ছায়ানটে শুদ্ধসংগীত উৎসব: রাগে রাগে ভোর থেকে দুপুর
শীতের সকাল। রাজধানীর ব্যস্ততা তখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। হিম সকালে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন শুদ্ধসংগীতপ্রেমীরা। শনিবার ছায়ানটের শুদ্ধসংগীত উৎসবের দ্বিতীয় অধিবেশনের জন্য জমায়েত। শিশু থেকে কিশোর, তরুণ থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মিলনায়তনের সামনে ছিল উৎসবের আবহ। সম্মেলক কণ্ঠসংগীত দিয়ে সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হয় আয়োজন। চার ঘণ্টার এই অধিবেশনে কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীত মিলিয়ে শুদ্ধসংগীতের নানা রূপে ডুবে থাকেন শ্রোতারা।
সম্মেলক কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করেন অসিত দের শিক্ষার্থীরা। তবলায় ছিলেন বাদল চৌধুরী। এরপর মঞ্চে আসেন চট্টগ্রামের দোলন কানুনগো। মোহনবীণায় রাগ ললিত পরিবেশনে তিনি মুগ্ধ করেন শ্রোতাদের। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন কুমার প্রতিবিম্ব। এরপর হাজির হন অভিজিৎ কুণ্ডু ও টিংকু শীল। রাগ ভৈরবের দ্বৈত পরিবেশনায় একধরনের সুরের সংলাপ তৈরি হয়—মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, একজন যেন আরেকজনকে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন পরিবেশনাকে। পাখোয়াজে ছিলেন শুষেণ রায়, তানপুরায় লাইসা বিনতে কামাল ও দীপ্র নিশান্ত।
এরপর একক যন্ত্রসংগীতে তবলাবাদনে অঞ্জন সরকার দেখালেন তালের বহুমাত্রিক ভাষা। তাঁর সঙ্গে সারেঙ্গিতে সঙ্গ দিয়েছেন শৌণক দেবনাথ ঋক, তাঁর পরিবেশনা শ্রোতাদের অনেক দিন মনে থাকবে।
এরপর কণ্ঠসংগীতে অনন্যা আচার্য্য পরিবেশন করেন রাগ বসন্তমুখারী। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন ইফতেখার আলম ডলার, হারমোনিয়ামে মিনহাজুল হাসান ইমন এবং তানপুরায় দীপা মন্ডল ও ফারজানা বর্ষা। সারেঙ্গিতে আবারও শৌণক দেবনাথ ঋকের উপস্থিতি পরিবেশনাটিতে বাড়তি মুগ্ধতা যোগ করে।
অধিবেশনের শেষ পরিবেশনায় আসেন শ্রাবন্তী ধর। রাগ আলাহিয়া বিলাবলে তাঁর কণ্ঠসংগীত যেন পুরো সকালের যাত্রার এক প্রশান্ত সমাপ্তি টেনে দেয়। তবলায় প্রশান্ত ভৌমিক, হারমোনিয়ামে টিংকু শীল এবং তানপুরায় অনিয়া পাল ও তানজিলুর রহমান সৌমিক এই পরিবেশনাকে করে তোলেন পরিপূর্ণ।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা—চার ঘণ্টার এই যাত্রা শেষে ছায়ানট মিলনায়তন থেকে মুগ্ধতা নিয়ে বের হন শ্রোতারা। দেড় ঘণ্টা বিরতির পর বেলা ২টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় অধিবেশন। দুই দিনব্যাপী শুদ্ধসংগীতের এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে। আগাম নিবন্ধনের মাধ্যমে উপভোগের সুযোগ পান দর্শকেরা।