বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একসঙ্গে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করলেও ইন্টারভিউ দেওয়া ও নেওয়ার অভিজ্ঞতা দুজনেরই প্রথম। তাই হয়তো অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমার কাছে তাহসান জানতে চান, কেমন আছেন। পরক্ষণেই বুঝতে পারেন ভুল হয়ে গেছে, প্রশ্নটা আসলে উপস্থাপিকা তাকে করবে। পূর্ণিমা পরক্ষণেই জানতে চান, কেমন আছেন তাহসান। তাহসানেরও চটজলদি উত্তর, ‘আপনার পাসে বসে ইন্টারভিউ দিচ্ছি, এ জন্য আমি পুলকিত।’

পূর্ণিমার প্রথম প্রশ্ন, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন। কীভাবে আপনি এর সঙ্গে সংযুক্ত হলেন?

তাহসান জানান, ‘সারা বিশ্বে পাবলিক ফিগার বা সেলিব্রিটিরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অনেক কাজ করেন। পৃথিবীর সব দেশের সেলিব্রিটিরা মানুষ ও দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। আমার মনে হয়েছে, আমাদের দেশের শিল্পী বা সেলিব্রিটিরা এমন কাজের সঙ্গে কম যুক্ত থাকেন। এর দুটি কারণ আছে। আমাদের মাথায় একটি জিনিস কাজ করে, সেটা হলো কেউ কিছু করলেই স্বার্থ খোঁজে। জানতে চায় কেন করছে? এ ছাড়া আরও একটা বিষয় আছে, সেটা হলো কেউ ভালো কিছু করলে লুকিয়ে লুকিয়ে করতে চায়। এসব কারণে আমাদের দেশে সেলিব্রিটিরা খুব বেশি চ্যারিটি করে না। আর করলেও লুকিয়ে লুকিয়ে করেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, এই কাজগুলো বেশি করা উচিত এবং মানুষকে জানিয়ে করা উচিত। এতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ে। এ জন্য আমি সব সময় সুযোগ খুঁজতাম কখন এমন চ্যারিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যায় এবং যার মাধ্যমে সমাজে প্রভাব ফেলতে পারি।’

ইউএনএইচসিআরের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তাহসান বলেন, ‘ইউএনএইচসিআরের একজন বলে আপনি যেহেতু এভাবে কাজ করতে চান, আপনি আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। সেটা প্রায় দুই বছর হলো। সে সময় রোহিঙ্গা সমস্যা খুব বেশি। ওনারা আমাকে বলে আপনি আসেন, প্রজেক্ট ভিজিট করে যান। দেখে যান আমরা কী করছি। রোহিঙ্গাদের অবস্থা কী বা কেমন এবং তাদের সম্পর্কে একটু জানা শুরু করেন। এরপর আমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাই। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিটের অভিজ্ঞতাটা আমাকে অনেক কিছু বুঝিয়েছে, শিখিয়েছে। তখন থেকেই আমি ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে কাজ করছি। বিভিন্ন দিবসে তাদের সঙ্গে কাজ করি। যেমন আমার একটা অনেক পুরোনো গান আছে ‘মানুষ’। ওই গানটা আমি তাদের একটা বিশেষ দিনে পারফরম্যান্স করি। এভাবে নানাভাবে আমি ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে কাজ করছিলাম।’

default-image

অনুষ্ঠানে ইউএনএইচসিআরের অ্যাম্বাসেডর হওয়ার গল্পটাও শুনালেন তাহসান, ‘ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ অফিস থজেনেভাকে বুঝিয়েছে, অনেক দেশেই কিন্তু ইউএনএইচসিআরের অ্যাম্বাসেডর আছে। বাংলাদেশেও থাকলে ভালো। পৃথিবীতে ১০০ জনের মধ্যে ১ জন কিন্তু শরণার্থী। কোথাও না কোথাও কিন্তু তারা আশ্রয় নিচ্ছে। বাংলাদেশ কিন্তু ৯ লাখের বেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে উদারতার স্বাক্ষর রেখেছেন, এটা কিন্তু সারা বিশ্বেই প্রশংসা পাচ্ছে। ইউএনএইচসিআরও কিন্তু শরণার্থীদের নিয়ে কাজটা সুন্দরভাবে করছে। এই কাজটা কিন্তু সারা পৃথিবীতে কারও না কারও করতে হবে। এই কথাটি বাংলাদেশে এমন একজনের মুখ থেকে বলাতে হবে, যার কথা মানুষ বিশ্বাস করে। এ জন্য আমাকে প্রতিষ্ঠানটি শুভেচ্ছাদূত করার প্রস্তাব করে। এভাবেই আমি সম্পৃক্ত হয়ে যাই। এটা আমার জন্য খুবই সম্মানের। সারা বিশ্বে এমন অ্যাম্বাসেডর ৩০ জনের মতো আছেন। তাঁরা কিন্তু সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিখ্যাত। তাঁদের কথা মানুষ শুনছে। আমি অ্যাম্বাসেডর হয়ে এখনো শিখছি, পড়ছি। আমার শুরুর দিকের সময় এখন। আগামী দুই বছর আমি শুভেচ্ছাদূত হিসেবে থাকব।’

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন