নিউজ কিলিং দিয়েই শুরু, কোথায় গিয়ে শেষ ‘হেডলাইন’

১৯৮ মিনিটজুড়ে আট পর্বের গল্পের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছেন নির্মাতাকোলাজ

অনেক দিন পর এমন একটি বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখলাম, যেটি দেখতে বসে মাঝপথে আর ওঠার ইচ্ছাই হয়নি। ১৯৮ মিনিটজুড়ে আট পর্বের গল্পের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছেন নির্মাতা। অনেক রাতে শেষ পর্বের পর বরং মনে হয়েছে, গল্পটি আরও কিছুটা সময় নিয়ে শেষ হতে পারত।

মুক্তির আগেই নানা কারণে ‘হেডলাইন’ নিয়ে আগ্রহ ছিল। একটি কারণ অবশ্যই নিজের পেশা। আরেকটি কারণ এর নির্মাতারা; এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আয়মান আসিব স্বাধীন, ‘তাকদীর’ ও ‘কারাগার’–এর নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী এবং প্রথমবারের মতো ওয়েব সিরিজ পরিচালনায় আসা সালেহ সোবহান অনীম। এই টিমের আগের কাজ দর্শকের আস্থা তৈরি করেছে। তাই প্রত্যাশাও ছিল। সেই প্রত্যাশার কতটা তাঁরা পূরণ করতে পেরেছেন, সেটিই বলার চেষ্টা করছি। তবে শুরুতেই বলে রাখি, এই লেখায় সিরিজটির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড় এবং শেষ অংশের কিছু প্রসঙ্গ এসেছে। অর্থাৎ কিঞ্চিৎ স্পয়লার আছে।

যে খবর পাঠকের হাতে পৌঁছাতে দেওয়া হয় না  
সংবাদপত্রের রিপোর্টিং বিভাগে কাজ করা প্রায় সব সাংবাদিকেরই একটি স্বপ্ন থাকে—নিজের অনুসন্ধানে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা, যা পরদিন প্রথম পাতার লিড স্টোরি হবে। বিশেষ করে একজন তরুণ প্রতিবেদকের কাছে সেটি কেবল একটি সংবাদ নয়, পেশা জীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি। পৃষ্ঠা ৫–এর নিজস্ব প্রতিবেদক থেকে প্রথম পৃষ্ঠায় নামে প্রতিবেদন ছাপা হওয়া এবং সেটি হাওয়া হয়ে যাওয়া— ‘হেডলাইন’ শুরুই হয় সেই স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের নির্মম বাস্তবতা দিয়ে।

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হলেও পাঠকের হাতে পৌঁছাতে পারে না। প্রথম সংস্করণ বাজারে যাওয়ার আগেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। ডিস্ট্রিবিউশনের গাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুরো পত্রিকা। এমনকি ছাপাখানা থেকে প্রথম সংস্করণের ছাপার উপকরণ প্লেটসহ সরিয়ে দেওয়া হয়!

প্রতিবেদনে ছিল অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর রহস্যময় দেশে ফেরা এবং তার পেছনের ক্ষমতাশালী চক্রের খবর। সাংবাদিকতার ভাষায় এটি শুধু নিউজ কিলিং নয়; সংবাদকে পাঠকের কাছেই পৌঁছাতে না দেওয়ার এক ভয়ংকর আয়োজন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় সত্যকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।

আরও পড়ুন
‘হেডলাইন’ সিরিজে অভিনয় করেছেন অপূর্ব ও ইয়াশ রোহান
হইচইয়ের সৌজন্যে

এরপর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে অর্থ, ক্ষমতা, করপোরেট স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা অদৃশ্য এক নেটওয়ার্ক। এখানেই হেডলাইন সাম্প্রতিক সময়ের দেশীয় থ্রিলারগুলোর ভিড় থেকে আলাদা হয়ে যায়। কারণ, এখানে অকারণ বন্দুকযুদ্ধ নেই, গালাগালি নেই, রক্তারক্তি নেই, প্রতি কয়েক মিনিট পরপর অপ্রয়োজন কিংবা দিতে হবে বলে দেওয়া টুইস্টও নেই। এমনকি আবহ সংগীতও কখনো গল্পকে ছাপিয়ে যায় না। রহস্য গড়ে উঠেছে তথ্য, প্রতিষ্ঠান, মানুষ ও ক্ষমতার জটিল সম্পর্ককে ঘিরে।

