১৬ ঘণ্টার যানজট পেরিয়ে ভোট দিলেন পারশা

তরুণ গায়িকা পারশা মাহজাবিন বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। গায়িকার ফেসবুক থেকে

তরুণ গায়িকা পারশা মাহজাবিন বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার যানজট অতিক্রম করে বগুড়া পৌঁছান বলে তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান। ভোট প্রদানের পর আজকের দিনটি তাঁর নাগরিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এই গায়িকা।

পারশা মাহজাবিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ আমার নাগরিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি শুধু একটি ভোট প্রদান নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের সূচনা। আমি প্রায় ১৬ ঘণ্টার দীর্ঘ যানজট অতিক্রম করে বগুড়ায় গিয়েছি শুধু আমার ভোট প্রদান করার উদ্দেশ্যে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ভোটদান কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি নাগরিকের প্রত্যক্ষ অঙ্গীকার। ব্যক্তিগত অসুবিধা বা দূরত্ব এই দায়িত্ব পালনের পথে আমার জন্য প্রতিবন্ধক হতে পারে না।’

‘ঘুমপরী’ সিনেমার দৃশ্যে পারশা মাহজাবিন। চরকির সৌজন্যে

ভোটকেন্দ্রে শাড়ি পরে গিয়েছেন উল্লেখ করে পারশা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘শাড়ি পরে সেজেগুজেই ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলাম। কারণ, আমার কাছে আজকের দিনটি একটি মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক উৎসব। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের এই মুহূর্তকে আমি যথাযথ সম্মান জানাতে চেয়েছি। সেখানে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি, আমাদের প্রত্যেকের একক ভোটই সম্মিলিতভাবে জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। আমি মনে করি, ভোট কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের উপায় নয়, এটি একটি জাতির নৈতিক মানচিত্র নির্ধারণের প্রক্রিয়া। আমরা যে প্রতিনিধিকে নির্বাচন করি, তার মধ্য দিয়েই আমাদের সামাজিক চেতনার প্রতিফলন ঘটে।’

আরও পড়ুন

আগামী সরকারের কাছে পারসা তাঁর প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি এমন এক সমাজ কল্পনা করি, যেখানে মানুষ হবে শিক্ষিত, সহনশীল ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ; মতভেদ থাকবে, কিন্তু বিভাজন নয়। শিল্প-সংস্কৃতি বিকশিত হবে স্বাধীনভাবে, ধর্মীয় বৈচিত্র্য থাকবে পারস্পরিক শ্রদ্ধায় এবং মানুষ ও প্রাণী উভয়েই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বাঁচতে পারবে। আমার ভোট সেই নেতৃত্বের প্রতি অর্পিত, যারা জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেবে এবং শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে স্থাপন করবে। ভালো থাকুক আমার দেশ।’