টপলেস হয়ে চমকে দিলেন আলোচিত এই গায়িকা

গ্র্যামিতে চ্যাপেল রোন। এএফপি

এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের লালগালিচায় সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র পপ গায়িকা চ্যাপেল রোন। টপলেস লুক নিয়ে হাজির হয়ে তিনি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছেন।

‘পিঙ্ক পনি ক্লাব’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই গায়িকা এ বছর তার গান ‘দ্য সাবওয়ে’র জন্য দুটি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। গত বছর তিনি জিতেছিলেন সেরা নতুন শিল্পী পুরস্কার। এবারের আসরে রেড কার্পেটে ফটোগ্রাফারদের সামনে তিনি সাহসী পোশাকে পোজ দিলেও টেলিভিশন নেটওয়ার্কে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় একটি পোশাক পরে ঊর্ধ্বাঙ্গ আবৃত করে নেন, যাতে সরাসরি সম্প্রচারে অংশ নিতে পারেন।
তবে ‘ই!’ নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের লুক ঢেকে নিলেও ততক্ষণে লালগালিচায় তাঁর নিরাভরণ হওয়া ভাইরাল হয়ে গেছে।

এর আগে ২০২৫ সালে জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘কল হার ড্যাডি’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চ্যাপেল রোন নিজের পোশাক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দৈনন্দিন জীবনে তিনি তুলনামূলকভাবে সংযত পোশাক পরেন, তবে ক্যারিয়ার শুরুর দিকে মঞ্চে ও ব্যক্তিগত স্টাইলে তিনি অনেক বেশি নিরীক্ষাধর্মী ছিলেন।

গ্র্যামিতে চ্যাপেল রোন। এএফপি

চ্যাপেল রোন গত বছরের গ্র্যামিতেও আলোচনায় এসেছিলেন, তবে সেবার পোশাক নয়, তার বক্তৃতা নিয়ে। সেরা নতুন শিল্পী পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি সংগীতশিল্পীদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করার দাবিতে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি রেকর্ড লেবেলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন শিল্পীদের কর্মী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে জীবিকা নির্বাহযোগ্য বেতন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

কে এই চ্যাপেল
হালের আলোচিত অন্য অনেক শিল্পীর মতো চ্যাপেলের শুরুটাও ইউটিউব দিয়ে। ২০১৪ সালে প্রথমবার নিজের মৌলিক গান ‘গাই ইয়ং’ ইউটিউবে প্রকাশ করেন। ২০১৭ সালে মুক্তি দেন এক্সটেন্ডেড প্লে ‘স্কুল নাইটস’। তখনো সেভাবে আলোচনায় আসেননি।
২০২২ সালে চ্যাপেলকে চেনে তরুণ প্রজন্ম। না চিনে উপায়ই–বা কী, সে বছর যে একের পর এক গান প্রকাশ করেন চ্যাপেল। তবে মূলধারার সংগীতবোদ্ধাদের নজর কাড়েন গত বছর। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পায় চ্যাপেলের প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য রাইজ অ্যান্ড দ্য ফল অব আ মিডওয়েস্ট প্রিন্সেস’। ৯ গানের এ অ্যালবাম দিয়েই একের পর এক পুরস্কারের আসরে মনোনয়ন পাচ্ছেন এই তরুণ শিল্পী।

আরও পড়ুন

অ্যালবামটি মূলত পপ রক, নিউ ওয়েভ, লোকসংগীত ও রকের মিশেলে তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত আরেক গান ‘গুড লাক, বেবি!’ চ্যাপেলকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয়। বিলবোর্ড টপ চার্ট, স্পটিফাই—সব জায়গাতেই বাড়তে থাকে রোয়ানের দাপট। রোয়ান নিজে গান লেখেন। তাঁর গানে প্রেম, সম্পর্ক থেকে যৌনতার খোলামেলা বয়ান থাকে। সংগীত সমালোচকেরা মনে করেন, এ জন্যই তরুণদের কাছে তিনি এতটা জনপ্রিয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মনে করে, চ্যাপেল যে ধরনের গান লেখেন, সেটি তাঁর কণ্ঠে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। মার্কিন গণমাধ্যমটি রোয়ানকে গায়িকা ও অভিনেত্রী লিজা মিনেলির সঙ্গে তুলনা করেছে।

গ্র্যামিতে চ্যাপেল রোন। এএফপি

চ্যাপেল রোন অবশ্য নিজে প্রেরণা মানেন ব্রিটিশ গায়িকা কেট বুশকে। এ ছাড়া এলি গোল্ডিং, লর্দে, লানা দেল রে–ও তাঁকে প্রেরণা জুগিয়েছেন। মায়ামিভিত্তিক গণমাধ্যম পপ ক্রেভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চ্যাপেল জানান, এই তিন শিল্পীর গান শুনে কেটেছে তাঁর পুরো স্কুলজীবন।

ভ্যারাইটি ও বিবিসি অবলম্বনে