সংবাদপত্রের রিপোর্টিং বিভাগে কাজ করা প্রায় সব সাংবাদিকেরই একটি স্বপ্ন থাকে—নিজের অনুসন্ধানে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা, যা পরদিন প্রথম পাতার লিড স্টোরি হবে। বিশেষ করে একজন তরুণ প্রতিবেদকের কাছে সেটি কেবল একটি সংবাদ নয়, পেশা জীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি।
‘হেডলাইন’–এ আফসান আরা বিন্দুর
হইচইয়ের সৌজন্যে
আরও পড়ুন

সেদিন রাতে সিরিজটি দেখতে দেখতে দুটি হলিউড চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়েছে। প্রথমটি স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘দ্য পোস্ট’। ২০১৭ সালের এই চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে একটি সংবাদপত্র সরকারি চাপ ও আইনি ঝুঁকি উপেক্ষা করে পেন্টাগন পেপারস প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে প্রশ্ন ছিল—সংবাদপত্র কি ক্ষমতার সামনে মাথা নত করবে, নাকি সত্য প্রকাশ করবে? হেডলাইন সেই প্রশ্নটিকেই আমাদের বাস্তবতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখানে শুধু প্রতিবেদন আটকে দেওয়া হয় না; ছাপা হয়ে যাওয়া প্রথম সংস্করণই বাজারে পৌঁছাতে দেওয়া হয় না।

আরও পড়ুন

টম ম্যাকার্থি পরিচালিত ২০১৫ সালের অস্কারজয়ী ‘স্পটলাইট’–এর কথাও হয়তো অনেকের মনে আছে। দ্য বোস্টন গ্লোব–এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা বছরের পর বছর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ক্যাথলিক চার্চের ভয়াবহ কেলেঙ্কারি উন্মোচন করেছিলেন। ‘হেডলাইন’ ঠিক সে রকম গল্প নয়, এর প্রেক্ষাপটও ভিন্ন। কিন্তু জহির ও সামিউলের অনুসন্ধান, সূত্র খোঁজা, নথি ঘাঁটা, ঝুঁকি নেওয়া এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা বারবার ‘স্পটলাইট’–এর কথা মনে করিয়ে দেয়। একটির সঙ্গে মিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে, অন্যটির সঙ্গে মিল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চেতনায়।

জহির ও সামিউলের সম্পর্কই সিরিজের প্রাণ। একজন পোড় খাওয়া, ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার; অন্যজন অর্থবিষয়ক বিটের তরুণ প্রতিবেদক, আদর্শবাদী ও অদম্য। একজন অভিজ্ঞতা দিয়ে পথ দেখান, অন্যজন ছুটে বেড়ান সত্যের খোঁজে। কখনো তাঁরা গুরু-শিষ্য, কখনো বড় ভাই-ছোট ভাই, আবার কখনো সহযোদ্ধা। এই সম্পর্কের মানবিক রসায়নই সিরিজটিকে কেবল থ্রিলার হয়ে থাকতে দেয়নি। বরং গল্পের গম্ভীর আবহের মাঝেও ছোট ছোট হাস্যরসাত্মক মুহূর্ত প্রয়োজনীয় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

