২১ বছর পর কী নিয়ে আসছে শহরতলী

শহরতলীর সদস্যরা। ছবি: ব্যান্ডের সৌজন্যে

ভক্তরা বলে, বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে নতুন ধারা এনেছে ‘শহরতলী’। এ ধারাকে বলা হচ্ছে ‘থিয়েট্রিক্যাল রক’ অর্থাৎ গান, কবিতা ও সংলাপকে একবিন্দুতে এনে তৈরি করা হয়েছে ভিন্ন এক আবহ। ২০০৪ সালে এ ধরনের গান নিয়ে শুরু হয় পথচলা। আজ পথচলার ২১ বছর পার করছে তারা। এ উপলক্ষে প্রকাশ পাচ্ছে ব্যান্ডটির নতুন গান ‘অপ্রলাপ’। এটি ব্যান্ডটির তৃতীয় অ্যালবাম ‘এখন, এখানে...–এ’র শেষ গান।

প্রতিষ্ঠা: ৬ অক্টোবর ২০০৪
ঘরানা: থিয়েট্রিক্যাল রক
প্রকাশিত অ্যালবাম: ‘বরাবর শহরতলী’, ‘অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য’ ও ‘এখন, এখানে...’
জনপ্রিয় গান: আসাদের খোলা চিঠি, জেলখানার চিঠি, ফেলানী, গণজোয়ার, দেশমাতার কাছে চিঠি
বর্তমান লাইনআপ মিশু খান (ভোকাল, রিদম গিটার), জিল্লুর রহমান (পারফর্মিং ভোকাল), সাদি মাহমুদ (কি-বোর্ড), ফাহিম পাশা (লিড গিটার), মাহবুবুল আকরাম (ড্রামস), রাজিবুর রহমান (বেজ গিটার) এবং মাহিবুল হাসান (সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার)।

গানটি লিখেছেন ব্যান্ডের পারফর্মিং ভোকাল জিল্লুর রহমান, সুর করেছেন মিশু খান। সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’। আজ সোমবার রাত ৯টায় শহরতলীর ইউটিউব চ্যানেলে গানটির অ্যানিমেটেড চিত্র প্রকাশ পাবে। স্পটিফাইসহ বিশ্বের অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও গানটি শোনা যাবে।

গানটি নিয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জীবনের নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ আশা ও নিরাশার মধ্যবর্তী অমীমাংসিত এক দ্বন্দ্বের ভেতর পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে। কেউ কেউ স্রেফ আশার ওপর ভর করে টিকে থাকার নিরন্তর লড়াইয়ে শামিল হয়, কেউ–বা ক্লান্ত–বিপর্যস্ত হয়ে টেনে দিতে উদ্যত হয় জীবন নাটকের যবনিকা। এ দুইয়ের টানাপোড়েনের ভেতরই এগিয়ে চলে জীবন। কিন্তু মানুষ তবু পৌঁছাতে পারে না তার সেই আদর্শ জীবনের কাছে, যেখানে তাকে রাতদিন তাড়া করে ফিরবে না অগণিত অমীমাংসিত প্রশ্ন। “অপ্রলাপ” গানে উঠে এসেছে মানুষের ভেতরকার চলমান সেই টানাপোড়েনের গল্প।’

আরও পড়ুন

২০০৪ সালে ঢাকা কমার্স কলেজের তিন বন্ধু মিশু খান, গালিব আজিম ও বিদ্যুৎ রহমান মিলে একটি ব্যান্ড গঠনের চিন্তা করেন। এর আগপর্যন্ত আলাদা আলাদা সংগীতচর্চা করলেও একসঙ্গে কিছু একটা করার তাড়না থেকে জন্ম নেয় ব্যান্ড শহরতলী। পরে বেজিস্ট হিসেবে যুক্ত হন তপন মাহমুদ, ড্রামার হিসেবে শরিফুল সানী। ২০১২ সালে গালিব ও বিদ্যুৎ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালে বড়সড় সংকটের মধ্যে পড়ে শহরতলী। এই সময়ে পারফর্মিং ভোকাল হিসেবে ব্যান্ডে যোগ দেন জিল্লুর রহমান। ২০১৯ সালে বেজ গিটারে যোগ দেন রাজিবুর রহমান আর ২০২০ সালে কি–বোর্ডে যুক্ত হন সাদি মাহমুদ। পরে ২০২২ সালে একে একে ব্যান্ডে যুক্ত হন মাহবুবুর আকরাম (ড্রামস), ফাহিম পাশা (গিটার) এবং সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মাহিবুল হাসান।

শহরতলীর সদস্যরা। ছবি: ব্যান্ডের সৌজন্যে

২০০৭ সালে জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশ পায় মিক্সড অ্যালবাম ‘নিয়ন আলোয় স্বাগতম’। সে সময় বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়া এ অ্যালবামে স্থান পাওয়া ব্যান্ডটির প্রথম গান ‘আসাদের খোলা চিঠি’। কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলারকে’ কবিতা থেকে তৈরি হয় ‘আসাদের খোলা চিঠি’। গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
‘আসাদের খোলা চিঠি’র পর থেকেই কবিতা নিয়ে কাজ করার সাহস পায় শহরতলী। ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ পায় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘বরাবর শহরতলী’। অ্যালবামটিতে ‘জেলখানার চিঠি’, ‘প্রস্থান’, ‘প্রতিক্রিয়া’, ‘অতলে শহরতলী’সহ ১০টি গান ছিল। নাজিম হিকমতের কবিতা থেকে ‘জেলখানার চিঠি’ ও শামসুর রাহমানের ‘যদি তুমি ফিরে না আসো’ থেকে তৈরি হয় ‘প্রস্থান’। দুটি গানই ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়।

২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানী। গানে গানে প্রতিবাদ জানায় শহরতলী। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতার মিশেলে লেখা হয় ‘ফেলানী’। গানটি প্রকাশ পায় ২০১২ সালের ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবাম ‘হাতিয়ার’-এ। ফেলানী হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সমাবেশ ও মানববন্ধনে বাজতে থাকে এই গান। ২০১৩ সালে প্রকাশ পায় শহরতলীর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য’। ১০টি গানের এ অ্যালবামের ‘নীলিকা’, ‘মা’ ‘গণজোয়ার’, ‘দেশমাতার কাছে চিঠি’ জনপ্রিয়তা পায়।

শহরতলীর সদস্যরা। ছবি: ব্যান্ডের সৌজন্যে

২০২১ সালে কাজ শুরু হয় শহরতলীর তৃতীয় অ্যালবাম ‘এখন, এখানে...–এ’র। গত চার বছরে ৯টি গান ব্যান্ডটির অফিশিয়াল ইউটিউব, স্পটিফাই ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অ্যালবামটির উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘শহরতলীর আকাশ’, ‘মুক্তি’, ‘বিষাদসিন্ধু’, ‘আরেকটি প্রহর’, ‘কবির মৃত্যু’।