পুস্কর-গায়েত্রী
ভারতের আলোচিত নির্মাতা দম্পতি পুস্কার ও গায়েত্রী। ‘বিক্রম বেদা’ মুক্তির পর নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে আলোচনায় আসেন তাঁরা। সম্প্রতি তাঁদের পরিচালিত ‘বিক্রম বেদা’র হিন্দি রিমেক সেভাবে দর্শক টানতে পারেনি। তবে নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুস্কর ও গায়েত্রী এখনো সমীহ জাগানিয়া নাম। চলতি বছর অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তির পর জনপ্রিয় হওয়া তামিল সিরিজ ‘সুরাল: দ্য ভরটেক্স’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পা্ওয়া আলোচিত এ সিরিজটির ক্রিয়েটর ছিলেন তাঁরা। দুজন যৌথভাবে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। নতুন সিরিজ ‘ভাধানধি দ্য ফেবল অব ভেলোনি’রও চিত্রনাট্যকার তাঁরা।

‘সুরাল’-এর পর একই প্ল্যাটফর্মের জন্য এটি তাঁদের দ্বিতীয় সিরিজ। পুস্কার ও গায়েত্রীর লেখা মানেই জমাটি গল্প, যাপিত জীবনের নানা অজানা দিক উঠে আসা। ব্যতিক্রম নয় এখানেও। সমালোচকেরা বলছেন, কিছু দুর্বলতা থাকলেও অনেকটা লেখার জোরেই উতরে গেছে সিরিজটি।

গল্প

সিরিজটির গল্প এক তরুণীর হত্যা রহস্যকে কেন্দ্র করে। খুনের তদন্তে মাঠে নামা এক পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে রহস্যের জট ছড়ায়, তা নিয়েই গল্প। ছোট শহরের প্রেক্ষাপটে মার্ডার-মিস্ট্রি ঘরানার সিরিজ সারা দুনিয়ায় কত যে হয়েছে, ইয়ত্তা নেই। ওটিটির কল্যাণে এসব সিরিজের অনেকগুলোই দেখা হয়েছে দর্শকের। এসব দর্শককে একই ধরনের গল্প দিয়ে যে ভোলানো যাবে না, সেটা ভালোই জানেন পুস্কার ও গায়েত্রী। তাই তাঁরা গল্প বলার ক্ষেত্রে জোর দেন স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গল্পটির যোগসূত্র তৈরিতে।

আগেরবার ‘সুরাল’-এর ক্ষেত্রে তাঁরা যেমন স্থানীয় ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করেছিলেন। এবারও তেমনটা করেছেন। এই ‘রুটেট’ ব্যাপারটির জন্য সিরিজের সঙ্গে আরও ভালোভাবে নিজেদের যুক্ত ভাবতে পারেন দর্শকেরা। সিরিজটিতে উঠে এসেছে সন্তানকে ঠিকঠাকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মা-বাবার ব্যর্থতা, যৌন হয়রানি, বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাসহ নানা প্রসঙ্গ।

অভিনয়
দক্ষিণ ভারতের প্রায় সব সিনেমা ও সিরিজে যত দুর্বলতাই থাকুক, অভিনয়টা বারবারই ভালো হয়। ‘ভাধানধি দ্য ফেবল অব ভেলোনি’ও এর ব্যতিক্রম নয়। পুলিশ অফিসার বিবেকের চিত্রে এস জে সূর্য দুর্দান্ত। কেবল প্রধান অভিনেতার ওপর নির্ভর করে আট পর্বের সিরিজ চলে না। প্রয়োজন হয় পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতাদের পারফরম্যান্সের। এখানেও ‘ভাধানধি দ্য ফেবল অব ভেলোনি’ এগিয়ে। লায়লা, নাসার, বিবেক প্রসন্ন সবাই নিজেদের জায়গায় দুর্দান্ত। সিরিজটির অন্যতম বড় চমক বলা যায় লায়লাকে। এই অভিনেত্রী সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘সর্দার’ দিয়ে প্রায় এক দশক পরে অভিনয়ে ফিরেছেন।

শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চ ধরে রাখা
শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চ ধরে রাখতে না পারলে থ্রিলার সিরিজ মাঠে মারা যায়। ‘ভাধানধি দ্য ফেবল অব ভেলোনি’ এ ক্ষেত্রেও সফল। মাঝেমধ্যে গল্প একটু ধীরগতির মনে হলেও রহস্য থেকে দর্শকের আগ্রহ সরে যায় না। আগের ‘সুরাল’-এর মতো এখানেও সেটি হয়েছে। প্রতিটি পর্ব শেষ হয়েছে একটি করে চমক দিয়ে, যা দর্শককে পরের পর্ব দেখতে আকৃষ্ট করে।  

দৃশ্যায়ন
আগের ‘সুরাল’-এ নীলগিরির রূপ দুর্দান্তভাবে তুলে ধরেছিলেন পরিচালক। এবারের ‘ভাধানধি দ্য ফেবল অব ভেলোনি’র ক্ষেত্রেও সেটি দারুণ দক্ষতার সঙ্গে করেছেন অ্যান্ড্রু লুইস। ‘ভাধানধি দ্য ফেবল অব ভেলোনি’ মূলত ধীরগতির থ্রিলার। যেটা চেনাজানা বড় শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে ছোট মফস্বলের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে। গল্প, অভিনয়, দৃশ্যায়ন আর পরিচালনা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট উপভোগ্য একটি সিরিজ এটি।