা পান, অন্যজন সেই তারকার শরীর ও পরিচয়কে পোশাকের মাধ্যমে নির্মাণ করেছিলেন; কিন্তু একসময় তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। বহু বছর পর আবার যখন দেখা হয়, তখন পুরোনো ক্ষত, ভালোবাসা, অভিমান, অপরাধবোধ ও না-বলা কথাগুলো ফিরে আসে।

অ্যান হ্যাথাওয়ে অভিনীত মাদার মেরি এবং মাইকেলা কোয়েলের স্যাম অ্যানসেলমকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সিনেমা পরিচালনা করেছেন ডেভিড লোরি। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মুক্তি পায় সিনেমাটি; এর আগে ১৭ এপ্রিল সীমিত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ‘মাদার মেরি’কে সাধারণ পপ স্টার সিনেমা ভাবলে সবচেয়ে বড় ভুলটি হবে সেখানেই। এটি আসলে খ্যাতির আড়ালে মানুষের একাকিত্বের গল্প।
মাদার মেরি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বিস্ফোরক। পোশাকে চমক, নাচে উন্মাদনা, গানে নাটকীয়তা—সব মিলিয়ে তিনি যেন একজন মানুষ নন, একটি ব্র্যান্ড। কিন্তু মঞ্চের বাইরে সেই মেরি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। একটি দুর্ঘটনার পর তাঁর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবন দুটোই নড়বড়ে হয়ে যায়। সামনে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বড় কনসার্ট। অথচ সেই প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতির মধ্যেই অতীত ফিরে আসে। কারণ, মেরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোর একটি বহু বছর ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। সেই সম্পর্কের নাম—স্যাম অ্যানসেলম।

সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ অ্যান হ্যাথওয়ে। নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে চলতি বছরটা যেন নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ‘মাদার মেরি’তে তাঁকে এমন এক চরিত্রে দেখা যায়, যেখানে তাঁকে একই সঙ্গে তারকা, গায়িকা, নৃত্যশিল্পী এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একজন মানুষ হয়ে উঠতে হয়েছে। কেবল তাঁর অভিনয় দেখার জন্যই ‘মাদার মেরি’ দেখা যায়। সিনেমাটি এইচবিও ম্যাক্সে আসবে ২১ আগস্ট।

ভ্যারাইটি ও আইএমডিবি অবলম্বনে