অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না, সামনের দিকে তাকাতে চাই: স্টকহোমে জেমস

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমসছবি : খালেদ সরকার

ইতালির ভেনিসে স্টেজ শো শেষে বর্তমানে সুইডেনের স্টকহোমে আছেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের জনপ্রিয় তারকা ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। আজ ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্টকহোমের নাকার মঞ্চে গান করবেন তিনি। কনসার্টের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের সংগীতজীবন, নতুন গান, লাইভ মিউজিক, এআই এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেন জেমস।

মঞ্চে দাঁড়ানোর পর শ্রোতাদের ভালোবাসা প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘ভালোবাসা তো সব সময় ভালো লাগার একটা জিনিস। যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, তখন মনে হয়, সব আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, চেঞ্জ হচ্ছে প্রজন্ম, এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয়, অনেকগুলো প্রজন্ম পার করে এসেছি।’

নিয়মিত কনসার্টের কারণে নতুন গান প্রকাশের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও জানান জেমস। তিনি বলেন, ‘মঞ্চে গান করতে করতে সময় খুব কম পাই। তবু চেষ্টা করছি খুব নতুন গান আবার আনার জন্য।’

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস
ছবি : প্রথম আলো

অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবতে চান জেমস। তাঁর ভাষায়, ‘ফিরে যেতে চাই না, আমি বর্তমান নিয়ে বিশ্বাসী। যেমন এই মুহূর্তটাই। অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না। সামনের দিকে তাকাতে চাই।’

সংগীতকে কোনো কিছু অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না জেমস। তাঁর কাছে গান করা প্যাশন ও নেশার বিষয়। তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করলে আমার মনে হয় এখনই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। সংগীত করতে হবে জাস্ট প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। এর বাইরে কোনো কিছু চাওয়ার জন্য মিউজিক করাটা আমি মনে করি ঠিক নয়।’

আরও পড়ুন

নিজের জন্য সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান এই শিল্পী। জেমস বলেন, ‘মিউজিক করতে হবে নিজের জন্য, চর্চা করে যেতে হবে। যদি এর মধ্যে কিছু আসে, সেটা ভিন্ন কথা। আমি যদি সংগীত থেকে কোনো কিছু না–ও অর্জন করতাম, আমি সংগীতই করতাম।’

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস
ছবি : প্রথম আলো

সংগীত নিয়ে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও নেই জেমসের। যত দিন সম্ভব গান করে যেতে চান। জেমস বলেন, ‘মিউজিক নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ কোনো পরিকল্পনা নেই। মিউজিক করে যাব। শেষে যদি দেখি একটা দর্শক আছে, তবু মিউজিকই করে যাব।’

বর্তমান সময়ের সংগীত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়েও কথা বলেন জেমস। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নতুন অনেক শিল্পী আসছে, অনেক মেধা নিয়ে। কিন্তু এ মুহূর্তে মিউজিক খুব পারফেক্ট হয়ে যাচ্ছে। খুবই পারফেক্ট। যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সও আসছে।’

আরও পড়ুন

জেমসের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অতিরিক্ত নিখুঁত সংগীত একসময় শ্রোতাদের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে।

জেমস বলেন, ‘এত পারফেকশন মানুষকে একসময় বোরড করে দেবে। তখন এই যে লাইভ ব্যাপারটা, এটাই সারা জীবন থেকে যাবে। লাইভটা হচ্ছে জীবনের মতো আরকি। ডায়নামিকস থাকে লাইভে।’

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস
ছবি : প্রথম আলো

এআইনির্ভর সংগীত নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরে জেমস বলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে যে মিউজিকগুলো এখন হচ্ছে, স্পটিফাইসহ বিভিন্ন জায়গায়—এসব একসময় বোরড লাগবে মানুষের কাছে। প্রথমে একটু ভালো লাগবে, এরপর বোরড হয়ে যেতে হবে। লাইভ যেটা, সত্যিকারের মিউজিক, ওইটা মনে হয় আবার ফিরে আসবে। আসতে হবে। এটা থাকবেই।’

দেশের নতুন ব্যান্ডগুলোর প্রতিও আগ্রহ দেখানোর আহ্বান জানান জেমস। তিনি বলেন, ‘নতুন অনেক ব্যান্ড এসেছে, তারা অনেক ভালোও করছে। নতুন ব্যান্ডগুলো শোনা উচিত। সবারই শোনা উচিত।’

আরও পড়ুন

প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে যেসব আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষক কাজ করছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জেমস। তিনি বলেন, ‘বিদেশে যে অনুষ্ঠান হচ্ছে, এর পেছনে যাঁরা যুক্ত থাকেন, তাঁদের মধ্যে পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ দিতে চাই, যাঁদের জন্য এই বাংলা গান বা বাংলা সংস্কৃতি বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।’

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস
ছবি : প্রথম আলো

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির সম্পর্ক স্থাপনে সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জেমস। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের বাচ্চারা বিদেশে বেড়ে উঠছে। সম্ভবত ওরা বাংলা অনেক সময় ঠিকমতো বুঝতেও পারে না। কিন্তু স্পনসররা যেভাবে বাংলা সংস্কৃতিকে প্রবাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে, এটা ভীষণ ইতিবাচক একটা দিক।’

আরও পড়ুন

প্রবাসীদের আবেগের জায়গাটিও আলাদা বলে মনে করেন জেমস। তাঁর মতে, ‘দেশের বাইরে যাঁরা থাকেন, তাঁদের মধ্যে আগ্রহ বা উদ্যম অনেক বেশি থাকে। কারণ, তাঁরা দেশের বাইরে থাকেন। তাঁরা দেশের সংস্কৃতিকে মিস করেন। এটা একটা বড় ব্যাপার। প্রবাসের মানুষের আবেগটা একটু বেশি।’

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস
ছবি : প্রথম আলো

স্টকহোমের কনসার্ট শেষে দেশে ফেরার কথা রয়েছে জেমসের। আয়োজকদের পোস্টার থেকে জানা গেছে, একই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী রাহুল আনন্দও।