অভিনয়ের শক্তি, কিছু আক্ষেপ
জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে অনেক দিন পর এমন একটি চরিত্রে দেখা গেল, যেখানে সংযমই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। জহির আহমেদ চরিত্রে তিনি অযথা নাটকীয় হওয়ার চেষ্টা করেননি। চোখের ভাষা, নীরবতা আর সংলাপ বলার ছন্দ চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করেছে।

আরও পড়ুন

তারপরও একটি জায়গায় আমার আক্ষেপ। জহির একজন অভিজ্ঞ দৈনিক পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার। কিন্তু পর্দায় তাঁকে সব সময় সেই পেশার (তা–ও আবার পোড় খাওয়া) মানুষ বলে মনে হয়নি। বরং কিছু কিছু দৃশ্যে অপূর্বের দীর্ঘদিনের পরিচিত রোমান্টিক নায়কসুলভ ইমেজই যেন সামনে চলে এসেছে। অবশ্য দর্শক হিসেবে তাঁর ‘বড় ছেলে’ ইমেজ এখনো মাথায় কাজ করে বলেও এমন অনুভূতি হতে পারে। তবু মনে হয়েছে, চরিত্রটির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি যদি কিছু সময় অভিজ্ঞ ক্রাইম রিপোর্টারদের সঙ্গে কাটাতেন, তাঁদের শরীরী ভাষা, কথাবার্তা কিংবা নিউজরুমের বাস্তব পরিবেশ কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতেন, তাহলে জহির চরিত্রটি আরও বাস্তব হয়ে উঠতে পারত। তা সত্ত্বেও আবেগঘন দৃশ্যগুলোতে তাঁর অভিনয় যথেষ্ট পরিণত এবং মনোযোগ কাড়ে।

সিরিজ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি যাঁর কথা মনে থাকে, তিনি ইয়াশ রোহান। সামিউল চরিত্রে তাঁর অভিনয় এতটাই স্বাভাবিক যে কোথাও অভিনয় করতে দেখা যায় না; বরং মনে হয় তিনি সত্যিই একজন তরুণ অনুসন্ধানী সাংবাদিক। চরিত্রটির সরলতা, কৌতূহল, ভয়, আবেগ—সবকিছুই দারুণ স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আবার বলছি অপূর্ব ও ইয়াশের রসায়ন পুরো সিরিজের অন্যতম বড় শক্তি। একজন অভিজ্ঞ, সংযত; অন্যজন অস্থির, প্রাণবন্ত। এই বৈপরীত্যই তাদের যুগল উপস্থিতিকে আরও উপভোগ্য করেছে।

দুই শিশুশিল্পী রাই রাজন্যা (অবন্তী) ও অর্নীল বিরলের (আয়াত) কথা আলাদা করে বলা উচিত। অনেক দিন পর বাংলা ওয়েব সিরিজে শিশু চরিত্রের এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখলাম। সংলাপ বলার ভঙ্গি, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, দুষ্টুমি, পাকনামো আর দুজনের খুনসুটি গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। (প্রায়) টান টান গল্পের মাঝেও তারা যেন এক টুকরো নির্মল স্বস্তি।

আফসান আরা বিন্দুর ওটিটিতে ফেরা মনে রাখার মতো। আইরিন চরিত্রে তিনি আত্মবিশ্বাসী, স্মার্ট এবং গল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এক উপস্থিতি। বড় একটা সত্য বহন করে এগিয়ে গেছেন গল্পের সঙ্গে। অনেক দিন পর তাঁকে এমন পরিণত চরিত্রে দেখে ভালো লেগেছে। সারিকা সাবরিনও সংযত অভিনয় করেছেন। চিকিৎসক তাসমেরী চরিত্রে ফারহানা হামিদ বরাবরের মতোই আবেগকে স্বাভাবিকভাবে ধারণ করেছেন। অল্প সময়ের উপস্থিতি হলেও তমা মির্জা আলাদা করে নজর কেড়েছেন। বিন্দু (আইরিন) তাঁকে গল্পে এনেছেন একদম শেষ দিকে। নায়িকা তমা এখানেও মানানসই নায়িকা, যেন অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমেই গোল দিয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন।

