মানসিক সমস্যায় অনেকেই ভোগেন, এসব নিয়ে বাইরে অনেক নাটক–সিনেমাও হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে এসব নিয়ে তেমন একটা কাজ হয়নি। সেদিক থেকে ‘জাহান’ ব্যতিক্রম। পরিচালক আতিক জামানের সঙ্গে চরকির এটাই প্রথম কাজ। পরিচালক জানান, গল্পটা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করতে হয়েছে। লোকেশনে আনতে হয়েছে বৈচিত্র্য। কারণ, পুরো গল্পটি একটি বাসায় ঘটেছে। আতিক বলেন, ‘এক বাসার মধ্যে গল্প বলাটা চ্যালেঞ্জিং। এভাবে দর্শক ধরে রাখা কঠিন। সেখানে আমরা বাসায় যেমন বৈচিত্র্য এনেছি, তেমনি গল্পে অনেক টুইস্ট রাখা হয়েছে। পারিবারিক গল্প মনে হলেও এখানে থ্রিলারের বিষয়বস্তুও রয়েছে। যা দর্শকদের নতুন এক মানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি করবে।’

এই জাহান চরিত্রটি করেছেন নাজিয়া হক অর্ষা। চরকির সিনেমা ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই অভিনেতা। এবার চরকি ফ্লিক দিয়ে ফিরছেন। ‘জাহান’-এ নতুন লুকে আসছেন অর্ষা। এই অভিনেত্রী জানান, ‘গল্পটা আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। পুরো সময় দর্শকের চোখ যেহেতু আমার দিকেই থাকবে, সে কারণে আমাদের সময় নিয়ে প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে।’ কাজের অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাজটি করতে আমার বেশ কষ্ট হয়েছে। জাহান চরিত্রটার ইনার সাইড ডার্ক আবার কিছুটা ইনোসেন্ট। অনেক কিছু জাহান ইনোসেন্টলি করে ফেলে, তবে কনসাস হলে তা ব্যালেন্স করতে পারে না। দর্শকদের কাছে সেভাবে কোনো প্রত্যাশা নেই, তবে চাই সবাই যেন কনটেন্টটা দেখে। তারপর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করুক।’

গল্পে অর্ষার স্বামী শিহাব চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির জন্য এটা নূর ইমরানের প্রথম কাজ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময় হলো ওটিটির। আর ওটিটির জন্য আমার প্রথম কাজ তাই শুটিংয়ের সময় অন্যরকম একটা এক্সসাইটমেন্ট কাজ করেছে। দর্শক দেখলে তারপর বুঝব কাজটা কেমন হয়েছে। গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে দর্শক ভিন্ন কিছুর স্বাদ পাবে, তাদের ভালো সময় কাটবে।’ শুটিং ও গল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রিঅ্যাকশন–নির্ভর অভিনেতা। আমার বিপরীতে যে অভিনয়শিল্পী থাকেন, তার রিঅ্যাকশন খুব জরুরি। সেদিক থেকে অর্ষা খুবই দারুণ। আমি প্রতিনিয়ত তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। আর এই গল্প মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নির্মিত। আশা করছি, কনটেন্টটা দেখে দর্শক পছন্দ করবে।’

অর্ষা, নূর ইমরান ছাড়াও ‘জাহান’-এ অভিনয় করেছেন শিল্পী সরকার অপু, নাঈমা তাসনীম, ইমেল হক, সাক্ষর কুণ্ডু দ্বীপ প্রমুখ। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন তানভীর আহসান আর জাহিদ নিরব করেছেন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।