অভিনয়ের আলোচনায় আমি অবশ্যই শ্যামল মাওলার কথা আলাদা করে বলবে। পর্দায় উপস্থিতি খুব বেশি সময়ের নয়, কিন্তু যতটুকু ছিলেন, ততটুকুতেই চরিত্রটির রহস্যময়তা ধরে রাখতে পেরেছেন।  ‘মহানগর’–এর পর আবারও প্রমাণ করলেন, ক্ষমতার আড়ালে থাকা ধূসর, সংযত ও হিসাবি চরিত্রগুলো তাঁর অভিনয়ের অন্যতম শক্তির জায়গা। এ ধরনের চরিত্রে ‘সদরঘাটের টাইগার’ অভিনেতা বারবার নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছেন। সংগত কারণেই বলছি, ‘হেডলাইন’–এ তাঁর চরিত্রটি আরও বিস্তৃতভাবে নির্মাণ করা হলে গল্পের গভীরতা আরও বাড়ত।

শেষ দিকে চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে চমক হিসেবে কাজ করেছে। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই তিনি দৃশ্যগুলোর ওজন বাড়িয়ে দিয়েছেন। বরাবরের মতোই অভিনয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এক পর্যায়ে তাঁকে ঠিক সেই আড়ালে থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা প্রভাবশালী শিল্পপতি বা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর মানুষ হিসেবে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারিনি। হয়তো চরিত্রটির পর্দায় উপস্থিতি আরও কিছুটা বিস্তৃত হলে কিংবা তাঁর ক্ষমতার পরিধি আরও স্পষ্টভাবে নির্মাণ করা হলে বিষয়টি অন্য রকম হতে পারত। তাই চঞ্চলের অভিনয় প্রশংসার দাবি রাখলেও চরিত্রটি গল্পের সামগ্রিক বুননের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যেতে পারেনি।

‘একবার সাহস করে ঝড়ের মুখোমুখি হতে পারলে আকাশ ভাঙা তুফানও হার মানতে বাধ্য হয়’, ‘এ দেশ কাকে যে বেশি আপন ভাবে, সেটা এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জে এক দিন ডিউটি করলে বোঝা যায়’ কিংবা ‘বারুদ দিলাম আমি, আগুন জ্বালাবেন আপনি’– ‘হেডলাইন’–এর আরেকটি বড় শক্তি এর সংলাপ। সাহিত্য, ইতিহাস, খেলাধুলা, শিল্প, বিশ্বরাজনীতি—নানা প্রসঙ্গের রেফারেন্স এসেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো উপভোগ্য। তবে আক্ষেপ এর সমাপ্তি নিয়ে। শেষ পর্বে গল্পটা যেন একটু দ্রুত গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য এত লড়াই, এত ঝুঁকি, সেটি প্রকাশের পর কী ঘটল? সমাজে বা রাষ্ট্রে তার প্রতিক্রিয়া কী ছিল? যে শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে এত আয়োজন, তাদের পরিণতিই–বা কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দর্শক জানতে পারেন না।

তবে এটাও ঠিক, নির্মাতারা হয়তো ইচ্ছা করেই কিছু প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রেখেছেন। শেষ দৃশ্য যেন সেই ইঙ্গিতই দেয়। গল্প থেমে যায়, কিন্তু জহির ও সামিউলের লড়াই নয়। আর এখানে আমার কাছে  ‘হেডলাইন’ কেবল একটি থ্রিলার হয়ে থাকে না; এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ক্ষমতার অদৃশ্য বলয় এবং সত্য প্রকাশের দায় নিয়ে নির্মিত একটি পরিণত কাজ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে সাংবাদিকতাকে কেন্দ্র করে এমন নির্মাণ খুব বেশি হয়নি। সেই বিবেচনায় ‘হেডলাইন’ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।